০২:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৬৩, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা চট্টগ্রাম বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে ঢাকার সড়ক অবরোধ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও চাইলেন শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলায় ইরানের ছয় শহর লক্ষ্যবস্তু, উপকূলীয় সামরিক সক্ষমতায় আঘাত বিশ্ব যখন আমেরিকার ঝুঁকি কমাতে চায় অং সান সু চি কি মারা গেছেন? তিন বছরের বেশি সময়েও রহস্য কাটেনি, বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ‘৩৮ বছরে এলাকায় বন্যার এমন পানি দেখি নাই’ শেখ হাসিনার ‘দেশে ফেরার’ বাস্তবতা কতটা? যুক্তরাষ্ট্রে হিস্পানিকদের পরিচয় নিয়ে নতুন চিত্র, ‘আমেরিকান’ ভাবনায় বিভক্ত জনগোষ্ঠী যুক্তরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল, ঘর ছাড়তে বাধ্য শত শত মানুষ ফাইনালের আগে ফাইনাল! বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ফ্রান্স-স্পেন মহারণ

জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৬৩, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা চট্টগ্রাম বিভাগে

দেশজুড়ে জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৬৩ জন নিহত এবং ১,৩২৩ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেল ও নৌপথের দুর্ঘটনা মিলিয়ে মোট ৫৯০টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫১৩ জন, আহত হয়েছেন ১,৩৩৬ জন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রকাশিত মাসিক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর পর্যালোচনা করে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে অনেক দুর্ঘটনার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত না হওয়ায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

সড়কের পাশাপাশি রেল ও নৌপথেও প্রাণহানি

জুন মাসে সারা দেশে ৫৩টি রেল দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত ও ৮ জন আহত হন। একই সময়ে ৫টি নৌপথ দুর্ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু এবং আরও ৫ জন আহত হন। সব ধরনের দুর্ঘটনা মিলিয়ে মাসজুড়ে মোট ৫১৩ জনের প্রাণহানি ঘটে।

শুধু সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৫৩২টি। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ছিল ১৭২টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৭৩ জন এবং আহত হন ১৩২ জন। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩২.৩৩ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট। একই সঙ্গে মোট মৃত্যুর ৩৭.৩৬ শতাংশ এবং আহতের ৯.৯৭ শতাংশও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।

জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জনের প্রাণহানী

চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ, ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন

বিভাগভিত্তিক হিসাবে জুন মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১২৮টি দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত এবং ৩৭৩ জন আহত হন।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে। সেখানে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

কারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে ছিলেন ২২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১১৬ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ২৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮৭ জন শিক্ষার্থী, ১০ জন শিক্ষক, ৫২ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, একজন সাংবাদিক, একজন প্রকৌশলী এবং ১০ জন রাজনৈতিক দলের কর্মী।

নিহতদের মধ্যে ছিলেন দুই পুলিশ সদস্য, একজন সেনাসদস্য, একজন প্রকৌশলী, ১১১ জন বিভিন্ন যানবাহনের চালক, ৭১ জন পথচারী, ৪৫ জন নারী, ৪৭ জন শিশু, ৬০ জন শিক্ষার্থী, ১১ জন পরিবহন শ্রমিক, ১০ জন শিক্ষক এবং ৯ জন রাজনৈতিক দলের কর্মী।

কোন যানবাহন সবচেয়ে বেশি জড়িত

স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার পথে নিহ...

চিহ্নিত ৭৯৫টি যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের অংশ ছিল ২৬.৭৯ শতাংশ। এরপর ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান ও লরি ২৫.২৮ শতাংশ, বাস ১৭.৩৫ শতাংশ, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক ১৪.৯৬ শতাংশ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৫.২৮ শতাংশ, নসিমন, করিমন, মাহিন্দ্রা, ট্রাক্টর ও লেগুনা ৪.১৫ শতাংশ এবং ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ ও মাইক্রোবাস ৬.১৬ শতাংশ।

দুর্ঘটনার ধরন ও অবস্থান

মোট দুর্ঘটনার ৪৩.২৩ শতাংশ ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ। এছাড়া ২৭.৬৩ শতাংশ দুর্ঘটনায় যানবাহনের ধাক্কা বা চাপায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। ২০.৬৭ শতাংশ দুর্ঘটনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যানবাহন খাদে পড়ে যায়। বাকি দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ছিল অন্যান্য কারণ, ওড়না চাকার সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়া এবং ট্রেনের সঙ্গে যানবাহনের সংঘর্ষ।

স্থানভিত্তিক হিসাবে ৪৪.৭৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ২৮.৩৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২০.৬৭ শতাংশ ফিডার সড়কে। এছাড়া ঢাকা শহরে ৪.১৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম শহরে ০.৯৩ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে ১.১২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার কারণ ও সুপারিশ

জুনে সড়কে ঝরেছে ৬৯৬ প্রাণ, মানবসম্পদের ক্ষতি ২৪৬৩...

