০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
বিচারকদের অবসরের বয়স বাড়ানো: প্রশাসনিক সমাধান, নাকি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরীক্ষা? ২০২৭ সালে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার, কমছে বাজেট ঘাটতিও চীনে ভক্সওয়াগেনের ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনায় নতুন শঙ্কা, কমছে বিক্রি ডানপন্থী উত্থানে এশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাইল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের নতুন উদ্যোগ, তবু বড় প্রশ্নে অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা রেকিয়াভিকে ‘যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে’: পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপের স্বপ্নে রিগ্যান-গর্বাচেভ গ্যাস সংকটে হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন লক্ষাধিক শ্রমিক কুষ্টিয়ায় বালুবাহী যান পদ্মায়, নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু ১৫ আগস্ট ঘিরে ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা, মাঠে ডিএমপির বিশেষ ইউনিট নেপালের নতুন রাজনৈতিক তারকার আলো কেন ম্লান হয়ে আসছে

বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে দেশে মৃত ৫৪, আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সাতটি জেলা এ দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হলো খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।

মৃত্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যা কক্সবাজারে

জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজারে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ছয়জন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

আহতদের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি কক্সবাজারে। সেখানে আহত হয়েছেন ২৪ জন। চট্টগ্রামে আহত ১২ জন, বান্দরবানে দুজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন আহত হয়েছেন।

বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে মোট ৫৯টি উপজেলা, ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে মোট ১,০৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৮ হাজার ৪২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারি সংস্থাগুলো তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, পূর্বাঞ্চলের বন্যাকবলিত ১১ জেলায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

সোমবার সচিবালয়ে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোর স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে, যাতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত না হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।

সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণসহ অন্যান্য জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নেওয়া মানুষের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবাও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে দেশে মৃত ৫৪ জন; সাত জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ১,০৪৯ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৩৮ হাজার ৪২২ মানুষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিচারকদের অবসরের বয়স বাড়ানো: প্রশাসনিক সমাধান, নাকি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরীক্ষা?

বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে দেশে মৃত ৫৪, আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ

০৯:২২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সাতটি জেলা এ দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হলো খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।

মৃত্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যা কক্সবাজারে

জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজারে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ছয়জন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

আহতদের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি কক্সবাজারে। সেখানে আহত হয়েছেন ২৪ জন। চট্টগ্রামে আহত ১২ জন, বান্দরবানে দুজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন আহত হয়েছেন।

বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে মোট ৫৯টি উপজেলা, ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে মোট ১,০৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৮ হাজার ৪২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারি সংস্থাগুলো তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, পূর্বাঞ্চলের বন্যাকবলিত ১১ জেলায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

সোমবার সচিবালয়ে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোর স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে, যাতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত না হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।

সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণসহ অন্যান্য জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নেওয়া মানুষের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবাও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে দেশে মৃত ৫৪ জন; সাত জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ১,০৪৯ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৩৮ হাজার ৪২২ মানুষ।