মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যদি তাকে হত্যার চেষ্টা করে বা সফলভাবে হত্যা করে, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে ভয়াবহ মাত্রার সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ তিনি দিয়ে রেখেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ব্যবস্থায় এমন কোনো স্বয়ংক্রিয় প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেই, যা প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর পর নিজে থেকেই কার্যকর হবে।
ট্রাম্পের দাবি ও পাল্টা বাস্তবতা
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ইরান তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক আকারের হামলা চালানো হবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী, কোনো প্রেসিডেন্ট নিহত হলে সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তরসূরির কাছে চলে যায়। দেশটির সংবিধান ও আইন অনুযায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব গ্রহণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে প্রশ্ন
সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো গোপন ব্যবস্থা নেই, যেখানে প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর পর আগেই দেওয়া কোনো নির্দেশ নিজে থেকে কার্যকর হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের দেওয়া নির্দেশের বৈধতা ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
সরকারি ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা রয়েছে। বড় ধরনের হামলা বা সংকটের সময় রাষ্ট্র পরিচালনা কীভাবে চলবে, তার প্রস্তুতি থাকলেও প্রেসিডেন্ট নিহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর কোনো স্বয়ংক্রিয় নিয়ম নেই।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়ছে
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জানিয়েছেন, তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রতিশোধ নেওয়া ইরানি জনগণের ইচ্ছা এবং তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।

এর আগে ইরানের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ওপর হামলার হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
ট্রাম্প এর আগেও রাজনৈতিক প্রচারণার সময় হামলার মুখে পড়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তার ব্যবহৃত উড়োজাহাজ ও নিরাপত্তা প্রযুক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও ক্ষমতা হস্তান্তরের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। কোনো প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব উত্তরসূরির ওপরই বর্তাবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নজর রয়েছে।




















