এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ‘লংমার্চ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সম্ভাব্য কর্মসূচির কথা বিবেচনায় নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নিরাপত্তা সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে সায়েন্স ল্যাব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সিটি কলেজ কেন্দ্রসহ আশপাশের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে বের হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যাচ্ছেন। দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত এলাকায় বড় ধরনের কোনো জমায়েত, মিছিল বা বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেনি।
নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ

শিক্ষার্থীদের ঘোষিত কর্মসূচিকে সামনে রেখে নিউমার্কেট থানাসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়। নিউমার্কেট থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাহাবুবুর রহমান জানিয়েছেন, সম্ভাব্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
অভিভাবকদের উপস্থিতিও ছিল বেশি
সম্ভাব্য আন্দোলনের আশঙ্কায় অনেক অভিভাবক পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে দ্রুত বাড়ির উদ্দেশে রওনা হতে দেখা যায় তাদের। অন্য দিনের তুলনায় এদিন কেন্দ্রগুলোর বাইরে অভিভাবকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
যেসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে
বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র এবং যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আরবি দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২ বিষয়ের পরীক্ষাও নেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনের দাবিগুলো কী
এর আগে মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
বোর্ডগুলোর অবস্থান
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে শুধু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হয়েছে। দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















