টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনটি নদীর চারটি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা নতুন নতুন এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।
বিপৎসীমার ওপরে চারটি পয়েন্ট
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। এছাড়া সোমেশ্বরী নদীর নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নদীর পানি বাড়ছে অধিকাংশ স্টেশনে
সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের ১২৭টি নদী পর্যবেক্ষণ স্টেশনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৮০টি স্টেশনে নদীর পানি বেড়েছে। অন্যদিকে ৪৪টি স্টেশনে পানি কমেছে, দুটি স্টেশনে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে এবং একটি স্টেশনের তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছে।
আরও কয়েকটি এলাকায় ঝুঁকি
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজান ও দেশের অভ্যন্তরীণ এলাকায় অব্যাহত অতিভারী বৃষ্টির কারণে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সুরমা নদীর কানাইঘাট, সিলেট সদর ও সুনামগঞ্জ স্টেশন, তিস্তা নদীর নীলফামারীর ডালিয়া ও রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্ট এবং মুহুরী নদীর ফেনীর হরিপুর স্টেশন।
এসব এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কিংবা উজান থেকে আরও ঢল নামলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বৃষ্টিপাতের চিত্র
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের মাওকিরওয়াত এলাকায় সর্বোচ্চ ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ২০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে জামালপুরে।
ছয় জেলায় প্লাবন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০ লাখ মানুষ
ইতোমধ্যে টানা বর্ষণ ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে দেশের অন্তত ছয়টি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যা ও বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫১ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদ-নদীর পানি ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিপৎসীমার ওপরে তিন নদীর পানি, নতুন এলাকায় বন্যার শঙ্কা। টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে চারটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে, বাড়ছে বন্যার ঝুঁকি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















