ভুটানে কমে যাওয়া জন্মহার ও তরুণদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবারকে বেশি সন্তান নিতে উৎসাহ দিতে নগদ সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি চালু করেছে দেশটির সরকার। সারাক্ষণ রিপোর্ট
জনসংখ্যা কমে যাওয়ার বড় চ্যালেঞ্জ
হিমালয়ের ছোট দেশ ভুটানে গত এক দশকে বার্ষিক জন্মের সংখ্যা এক-চতুর্থাংশের বেশি কমেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উন্নত সুযোগের খোঁজে তরুণদের বিদেশে চলে যাওয়ার প্রবণতা। ফলে দেশটির জনসংখ্যার ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে সরকারকে।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে জনসংখ্যা হ্রাসকে দেশের অস্তিত্বের জন্য বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশটির সন্তান জন্মদানের হার এমন পর্যায়ে নেমেছে, যা ভবিষ্যতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট নয়।
তৃতীয় সন্তানের জন্য বিশেষ সহায়তা
জুন মাসে ভুটান সরকার ‘তৃতীয় সন্তান প্লাস’ কর্মসূচি চালু করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় তৃতীয় বা তার পরের সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ১০৫ ডলার সমপরিমাণ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। সন্তান তিন বছর বয়সে পৌঁছানো পর্যন্ত এই সহায়তা চলবে।
সরকারের লক্ষ্য হলো পরিবারগুলোকে আরও বেশি সন্তান নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া এবং ভবিষ্যতে জনসংখ্যার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
শুধু অর্থ সহায়তাই কি যথেষ্ট
ভুটানের এক সরকারি কর্মী খান্দু ওয়াংমো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তার মতে, শুধু অর্থ সহায়তা দিলেই সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। সন্তান লালন-পালনের খরচ, বাসস্থানের ব্যয় এবং পরিচর্যার সুযোগও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা
ভারত ও চীনের মাঝখানে অবস্থিত আট লাখের কম জনসংখ্যার দেশ ভুটানে তৃতীয় বা তার পরের সন্তানের জন্মের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২০ সালের তুলনায় এই ধরনের জন্ম প্রায় ২৭ শতাংশ কমেছে।
বর্তমানে ভুটানে একজন নারীর গড় সন্তান সংখ্যা প্রায় ১ দশমিক ৮। আগামী কয়েক দশকে দেশটির বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে সরকার মনে করছে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ভুটানের এই উদ্যোগ দেখাচ্ছে, ছোট দেশগুলোতেও জনসংখ্যার পরিবর্তন ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















