দখলকৃত পশ্চিম তীরের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ফিলিস্তিনিদের ঘোড়া পালনের ঐতিহ্য আজও জীবন্ত রয়েছে। জমির সংকট, পরিবর্তিত পরিবেশ ও নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও আরবীয় ঘোড়াকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও আবেগ কমেনি।
পশ্চিম তীরের রাওয়াবি শহরে আয়োজিত ঘোড়ার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় শত শত মানুষ জড়ো হন। সেখানে চকচকে আরবীয় ঘোড়াগুলোকে নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ঘোড়ার মালিক ও প্রশিক্ষকেরা। এই আয়োজন শুধু বিনোদনের নয়, বরং একটি দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রকাশ।
ঘোড়াকে ঘিরে বেঁচে আছে সংস্কৃতি
ফিলিস্তিনিদের কাছে ঘোড়া শুধুই একটি প্রাণী নয়, এটি তাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মাটির সঙ্গে সম্পর্কের প্রতীক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কবিতা, গান ও গল্পে ঘোড়া ও ঘোড়সওয়ারদের বিশেষ স্থান রয়েছে।

ঘোড়া প্রজননকারী আবদেলনাসের মুসলেহ জানান, আরবীয় ঘোড়ার প্রতি ফিলিস্তিনিদের গভীর ভালোবাসা রয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও এই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন অনেক মানুষ।
শহরের মাঝেও গড়ে উঠছে ঘোড়ার খামার
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাতেও ফিলিস্তিনি প্রজননকারীরা ঘোড়া পালনের নতুন পথ তৈরি করছেন। জেরুজালেমের উত্তরে কুফর আকাব শহরের মতো ব্যস্ত এলাকাতেও গড়ে উঠেছে ঘোড়ার খামার।
জায়গার অভাব থাকলেও ঘোড়া পালনের আগ্রহ কমেনি। অনেকের কাছে এটি শখের চেয়েও বেশি কিছু। এটি তাদের পরিচয় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত একটি আবেগ।

বাড়ছে আরবীয় ঘোড়ার সংখ্যা
ফিলিস্তিনি অঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় নিবন্ধিত বিশুদ্ধ জাতের আরবীয় ঘোড়ার সংখ্যা গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে হাজার হাজার ঘোড়া এই ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
প্রজননকারীদের মতে, ঘোড়া পালন শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও এই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছেন তারা।
ঘোড়ার প্রতি এই ভালোবাসা ফিলিস্তিনিদের জন্য ঐক্য, গর্ব ও নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















