০১:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে হিস্পানিকদের পরিচয় নিয়ে নতুন চিত্র, ‘আমেরিকান’ ভাবনায় বিভক্ত জনগোষ্ঠী যুক্তরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল, ঘর ছাড়তে বাধ্য শত শত মানুষ ফাইনালের আগে ফাইনাল! বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ফ্রান্স-স্পেন মহারণ হংকংয়ে নারীকে গোপনে ভিডিও ধারণ, পুলিশ কর্মকর্তার প্রায় দুই বছরের কারাদণ্ড বিশ্বকাপ ২০২৬ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের সামনে আর্জেন্টিনা, মেসিকে থামানোই বড় চ্যালেঞ্জ আফগান শহরে পোশাক বিধির কড়াকড়িতে আতঙ্কে নারীরা, ঘরবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন অনেকেই বিয়ন্সের ঝলমলে ক্যাপ্রি স্যুটে নতুন ফ্যাশন চমক, জে-জেডের বিশেষ মঞ্চে মাতালেন দর্শক  ডাকোটা জনসন ও আলেকজান্ডার স্কারসগার্ডের নতুন জুটি নিয়ে ভ্যালেন্টিনোর চমক শীত ২০২৬-এর ফ্যাশনে নতুন ধারা, নজর কাড়ছে সাহসী নকশা ও অভিব্যক্তির মিশেল সিসিলির রাজকীয় বিয়েতে লুনা বনাচর্সি বেকারিয়া ও লিওনার্দো বোরমিওলির ভালোবাসার গল্প

টি-টোয়েন্টিতে ভারতের সিংহাসন হারানো, ঘুরে দাঁড়ানোর আগে দরকার নতুন পরিকল্পনা

আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে টানা ব্যর্থতার পর ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। একসময় যে দল এই ফরম্যাটে বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তার করেছিল, সেই ভারতই এখন আত্মবিশ্বাসের সংকটে।

১৬০৫ দিনের রাজত্বের অবসান

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের দীর্ঘ রাজত্বের শেষটা হয়েছে হতাশাজনকভাবে। ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত ১৬০৫ দিন ধরে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ভারত দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল এবং নিজেদের ভয়ডরহীন ক্রিকেটের জন্য পরিচিত ছিল।

তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে সেই চেনা আগ্রাসন দেখা যায়নি। বরং ভারতকে বেশ অসহায় মনে হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হারের পর ইংল্যান্ড আরও কঠিনভাবে আঘাত করে। একসময় বিশ্বের সেরা দল হিসেবে পরিচিত ভারত সাত ম্যাচে ছয়টি হারের মুখ দেখে।

আত্মবিশ্বাস হারিয়েছে ভারত

Shreyas Iyer Minces No Words, Throws Batters Under The Bus After Series  Loss To England | Cricket News

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর ভারতের খেলায় এক ধরনের দ্বিধা দেখা যায়। পরিস্থিতি বুঝে খেলার বদলে দল আগের পরিকল্পনাই ধরে রাখার চেষ্টা করেছে, যার ফল এসেছে বিপর্যয় হিসেবে।

ইংল্যান্ড নিজেদের শক্তি ও কৌশল কাজে লাগিয়ে ধারাবাহিকভাবে ভারতকে চাপে ফেলেছে। অন্যদিকে ভারত ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই ভুল করেছে।

নেতৃত্ব ও দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

নতুন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের জন্য শুরুটা কঠিন হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরে নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়া সহজ ছিল না। যদিও ব্যাট হাতে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এবং ইংল্যান্ড সিরিজে দলের অন্যতম সফল ব্যাটার ছিলেন।

তবে দল নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট ভূমিকা ঠিকভাবে তৈরি না করা এবং বারবার ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তন দলের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলেছে।

বিশেষ করে তিলক ভার্মা ও ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব দেখা গেছে। টি-টোয়েন্টিতে একজন খেলোয়াড়ের নির্দিষ্ট ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভারতের ক্ষেত্রে সেটি সবসময় পরিষ্কার ছিল না।

Ishan Kishan arrives to bat as Sanju Samson walks off the field after his dismissal. (PTI)

ব্যাটিং ব্যর্থতাই বড় সমস্যা

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল ব্যাটিং। পাওয়ার প্লেতেই বারবার উইকেট হারিয়ে দল চাপের মধ্যে পড়ে যায়। এরপর মাঝের সারির ব্যাটারদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চলে আসে।

শ্রেয়াস আইয়ার ২১৮ রান করে দলের হয়ে সবচেয়ে কার্যকর ব্যাটার ছিলেন। ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক ২২৯ রান করে সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। অভিষেক শর্মা কিছু ম্যাচে ভালো খেললেও ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি।

অন্যদিকে সঞ্জু স্যামসন, ইশান কিষান ও তিলক ভার্মাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স পাওয়া যায়নি।

বোলিং ও ফিল্ডিংয়েও হতাশা

Abdication of the throne — the need to hit refresh and rejig - The Hindu

ভারতের বোলিং পরিকল্পনাও অনেক সময় কার্যকর হয়নি। অতিরিক্ত নো বল, ফ্রি হিট দেওয়া এবং ক্যাচ মিস করার মতো ভুলগুলো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বড় পার্থক্য তৈরি করেছে।

ইংল্যান্ডের পেসাররা শর্ট বল ও গতি ব্যবহার করে ভারতীয় ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলেছেন। বিশেষ করে নতুন বলে আক্রমণ এবং শেষ দিকে নিয়ন্ত্রিত বোলিং ভারতের ব্যাটিং দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এখনই

