বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল ইংল্যান্ড। শুরুটাও ছিল দারুণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পুরোনো হতাশাই আবার ফিরে এলো। এগিয়ে থেকেও ম্যাচ হাতছাড়া করে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটানোর আশা আরও একবার অপূর্ণই রয়ে গেল।
সেমিফাইনালে পুরোনো গল্পের পুনরাবৃত্তি
ম্যাচের শুরুতে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছিল ইংল্যান্ড। আক্রমণ, বল দখল এবং সুযোগ তৈরি—সবকিছুতেই তারা ছিল এগিয়ে। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়েও যায় দলটি। তখন মনে হচ্ছিল বহু প্রতীক্ষিত ফাইনালের পথ এবার সত্যিই খুলে যাচ্ছে।
কিন্তু গোলের পর থেকেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণাত্মক ফুটবল ছেড়ে ধীরে ধীরে রক্ষণ সামলানোর দিকেই মনোযোগ দেয় ইংল্যান্ড। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ফিরে আসে আর্জেন্টিনা।
রক্ষণে অতিরিক্ত মনোযোগেই বিপদ
এক গোলের লিড ধরে রাখার লক্ষ্যেই শেষ দিকে দলকে আরও রক্ষণাত্মক করে তোলেন কোচ টমাস টুখেল। এতে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা ক্রমেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় এবং ধারাবাহিক আক্রমণে ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলে।
শেষ পর্যন্ত সেই চাপই ম্যাচের ফল বদলে দেয়। ইংল্যান্ড আর নিজেদের ছন্দে ফিরতে পারেনি। সুযোগ তৈরি করাও কঠিন হয়ে পড়ে তাদের জন্য।
ইতিহাসের হতাশা আরও দীর্ঘ হলো
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আগে গোল করেও হেরে যাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা এর আগেও হয়েছে ইংল্যান্ডের। এবারও একই চিত্র দেখা গেল। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এগিয়ে থেকেও জয় ধরে রাখতে না পারার প্রবণতা আবারও সামনে চলে এলো।
দীর্ঘদিন ধরে প্রতিভাবান ফুটবলারদের নিয়ে দল গড়লেও বড় ম্যাচে সাহসী ফুটবল ধরে রাখতে পারছে না ইংল্যান্ড। জয়ের বদলে লিড রক্ষা করার মানসিকতা শেষ পর্যন্ত তাদের জন্যই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কোচের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
ম্যাচ শেষে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনার কথা স্বীকার করেননি টমাস টুখেল। বরং তিনি মনে করেন, দলটি নিজেদের অন্যতম সেরা ম্যাচ খেলেছে।
তবে ম্যাচের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। অনেকের মতে, আক্রমণ থামিয়ে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল নেওয়াই ইংল্যান্ডের পরাজয়ের অন্যতম বড় কারণ। তাই এই হারের পর কোচের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্বপ্ন ভাঙার গল্প যেন শেষ হচ্ছে না
জুড বেলিংহ্যাম, বুকায়ো সাকা, হ্যারি কেইন, ডেকলান রাইসসহ তারকায় ভরা দল থাকা সত্ত্বেও বড় আসরে শেষ বাধা পেরোতে পারছে না ইংল্যান্ড। প্রতিবারই আশার আলো জ্বালিয়ে শেষ পর্যন্ত হতাশাই সঙ্গী হচ্ছে তাদের।
বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন তাই আবারও অধরাই থেকে গেল। সাহসী ফুটবলের বদলে শুধু হার এড়ানোর মানসিকতা নিয়ে খেললে সেই অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে—এই ম্যাচ যেন সেটাই আবারও মনে করিয়ে দিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