প্রতিবেদনে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, সড়কে প্রয়োজনীয় চিহ্ন, লেন মার্কিং ও আলোর অভাব, ডিভাইডারের ঘাটতি, ত্রুটিপূর্ণ মহাসড়ক নির্মাণ, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, উল্টো পথে চলাচল, সড়কে চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত বোঝাই, বিরতিহীন বেপরোয়া গাড়ি চালানো, বর্ষায় সড়কে গর্ত সৃষ্টি এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ককে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে নিম্নআয়ের যাত্রীদের বাস, ট্রাক বা পণ্যবাহী যানবাহনের ছাদে ভ্রমণ করতে বাধ্য হওয়াও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির একটি কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, আধুনিক পদ্ধতিতে চালক প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স প্রদান, মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণ, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের কর্মঘণ্টা ও বেতন নিশ্চিত করা, নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষা, যানবাহনের ফিটনেস ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, পুরোনো গণপরিবহন প্রত্যাহার, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং পরিবহন খাতে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের একচেটিয়া প্রভাব কমানোর সুপারিশ করেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৬৩, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা চট্টগ্রাম বিভাগে

জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৬৩, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা চট্টগ্রাম বিভাগে

০২:১৪:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

দেশজুড়ে জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৬৩ জন নিহত এবং ১,৩২৩ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেল ও নৌপথের দুর্ঘটনা মিলিয়ে মোট ৫৯০টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫১৩ জন, আহত হয়েছেন ১,৩৩৬ জন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রকাশিত মাসিক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর পর্যালোচনা করে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে অনেক দুর্ঘটনার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত না হওয়ায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

সড়কের পাশাপাশি রেল ও নৌপথেও প্রাণহানি

জুন মাসে সারা দেশে ৫৩টি রেল দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত ও ৮ জন আহত হন। একই সময়ে ৫টি নৌপথ দুর্ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু এবং আরও ৫ জন আহত হন। সব ধরনের দুর্ঘটনা মিলিয়ে মাসজুড়ে মোট ৫১৩ জনের প্রাণহানি ঘটে।

শুধু সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৫৩২টি। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ছিল ১৭২টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হন ১৭৩ জন এবং আহত হন ১৩২ জন। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩২.৩৩ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট। একই সঙ্গে মোট মৃত্যুর ৩৭.৩৬ শতাংশ এবং আহতের ৯.৯৭ শতাংশও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।

জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জনের প্রাণহানী

চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ, ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন

বিভাগভিত্তিক হিসাবে জুন মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১২৮টি দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত এবং ৩৭৩ জন আহত হন।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে। সেখানে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

কারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে ছিলেন ২২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১১৬ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ২৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮৭ জন শিক্ষার্থী, ১০ জন শিক্ষক, ৫২ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, একজন সাংবাদিক, একজন প্রকৌশলী এবং ১০ জন রাজনৈতিক দলের কর্মী।

নিহতদের মধ্যে ছিলেন দুই পুলিশ সদস্য, একজন সেনাসদস্য, একজন প্রকৌশলী, ১১১ জন বিভিন্ন যানবাহনের চালক, ৭১ জন পথচারী, ৪৫ জন নারী, ৪৭ জন শিশু, ৬০ জন শিক্ষার্থী, ১১ জন পরিবহন শ্রমিক, ১০ জন শিক্ষক এবং ৯ জন রাজনৈতিক দলের কর্মী।

কোন যানবাহন সবচেয়ে বেশি জড়িত

স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার পথে নিহ...

চিহ্নিত ৭৯৫টি যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের অংশ ছিল ২৬.৭৯ শতাংশ। এরপর ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান ও লরি ২৫.২৮ শতাংশ, বাস ১৭.৩৫ শতাংশ, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক ১৪.৯৬ শতাংশ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৫.২৮ শতাংশ, নসিমন, করিমন, মাহিন্দ্রা, ট্রাক্টর ও লেগুনা ৪.১৫ শতাংশ এবং ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ ও মাইক্রোবাস ৬.১৬ শতাংশ।

দুর্ঘটনার ধরন ও অবস্থান

মোট দুর্ঘটনার ৪৩.২৩ শতাংশ ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ। এছাড়া ২৭.৬৩ শতাংশ দুর্ঘটনায় যানবাহনের ধাক্কা বা চাপায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। ২০.৬৭ শতাংশ দুর্ঘটনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যানবাহন খাদে পড়ে যায়। বাকি দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ছিল অন্যান্য কারণ, ওড়না চাকার সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়া এবং ট্রেনের সঙ্গে যানবাহনের সংঘর্ষ।

স্থানভিত্তিক হিসাবে ৪৪.৭৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ২৮.৩৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২০.৬৭ শতাংশ ফিডার সড়কে। এছাড়া ঢাকা শহরে ৪.১৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম শহরে ০.৯৩ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে ১.১২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার কারণ ও সুপারিশ

জুনে সড়কে ঝরেছে ৬৯৬ প্রাণ, মানবসম্পদের ক্ষতি ২৪৬৩...

প্রতিবেদনে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, সড়কে প্রয়োজনীয় চিহ্ন, লেন মার্কিং ও আলোর অভাব, ডিভাইডারের ঘাটতি, ত্রুটিপূর্ণ মহাসড়ক নির্মাণ, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, উল্টো পথে চলাচল, সড়কে চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত বোঝাই, বিরতিহীন বেপরোয়া গাড়ি চালানো, বর্ষায় সড়কে গর্ত সৃষ্টি এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ককে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে নিম্নআয়ের যাত্রীদের বাস, ট্রাক বা পণ্যবাহী যানবাহনের ছাদে ভ্রমণ করতে বাধ্য হওয়াও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির একটি কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, আধুনিক পদ্ধতিতে চালক প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স প্রদান, মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণ, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের কর্মঘণ্টা ও বেতন নিশ্চিত করা, নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষা, যানবাহনের ফিটনেস ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, পুরোনো গণপরিবহন প্রত্যাহার, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং পরিবহন খাতে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের একচেটিয়া প্রভাব কমানোর সুপারিশ করেছে।