প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর প্রভাব শক্তিশালী হওয়ার আগেই অন্ধ্রপ্রদেশে এর সম্ভাব্য প্রভাবের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। মে মাসে রাজ্যজুড়ে তীব্র গরম, উষ্ণ রাত এবং দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। কয়েক দিন ধরে দিনের তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল, আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছায় ৪৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
তাপপ্রবাহের পুরোনো ভয় আবার সামনে
অন্ধ্রপ্রদেশে এর আগে এল নিনোর সময় তীব্র আবহাওয়ার কারণে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছিল। ২০১৫ সালে শক্তিশালী এল নিনোর সময় ভারতে তাপপ্রবাহে প্রায় দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশে প্রাণ হারান বিপুল সংখ্যক মানুষ। সেই অভিজ্ঞতার পর রাজ্যে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে গেলে সেটিকে খুব শক্তিশালী এল নিনো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অতীতে কয়েকবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এবারও একই ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দুর্বল বর্ষণের চাপে কৃষি খাত
সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, এবারের বর্ষা অন্ধ্রপ্রদেশের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। রাজ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। জুন মাসে বৃষ্টিপাত মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও জুলাইয়ের শুরু থেকে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
জুনের শুরু থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ জেলাতেই বৃষ্টির ঘাটতি কৃষিকাজে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দীর্ঘমেয়াদি গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় এ বছর বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বৃষ্টির ঘাটতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে কৃষকদের ওপর। এর আগে খরার কারণে বহু কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। এবারও বৃষ্টি কম হলে চাষাবাদ, ফসল উৎপাদন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাপ বাড়তে পারে।
প্রস্তুতিতে সরকারের নতুন উদ্যোগ
সারাক্ষণ রিপোর্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার প্রস্তুতি শুরু করেছে। কৃষকদের কাছে দ্রুত আবহাওয়ার তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং ক্ষতি কমানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ বৃষ্টিনির্ভর এলাকার কৃষকদের খরা সহনশীল ফসলের দিকে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। তবে সব কৃষক এই পরিবর্তন গ্রহণ করবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কারণ স্থানীয় পরিস্থিতি ও কৃষকদের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে পরামর্শের মিল থাকা জরুরি।
তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় কিছুটা সাফল্য
২০১৫ সালের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর অন্ধ্রপ্রদেশ তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৩ সালে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। তবে কৃষকদের কাছে সঠিক সময়ে আবহাওয়ার সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
আগামী সময়ে সরকারের প্রস্তুতি শুধু পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বাস্তবে কৃষক ও সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















