২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে শ্রীলঙ্কার পর্যটন খাত প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল পারফরম্যান্স করেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পর্যটন খাত থেকে আয় হয়েছে ১৫১ কোটির বেশি মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ কম। ফলে বছরের শেষ নাগাদ সংশোধিত ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের আয়ের লক্ষ্য অর্জন এখন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
জুন মাসেও আয়ের নিম্নগতি অব্যাহত ছিল। এ মাসে পর্যটন খাত থেকে আয় হয়েছে ১৫ কোটি ১১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কম। চলতি বছরে এটিই সর্বনিম্ন মাসিক আয়। তবে বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাস ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী, যখন পর্যটন আয় দাঁড়িয়েছিল ৪১ কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার ডলারে। তুলনামূলকভাবে, জুন মাসে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ পর্যটন আয়ের রেকর্ড ছিল ২০১৮ সালে, তখন আয় হয়েছিল ২৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।
পর্যটন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাড়তি চাপ
প্রথমার্ধের এই দুর্বল ফলাফলের কারণে বছরের বাকি ছয় মাসে শ্রীলঙ্কাকে ২০০ কোটিরও বেশি মার্কিন ডলার পর্যটন আয় করতে হবে, যাতে ২০২৬ সালের সংশোধিত ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
সরকার ইতোমধ্যে তাদের পর্যটন লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে এনেছে। আগে ২০২৬ সালে ৩০ লাখ পর্যটক আগমন এবং ৪ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও, এখন তা কমিয়ে ২৫ লাখ পর্যটক এবং ৩.৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব
সরকারের এই সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত। এ সংঘাতের কারণে আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটে এবং বিদেশি পর্যটকের আগমন কমে যায়।
তবে উপ-পর্যটনমন্ত্রী অধ্যাপক রুয়ান রানাসিংহে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, বছরের বাকি সময়ে গতি ফিরে এলে ২০২৬ সাল এখনও পর্যটক আগমনের দিক থেকে রেকর্ড গড়তে পারে।

ভারতীয় পর্যটকদের ব্যয়ে নতুন প্রবণতা
এদিকে পর্যটকদের ব্যয়ের ধরনেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম প্রমোশন ব্যুরোর চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াওয়াসামের মতে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পর্যটকরা, বিশেষ করে ভারতীয়রা, এখন অনেক ঐতিহ্যবাহী দূরপাল্লার বাজারের পর্যটকদের তুলনায় বেশি দৈনিক ব্যয় করছেন।
তার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় পর্যটকদের গড় দৈনিক ব্যয় এখন প্রায় ১৫৪ মার্কিন ডলার, যেখানে শ্রীলঙ্কায় সব পর্যটকের গড় দৈনিক ব্যয় ১৪৮ ডলার।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই ভারতীয় পর্যটকদের ব্যয় ইউরোপীয় পর্যটকদের চেয়েও বেশি। বিশেষ করে বন্যপ্রাণী ও সামুদ্রিক পর্যটনে আগ্রহী ভ্রমণকারীরা প্রতিদিন ১৬০ থেকে ১৭০ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করেন।
উচ্চমূল্যের পর্যটনে জোর
পর্যটন কর্তৃপক্ষের মতে, এই পরিবর্তন শ্রীলঙ্কার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। শুধুমাত্র পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে উচ্চমূল্যের বিশেষায়িত পর্যটন পণ্যে গুরুত্ব দিলে আয় বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। বন্যপ্রাণী, সামুদ্রিক পর্যটন এবং অন্যান্য বিশেষ অভিজ্ঞতাভিত্তিক পর্যটন প্যাকেজ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশটি ভবিষ্যতে পর্যটন আয় বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















