বন্যা, ভারী বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করেছেন একাংশের পরীক্ষার্থী। একই সঙ্গে তারা শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলনের পদত্যাগ, প্রতিকূল পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত এবং প্রশ্নপত্রে কথিত ভুলের ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় এবং প্রায় একই সময়ে উত্তরায় আন্দোলন শুরু হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও কর্মজীবী মানুষ।
আন্দোলনের আগে ‘শিক্ষার্থী ঐক্য’ নামে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি, শাহবাগ, উত্তরা ও মিরপুরসহ কয়েকটি স্থানে অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ
সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে অবস্থান নেওয়ায় শাহবাগ, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরমুখী সড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে উত্তরার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা বিএনএস ভবনের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিলে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
ঢাকা বিমানবন্দর ট্রাফিক বিভাগের (উত্তরা বিভাগ) সহকারী কমিশনার এইচ এম হাসিবুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীরা বিএনএস ভবনের সামনে সড়ক অবরোধ করায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছিল না। তাদের সঙ্গে কথা বলে সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তারা তখন পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
যাত্রীদের চরম ভোগান্তি
হঠাৎ সড়ক অবরোধের কারণে উত্তরা এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ধরতে বিমানবন্দরের পথে থাকা যাত্রীরা বড় ধরনের সমস্যায় পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি
সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের তিনটি প্রধান দাবি হলো—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, প্রতিকূল আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত এবং প্রশ্নপত্রে অভিযোগ করা ভুলের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা।
তাদের ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, ঝড় ও ভারী বৃষ্টির মধ্য দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে বাধ্য হচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা। এতে তাদের নিরাপত্তা ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ দুটিই ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
বন্যা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, চট্টগ্রাম বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি কুমিল্লা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকাও বন্যার প্রভাবে আক্রান্ত হতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতেও পরীক্ষা স্থগিত না করায় তারা প্রশ্ন তোলেন এবং দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ চলাকালে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।




