এই ব্যর্থতার পরও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। পরবর্তী বিশ্বকাপের আগে ভারতের হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে। তবে এই হার থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

দলের প্রয়োজন খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া, সঠিক সমন্বয় তৈরি করা এবং বিদেশের কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলা।

ইংল্যান্ডের কাছে বড় হার ভারতের জন্য সতর্কবার্তা হলেও এটি ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। দ্রুত ভুলগুলো শুধরে নিতে পারলে আবারও শক্তিশালীভাবে ফিরে আসতে পারে ভারত।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে হিস্পানিকদের পরিচয় নিয়ে নতুন চিত্র, ‘আমেরিকান’ ভাবনায় বিভক্ত জনগোষ্ঠী

টি-টোয়েন্টিতে ভারতের সিংহাসন হারানো, ঘুরে দাঁড়ানোর আগে দরকার নতুন পরিকল্পনা

১১:৫৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে টানা ব্যর্থতার পর ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। একসময় যে দল এই ফরম্যাটে বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তার করেছিল, সেই ভারতই এখন আত্মবিশ্বাসের সংকটে।

১৬০৫ দিনের রাজত্বের অবসান

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের দীর্ঘ রাজত্বের শেষটা হয়েছে হতাশাজনকভাবে। ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত ১৬০৫ দিন ধরে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ভারত দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল এবং নিজেদের ভয়ডরহীন ক্রিকেটের জন্য পরিচিত ছিল।

তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে সেই চেনা আগ্রাসন দেখা যায়নি। বরং ভারতকে বেশ অসহায় মনে হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হারের পর ইংল্যান্ড আরও কঠিনভাবে আঘাত করে। একসময় বিশ্বের সেরা দল হিসেবে পরিচিত ভারত সাত ম্যাচে ছয়টি হারের মুখ দেখে।

আত্মবিশ্বাস হারিয়েছে ভারত

Shreyas Iyer Minces No Words, Throws Batters Under The Bus After Series  Loss To England | Cricket News

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর ভারতের খেলায় এক ধরনের দ্বিধা দেখা যায়। পরিস্থিতি বুঝে খেলার বদলে দল আগের পরিকল্পনাই ধরে রাখার চেষ্টা করেছে, যার ফল এসেছে বিপর্যয় হিসেবে।

ইংল্যান্ড নিজেদের শক্তি ও কৌশল কাজে লাগিয়ে ধারাবাহিকভাবে ভারতকে চাপে ফেলেছে। অন্যদিকে ভারত ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই ভুল করেছে।

নেতৃত্ব ও দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

নতুন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের জন্য শুরুটা কঠিন হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরে নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়া সহজ ছিল না। যদিও ব্যাট হাতে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এবং ইংল্যান্ড সিরিজে দলের অন্যতম সফল ব্যাটার ছিলেন।

তবে দল নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট ভূমিকা ঠিকভাবে তৈরি না করা এবং বারবার ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তন দলের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলেছে।

বিশেষ করে তিলক ভার্মা ও ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব দেখা গেছে। টি-টোয়েন্টিতে একজন খেলোয়াড়ের নির্দিষ্ট ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভারতের ক্ষেত্রে সেটি সবসময় পরিষ্কার ছিল না।

Ishan Kishan arrives to bat as Sanju Samson walks off the field after his dismissal. (PTI)

ব্যাটিং ব্যর্থতাই বড় সমস্যা

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল ব্যাটিং। পাওয়ার প্লেতেই বারবার উইকেট হারিয়ে দল চাপের মধ্যে পড়ে যায়। এরপর মাঝের সারির ব্যাটারদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চলে আসে।

শ্রেয়াস আইয়ার ২১৮ রান করে দলের হয়ে সবচেয়ে কার্যকর ব্যাটার ছিলেন। ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক ২২৯ রান করে সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। অভিষেক শর্মা কিছু ম্যাচে ভালো খেললেও ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি।

অন্যদিকে সঞ্জু স্যামসন, ইশান কিষান ও তিলক ভার্মাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স পাওয়া যায়নি।

বোলিং ও ফিল্ডিংয়েও হতাশা

Abdication of the throne — the need to hit refresh and rejig - The Hindu

ভারতের বোলিং পরিকল্পনাও অনেক সময় কার্যকর হয়নি। অতিরিক্ত নো বল, ফ্রি হিট দেওয়া এবং ক্যাচ মিস করার মতো ভুলগুলো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বড় পার্থক্য তৈরি করেছে।

ইংল্যান্ডের পেসাররা শর্ট বল ও গতি ব্যবহার করে ভারতীয় ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলেছেন। বিশেষ করে নতুন বলে আক্রমণ এবং শেষ দিকে নিয়ন্ত্রিত বোলিং ভারতের ব্যাটিং দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এখনই

এই ব্যর্থতার পরও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। পরবর্তী বিশ্বকাপের আগে ভারতের হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে। তবে এই হার থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

দলের প্রয়োজন খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া, সঠিক সমন্বয় তৈরি করা এবং বিদেশের কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলা।

ইংল্যান্ডের কাছে বড় হার ভারতের জন্য সতর্কবার্তা হলেও এটি ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। দ্রুত ভুলগুলো শুধরে নিতে পারলে আবারও শক্তিশালীভাবে ফিরে আসতে পারে ভারত।