১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জলবায়ু ন্যায়ের সংকটে নেপাল: এলডিসি উত্তরণ ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার নতুন পথ জলবায়ু অর্থায়নের বড় অঙ্কে গ্রামীণ নারীর হিসাব কোথায়? নেপালের আবহাওয়া বিপর্যয়: ‘স্বাভাবিক’ বৃষ্টির হিসাব কেন ভয়ংকর বিভ্রান্তি তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা, এআই সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞা—আলোচনায় সাত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পুরোনো দিনের রেশ মুছে আবারও ফ্যাশনের কেন্দ্রে রেশমি স্কার্ফ গ্রীষ্মজুড়ে নজর কেড়েছে রঙিন গ্রাফিক টি-শার্ট, বদলে গেছে ফ্যাশনের ধারা টোকিওর বসন্ত ২০২৭: ইয়োশিওকুবোর পোশাকে নতুন জাপানি নান্দনিকতার ছোঁয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত সফর নিয়ে কী ঘটেছিল, প্রকাশ করলে অবাক হবেন: তামিম আওয়ামী লীগকে সংসদ নির্বাচন থেকে ‘মাইনাস’ করার অভিযোগ আইপিইউতে ‘স্বাস্থ্যকর’ ভাবা জাইলিটলেই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি? গবেষণায় মিলল উদ্বেগজনক তথ্য

চীনের নতুন জাতিগত ঐক্য আইন: ম্যান্ডারিন ও একীভূত পরিচয়ের নীতিতে বাড়ছে বিতর্ক

চীনে নতুন জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি আইন কার্যকর হওয়ার পর দেশটির ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় নীতিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনটির মাধ্যমে চীনা জাতির একটি অভিন্ন পরিচয় গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। সারাক্ষণ রিপোর্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তবে এই আইন নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

নতুন আইনে কী রয়েছে

চীনের নতুন আইনে দেশটির বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ম্যান্ডারিন ভাষার ব্যবহার, জাতীয় পরিচয়ভিত্তিক শিক্ষা এবং ধর্মীয় কার্যক্রমকে দেশের আইন ও নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, শিশুদের ছোট বয়স থেকেই ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানো হবে এবং বাধ্যতামূলক শিক্ষার পুরো সময়জুড়ে এই ভাষার ব্যবহার বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে চীনা সমাজের অভিন্ন পরিচয়ের ধারণাকে এগিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

China adopts an ethnic unity law that critics say will cement assimilation  | Courthouse News Service

সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নিয়ে উদ্বেগ

চীনে মোট ৫৬টি জাতিগোষ্ঠী স্বীকৃত। এর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ হান জনগোষ্ঠী দেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশজুড়ে রয়েছে। বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে উইঘুর, তিব্বতি ও মঙ্গোল জনগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য।

সমালোচকদের মতে, নতুন আইনটি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য কমিয়ে একটি নির্দিষ্ট জাতীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠার দিকে যেতে পারে। তাদের আশঙ্কা, ভাষা ও ধর্মীয় চর্চার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা সীমিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

দীর্ঘদিনের নীতির ধারাবাহিকতা

সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, চীনে জাতীয় ঐক্য ও অভিন্ন পরিচয়ের ওপর জোর দেওয়ার নীতি গত এক দশকে আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে ভাষা শিক্ষা, ধর্মীয় কার্যক্রম এবং সাংস্কৃতিক ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে।

China's new ethnic unity law codifies its assimilationist shift | East Asia  Forum

নতুন আইন সেই নীতিকে পুরো দেশের জন্য একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসেছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় ও উন্নয়ন আরও বাড়বে।

ধর্ম ও সংস্কৃতির ওপর প্রভাব নিয়ে আলোচনা

আইনের কিছু ধারা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার বিষয়ে। সমালোচকদের দাবি, জাতীয় ঐক্যের নামে যদি সাংস্কৃতিক পার্থক্যকে সীমিত করা হয়, তাহলে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নিজস্ব পরিচয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে চীনা কর্তৃপক্ষ বলছে, আইনটির উদ্দেশ্য হলো দেশের স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য নিশ্চিত করা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই আইন চীনের জাতীয় পরিচয় গঠনের প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করেছে, তবে এর বাস্তব প্রয়োগ ভবিষ্যতে দেশটির জাতিগত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে কী প্রভাব ফেলে সেটিই এখন বড় বিষয়।

 

 

জলবায়ু ন্যায়ের সংকটে নেপাল: এলডিসি উত্তরণ ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার নতুন পথ

চীনের নতুন জাতিগত ঐক্য আইন: ম্যান্ডারিন ও একীভূত পরিচয়ের নীতিতে বাড়ছে বিতর্ক

১১:৩৪:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

চীনে নতুন জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি আইন কার্যকর হওয়ার পর দেশটির ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় নীতিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনটির মাধ্যমে চীনা জাতির একটি অভিন্ন পরিচয় গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। সারাক্ষণ রিপোর্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তবে এই আইন নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

নতুন আইনে কী রয়েছে

চীনের নতুন আইনে দেশটির বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ম্যান্ডারিন ভাষার ব্যবহার, জাতীয় পরিচয়ভিত্তিক শিক্ষা এবং ধর্মীয় কার্যক্রমকে দেশের আইন ও নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, শিশুদের ছোট বয়স থেকেই ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানো হবে এবং বাধ্যতামূলক শিক্ষার পুরো সময়জুড়ে এই ভাষার ব্যবহার বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে চীনা সমাজের অভিন্ন পরিচয়ের ধারণাকে এগিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

China adopts an ethnic unity law that critics say will cement assimilation  | Courthouse News Service

সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নিয়ে উদ্বেগ

চীনে মোট ৫৬টি জাতিগোষ্ঠী স্বীকৃত। এর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ হান জনগোষ্ঠী দেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশজুড়ে রয়েছে। বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে উইঘুর, তিব্বতি ও মঙ্গোল জনগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য।

সমালোচকদের মতে, নতুন আইনটি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য কমিয়ে একটি নির্দিষ্ট জাতীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠার দিকে যেতে পারে। তাদের আশঙ্কা, ভাষা ও ধর্মীয় চর্চার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা সীমিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

দীর্ঘদিনের নীতির ধারাবাহিকতা

সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, চীনে জাতীয় ঐক্য ও অভিন্ন পরিচয়ের ওপর জোর দেওয়ার নীতি গত এক দশকে আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে ভাষা শিক্ষা, ধর্মীয় কার্যক্রম এবং সাংস্কৃতিক ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে।

China's new ethnic unity law codifies its assimilationist shift | East Asia  Forum

নতুন আইন সেই নীতিকে পুরো দেশের জন্য একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসেছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় ও উন্নয়ন আরও বাড়বে।

ধর্ম ও সংস্কৃতির ওপর প্রভাব নিয়ে আলোচনা

আইনের কিছু ধারা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার বিষয়ে। সমালোচকদের দাবি, জাতীয় ঐক্যের নামে যদি সাংস্কৃতিক পার্থক্যকে সীমিত করা হয়, তাহলে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর নিজস্ব পরিচয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে চীনা কর্তৃপক্ষ বলছে, আইনটির উদ্দেশ্য হলো দেশের স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য নিশ্চিত করা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই আইন চীনের জাতীয় পরিচয় গঠনের প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করেছে, তবে এর বাস্তব প্রয়োগ ভবিষ্যতে দেশটির জাতিগত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে কী প্রভাব ফেলে সেটিই এখন বড় বিষয়।