বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান ফুটবলের দুই শক্তিশালী দল ফ্রান্স ও স্পেন। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ম্যাচটি ‘ফাইনালের আগে ফাইনাল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ শিরোপার অন্যতম দুই দাবিদার এই দুই দলই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে।
আক্রমণের ঝড় তুলতে প্রস্তুত ফ্রান্স
ফ্রান্স এবারের বিশ্বকাপে তাদের শক্তিশালী আক্রমণভাগ দিয়ে প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে দলটির আক্রমণভাগে রয়েছে একাধিক বিশ্বমানের খেলোয়াড়।
এমবাপ্পে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে ছয় ম্যাচে আট গোল করেছেন। তার সঙ্গে আছেন মাইকেল ওলিস, উসমান দেম্বেলে, ব্র্যাডলি বারকোলা ও দেজিরে দুয়ের মতো প্রতিভাবান ফুটবলাররা। কোচ দিদিয়ের দেশমের দল আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।
বল দখলের ফুটবল নিয়ে স্পেনের আত্মবিশ্বাস

অন্যদিকে স্পেন তাদের পরিচিত বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত পাসিং ফুটবলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছে। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে দলটি ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে।
রদ্রি, পেদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজের মতো মিডফিল্ডাররা স্পেনের খেলার মূল শক্তি। তাদের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগানোর দায়িত্ব থাকবে তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের ওপর।
দুই দলের লড়াইয়ে মুখোমুখি দুই কৌশল
ফ্রান্সের শক্তি যেখানে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও ভয়ংকর আক্রমণ, সেখানে স্পেনের বড় অস্ত্র দলগত সমন্বয় ও বলের নিয়ন্ত্রণ। তাই সেমিফাইনালে একদিকে থাকবে এমবাপ্পেদের গতি, অন্যদিকে থাকবে স্পেনের নিখুঁত পাসিং ফুটবল।
স্পেনের লক্ষ্য থাকবে ফ্রান্সের আক্রমণের উৎস বন্ধ করে দেওয়া। আর ফ্রান্স চাইবে স্পেনের রক্ষণ ভেঙে নিজেদের আক্রমণভাগের ক্ষমতা কাজে লাগাতে।
সাম্প্রতিক লড়াইয়ে এগিয়ে স্পেন
ফ্রান্সের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনের আত্মবিশ্বাস বেশ উঁচু। গত বছর উয়েফা নেশনস লিগে তারা ফ্রান্সকে ৫-৪ গোলে হারিয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালেও স্পেন ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল।
তবে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ফ্রান্সের অভিজ্ঞতা ও শক্তিশালী স্কোয়াড তাদের বড় সুবিধা দিতে পারে।
ইয়ামালের কণ্ঠে ভয়হীন স্পেন
স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল জানিয়েছেন, ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলতে তাদের কোনো ভয় নেই। তার মতে, দুই দলই বিশ্বের সেরা দলের মধ্যে রয়েছে এবং মাঠে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করাই মূল লক্ষ্য।
স্পেন কোচ দে লা ফুয়েন্তেও জানিয়েছেন, ফ্রান্সকে তারা সম্মান করেন, তবে যেকোনো দলকে হারানোর ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
দেশমের শেষ বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাসের হাতছানি
ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমের জন্য এবারের বিশ্বকাপ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। টুর্নামেন্ট শেষে তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন। তার অধীনে ফ্রান্স আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
টানা তিনটি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠা দলগুলোর তালিকায় ফ্রান্স এখন জার্মানি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
এমবাপ্পে থেকে শুরু করে পুরো ফরাসি দল কোচ দেশমের প্রতি নিজেদের সমর্থন জানিয়েছে। দলের ঐক্য ও আত্মবিশ্বাসই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করছেন খেলোয়াড়রা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















