যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর পরিচয় ও আত্মপরিচয়ের ধারণা নিয়ে নতুন এক চিত্র উঠে এসেছে। দেশটির হিস্পানিক প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে কে নিজেকে ‘প্রচলিত আমেরিকান’ মনে করেন, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এই জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ নিজেদের পরিচয়ে বংশ, সংস্কৃতি ও আমেরিকান পরিচয়ের সমন্বয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
পরিচয়ের প্রশ্নে ভিন্নমত
গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হিস্পানিক প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক মনে করেন তারা একজন সাধারণ আমেরিকানের পরিচয়ের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে পারেন। অন্যদিকে অনেকে নিজেদের পরিচয়কে মূলত পারিবারিক শিকড়, পূর্বপুরুষের দেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর ৫৩ শতাংশ মানুষ নিজেদের পরিচয় দিতে বংশগত পরিচয়কে এককভাবে অথবা আমেরিকান পরিচয়ের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করেন।

প্রজন্ম বদলের সঙ্গে বদলাচ্ছে পরিচয়ের ধারণা
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এবং বহু প্রজন্ম ধরে সেখানে বসবাসকারী হিস্পানিকদের মধ্যে আমেরিকান পরিচয়ের গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। তৃতীয় প্রজন্ম বা তার পরের প্রজন্মের হিস্পানিকদের একটি বড় অংশ শুধু আমেরিকান পরিচয় ব্যবহার করেন।
দ্বিতীয় প্রজন্মের তুলনায় পরবর্তী প্রজন্মের মানুষের মধ্যে স্থানীয় সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কের অনুভূতি আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হিস্পানিক নাকি লাতিনো, কোন পরিচয় বেশি ব্যবহৃত
নিজেদের জনগোষ্ঠীকে বোঝাতে হিস্পানিক ও লাতিনো—দুই ধরনের শব্দই ব্যবহৃত হয়। অধিকাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই পরিচয়গুলোর একটি ব্যবহার করেছেন।
তবে পছন্দের ক্ষেত্রে হিস্পানিক শব্দটি বেশি জনপ্রিয়। অনেকেই লাতিনো পরিচয় ব্যবহার করলেও নারী-পুরুষ নিরপেক্ষ নতুন ধরনের পরিচয় শব্দ খুব কম মানুষ গ্রহণ করেছেন।
সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে আমেরিকান জীবনের সমন্বয়
যুক্তরাষ্ট্রের হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর পরিচয় এখন আর শুধু একটি শব্দে সীমাবদ্ধ নেই। পারিবারিক ঐতিহ্য, ভাষা, সংস্কৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক জীবনের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে তারা নিজেদের পরিচয় তৈরি করছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্টের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রজন্মের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিচয়ের এই ভাবনাও পরিবর্তিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক কাঠামোতে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















