আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহরে নারীদের পোশাকবিধি নিয়ে নতুন করে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। এতে অনেক নারী ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, পোশাকবিধি ভঙ্গের অভিযোগে কয়েকজন নারীকে আটক করার পর শহরের নারী সমাজের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পোশাকবিধি নিয়ে কঠোর অবস্থানে তালেবান
তালেবান সরকারের নীতি বাস্তবায়নকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নারীদের পোশাকসংক্রান্ত নিয়ম মানানো হচ্ছে ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষার অংশ হিসেবে। তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে এবং অনেক নারী নিজেদের চলাফেরায় বড় ধরনের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন।
হেরাতে জুন মাসের শুরুতে কয়েক ডজন নারীকে পোশাকবিধি না মানার অভিযোগে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে শরীর ঢেকে রাখার নির্ধারিত পোশাক না পরার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
ভয়ে কমে গেছে নারীদের স্বাভাবিক চলাফেরা
সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, কড়াকড়ির পর অনেক নারী প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। ভাষা শিক্ষা বা ব্যক্তিগত কাজের জন্য নিয়মিত বাইরে যাওয়া অনেকেই এখন তা বন্ধ করে দিয়েছেন।
এক নারী জানান, আগে তিনি নিয়মিত ক্লাসে যেতেন। কিন্তু নতুন পরিস্থিতির কারণে এখন তিনি ভয় নিয়ে ঘরে থাকছেন এবং নিজের অনেক স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন।
ব্যবসা ও সামাজিক জীবনেও প্রভাব
নারীদের বাইরে যাতায়াত কমে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দোকানদার, পরিবহনকর্মী ও বাসিন্দাদের মতে, নারী ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের ওপর ধারাবাহিক বিধিনিষেধ দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বড় বাধা তৈরি করছে। ২০২১ সালে তালেবান আবার ক্ষমতায় ফেরার পর নারীদের শিক্ষা, কাজ ও জনজীবনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একাধিক সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
তালেবান কর্তৃপক্ষ এসব পদক্ষেপকে ধর্মীয় নিয়ম রক্ষার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও অনেক নারী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হেরাতের নারীরা বলছেন, ভয় ও অনিশ্চয়তার কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, আফগান নারীদের চলাফেরা ও অধিকার নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নতুন এই কড়াকড়ি দেশটির সামাজিক পরিস্থিতিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















