ভিয়েতনামে সবচেয়ে বড় উৎপাদন কেন্দ্র চালু করেছে সানটোরি পেপসিকো। কোমল পানীয়ের বাজারে প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে এলেও চিনি ছাড়া পানীয়, বোতলজাত পানি, স্পোর্টস ড্রিংকস এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক পানীয়ের চাহিদা বাড়বে—এই প্রত্যাশায় প্রতিষ্ঠানটি ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের নতুন বিনিয়োগ করেছে।
দক্ষিণ ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটির বাইরে অবস্থিত নতুন কারখানাটি সানটোরি পেপসিকোর এশিয়ায় সবচেয়ে বড় উৎপাদন কেন্দ্র। কোম্পানির মতে, ভিয়েতনামের ক্রমবর্ধমান আয়, বাড়তে থাকা ক্রয়ক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি বাজার সম্ভাবনার ওপর আস্থা থেকেই এই বিনিয়োগ করা হয়েছে।
কারখানার বিশাল সক্ষমতা
প্রায় ২৫টি ফুটবল মাঠের সমান জায়গাজুড়ে নির্মিত এই কারখানার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা হবে ১২৪ কোটি লিটার। এখানে পেপসি, অ্যাকুয়াফিনা ও ৭আপসহ মোট সাত ধরনের পানীয় উৎপাদন করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিয়েতনামের সাবেক প্রেসিডেন্ট ত্রুং তান সাং উপস্থিত ছিলেন। এটি দেশটির উৎপাদন খাতে এই বিনিয়োগের গুরুত্বও তুলে ধরে।
স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে নতুন ধাপ
নতুন কারখানায় এশিয়ায় সানটোরি পেপসিকোর প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় গুদাম স্থাপন করা হয়েছে। একটি উৎপাদন লাইন প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ক্যান উৎপাদন করতে সক্ষম।
সানটোরি বেভারেজ অ্যান্ড ফুড এশিয়ার প্রধান নির্বাহী জাহানজেব খান বলেন, উৎপাদনের গতি এত বেশি যে কেবল মানবশ্রমের ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। একই গতিতে উৎপাদিত পণ্য গুদামে সরাতে প্রায় ৮০টি ফর্কলিফট প্রয়োজন হতো। তাই সেখানে রোবোটিক যান ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যকর পানীয়ের দিকে ঝুঁকছে বাজার
সানটোরি পেপসিকো ভিয়েতনামের প্রধান নির্বাহী আশীষ জোশির ভাষ্য, চিনি ছাড়া পানীয়ের বিক্রি প্রচলিত কোমল পানীয়ের তুলনায় অনেক দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বোতলজাত পানি, স্পোর্টস ড্রিংকস এবং কার্যকরী বা ফাংশনাল পানীয়ের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সানটোরি বেভারেজ অ্যান্ড ফুডের প্রধান নির্বাহী জোসুকে কিমুরা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতের চাহিদা মাথায় রেখেই বিনিয়োগ করে। মানুষের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানীয়ের সামগ্রিক বাজারও দীর্ঘমেয়াদে সম্প্রসারিত হবে বলে তারা আশা করছেন।
এই প্রবণতার সঙ্গে মিল রেখে কোম্পানি তাদের রিভাইভ ইলেকট্রোলাইট পানীয়ে ভিটামিন ডি যুক্ত করেছে এবং ৭আপ লেমনসহ কয়েকটি পণ্যে চিনির পরিমাণ কমিয়েছে। পেপসিকো ইন্টারন্যাশনাল বেভারেজেসের প্রধান নির্বাহী ইউজিন উইলেমসেন জানান, কার্যকরী ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক পানীয়ের বাজার প্রচলিত কোমল পানীয়ের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে।

ভিয়েতনাম বাজারে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা
সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক ভিয়েতনামকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের অর্থনীতির মর্যাদা দিয়েছে, যা দেশটির ক্রমবর্ধমান ক্রয়ক্ষমতার প্রতিফলন।
যদিও বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোমনিটরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী বছর ভিয়েতনামে কার্বনেটেড পানীয়ের ব্যবহার এ বছরের ৭৬ কোটি লিটার থেকে কমে ৭২ কোটি ৮০ লাখ লিটারে নামতে পারে, সানটোরি পেপসিকোর কর্মকর্তাদের মতে, বাজার হারিয়ে যাচ্ছে না; বরং ভোক্তাদের পছন্দের ধরন বদলাচ্ছে।
প্লাস্টিক বর্জ্য ও স্বাস্থ্য নিয়ে চাপ
পানীয় শিল্পে প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে ভিয়েতনামের সমুদ্রসৈকত ও জলপথে প্লাস্টিক বোতল জমার কারণে। সানটোরি পেপসিকো জানিয়েছে, তারা পুনর্ব্যবহার কর্মসূচি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করছে। তবে এখনো কিছু প্যাকেজিংয়ে নতুন প্লাস্টিক ব্যবহৃত হচ্ছে এবং পুনর্ব্যবহারের হারও কম।
স্থূলতা বৃদ্ধির প্রশ্নে কোম্পানির কর্মকর্তারা বলেন, ভোক্তাদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ায় তারা ধীরে ধীরে কম চিনি ও স্বাস্থ্যকর পানীয়ের দিকে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াচ্ছেন।
ভিয়েতনামে ৩০ কোটি ডলারের নতুন কারখানার মাধ্যমে সানটোরি পেপসিকো স্বাস্থ্যকর পানীয়ের বাড়তে থাকা চাহিদাকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি বাজার সম্প্রসারণের কৌশল আরও জোরালো করেছে।
ভিয়েতনামে ৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগে এশিয়ার সবচেয়ে বড় কারখানা চালু করেছে সানটোরি পেপসিকো। লক্ষ্য চিনি ছাড়া ও স্বাস্থ্যকর পানীয়ের বাড়তে থাকা বাজার।
Sarakhon Report 


















