জাপানে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় দেশটি থেকে বিদেশে পাঠানো ব্যক্তিগত রেমিট্যান্স নতুন রেকর্ড গড়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে জাপান থেকে বিদেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ০০৪ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৬.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১১.৫ শতাংশ বেশি।
জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের পেমেন্ট ব্যালান্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশটি থেকে বিদেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২১ ও ২০২২ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধিতে সাময়িক ধীরগতি দেখা গেলেও পরে আবার ঊর্ধ্বমুখী ধারা ফিরে আসে।
বিদেশে সবচেয়ে বেশি অর্থ গেল যেসব দেশে
রেমিট্যান্সের সবচেয়ে বড় গন্তব্য ছিল ভিয়েতনাম। দেশটিতে পাঠানো হয়েছে ২৮৮.৭ বিলিয়ন ইয়েন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, যেখানে গেছে ৮৯.৮ বিলিয়ন ইয়েন। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়েছে ৬৭.১ বিলিয়ন ইয়েন।
এই তিন দেশ থেকেই জাপানে বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক কাজ করেন, ফলে তাদের পরিবারের কাছে নিয়মিত অর্থ পাঠানোর প্রবণতা রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিদেশি কর্মীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে
জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ নাগাদ দেশটিতে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫ লাখ ৭০ হাজার। এক বছর আগের তুলনায় এটি ১১.৭ শতাংশ বেশি। ২০১৫ সালের অক্টোবরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় তিন গুণ।
বিদেশি কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে ভিয়েতনাম থেকে। তাদের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ, যা মোট বিদেশি কর্মীর ২৩.৬ শতাংশ। এরপর রয়েছে চীন থেকে আসা ৪ লাখ ৩০ হাজার এবং ফিলিপাইন থেকে আসা ২ লাখ ৬০ হাজার কর্মী।

পরিবারের জন্যই পাঠানো হয় অধিকাংশ অর্থ
২০২৪ সালে জাপান পেমেন্ট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালিত ১,২৭০ জন বিদেশির ওপর এক জরিপে দেখা যায়, ৯০ শতাংশেরও বেশি বিদেশি ব্যাংক বা অর্থ স্থানান্তর সেবার মাধ্যমে নিজ দেশে অর্থ পাঠান।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৯৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা মূলত পরিবারের ভরণপোষণ বা আর্থিক সহায়তার জন্য এই অর্থ পাঠান।
ইয়েনের ওপর বাড়তে পারে চাপ
জাপানের জনসংখ্যা কমতে থাকায় ভবিষ্যতে বিদেশি কর্মীর চাহিদা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে বিদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণও বৃদ্ধি পেতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ইয়েন বিক্রির প্রয়োজন হয়। তাই এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে জাপানি মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত অবমূল্যায়নের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ইতোমধ্যে ডলারের বিপরীতে ইয়েন প্রায় চার দশকের মধ্যে অন্যতম দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্বে রেমিট্যান্সের চিত্র
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ব্যক্তিগত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৬১৯.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০৩.১ বিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবও বৈশ্বিক রেমিট্যান্সের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে রয়েছে।
জাপানে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটি থেকে বিদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা আগামী বছরগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে।
জাপানে বিদেশি কর্মী বেড়ে রেমিট্যান্স রেকর্ড, এক বছরে বিদেশে পাঠানো অর্থ ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন ছাড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















