চীনে শিশুদের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সঙ্গীদের আবেগঘন সম্পর্ক তৈরির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দেশটির নতুন নিয়মে কৃত্রিম সঙ্গী তৈরি করা অ্যাপগুলোকে আরও কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।
মানুষের আবেগ ও ব্যক্তিগত জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অতিরিক্ত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পর চীন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে ভার্চুয়াল চরিত্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হওয়ার বিষয়টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কৃত্রিম সঙ্গীর ওপর বাড়ছে নিয়ন্ত্রণ
নতুন নীতিমালায় আবেগের সম্পর্ক তৈরি করতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সঙ্গী অ্যাপগুলোকে ব্যবহারের আগে মূল্যায়নের মধ্যে যেতে হবে। কোনো প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের জন্য ক্ষতিকর মনে হলে সেটি বন্ধ করার সুযোগও থাকবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতে।

মানুষের একাকীত্ব কমানো বা মানসিক সঙ্গ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি এসব প্রযুক্তি অনেক দেশে জনপ্রিয় হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষের স্বাভাবিক সামাজিক সম্পর্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
শিশুদের মানসিক বিকাশ নিয়ে উদ্বেগ
চীনের নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিশু ও কিশোরদের কৃত্রিম চরিত্রের সঙ্গে অতিরিক্ত আবেগগতভাবে জড়িয়ে পড়া থেকে সুরক্ষা দেওয়া। মানুষের মতো আচরণ করা ভার্চুয়াল চরিত্রগুলো অনেক সময় ব্যবহারকারীদের কাছে বাস্তব সম্পর্কের মতো অনুভূতি তৈরি করতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।
প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে এর সামাজিক প্রভাব নিয়েও বিভিন্ন দেশে আলোচনা চলছে।

জন্মহার সংকটের মধ্যেও প্রযুক্তি নিয়ে ভাবনা
চীন বর্তমানে কম জন্মহার ও জনসংখ্যা কমে যাওয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি। এই পরিস্থিতিতে মানুষের জীবনযাপন, সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ সামাজিক কাঠামোর ওপর প্রযুক্তির প্রভাব নিয়েও দেশটিতে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি এর ব্যবহার যেন নিরাপদ ও ভারসাম্যপূর্ণ থাকে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















