ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের সাত জেলায় সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭ জনে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হওয়ায় এই সংখ্যা বেড়েছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সাত জেলায় বন্যার ভয়াবহ পরিস্থিতি
খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে এখনো বন্যার প্রভাব রয়েছে। এসব জেলার ৫৭টি উপজেলা, ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ৯টি পৌরসভা পানিতে তলিয়ে গেছে।
দুর্যোগ পরিস্থিতিতে ১১১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ৭৯ জন মানুষ অবস্থান করছেন।

কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি
বন্যা ও পাহাড়ধসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়। সেখানে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ১৯ জন এবং রোহিঙ্গা ১৩ জন রয়েছেন।
এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন।
দুর্গত মানুষের জন্য সহায়তা বাড়ছে
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নগদ অর্থ, চাল ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজারের জন্য নগদ সহায়তা, চাল ও ঢেউটিন বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার জন্যও নগদ অর্থ, চাল ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে ধাপে ধাপে সহায়তা পাঠানো হচ্ছে।
চলমান রয়েছে ত্রাণ তৎপরতা
সাতটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার জন্য অতিরিক্ত নগদ অর্থ ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ৬৪ জেলায় নিয়মিত ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও সহায়তা কার্যক্রম চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















