যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ দেশটির শীর্ষ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার স্থায়ী প্রধান হওয়ার অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন। তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক, এপস্টিন নথি প্রকাশ এবং বিতর্কিত সরকারি সমঝোতা নিয়ে সিনেটে তীব্র জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এপস্টিন নথি নিয়ে ভুল স্বীকার
জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েন টড ব্লাঞ্চ। নথি প্রকাশে দেরি, কিছু অংশ গোপন রাখা এবং তদন্তসংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আইনপ্রণেতারা প্রশ্ন তোলেন।
ব্লাঞ্চ বলেন, বিপুল সংখ্যক নথি পর্যালোচনা ও প্রকাশ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ ছিল। তিনি স্বীকার করেন, কিছু ভুল হয়েছে এবং ভুল সংশোধনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এপস্টিনের ভুক্তভোগীদের কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, যে ভুলগুলো হয়েছে তা হওয়া উচিত ছিল না।
ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন
সিনেটের শুনানিতে টড ব্লাঞ্চকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু কি না। জবাবে তিনি জানান, তিনি আগে ট্রাম্পের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে সরকারের দায়িত্বে রয়েছেন।
তিনি বলেন, একজন অপরাধ মামলার আইনজীবী ও মক্কেলের সম্পর্ককে সাধারণ বন্ধুত্বের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। তার দায়িত্ব পালনে স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়েও তাকে প্রশ্ন করা হয়।
বিতর্কিত তহবিল নিয়ে অবস্থান
ট্রাম্প, তার ব্যবসা ও পরিবারের সঙ্গে কর সংক্রান্ত একটি সমঝোতা নিয়ে সিনেটে আলোচনা হয়। ওই সমঝোতার অংশ হিসেবে তৈরি হওয়ার কথা থাকা একটি বিশেষ তহবিল নিয়ে দুই দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যেই আপত্তি ছিল।
ব্লাঞ্চ জানান, ওই তহবিল কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কয়েকজন সিনেটরও এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানতে চান এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুরোপুরি বন্ধ করার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়।
তৃতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য
শুনানিতে ট্রাম্প ২০২৮ সালে আবার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে পারবেন কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। ব্লাঞ্চ বলেন, সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী তিনি মনে করেন ট্রাম্প আরেকটি মেয়াদের জন্য নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
ট্রাম্প এর আগে তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনের ইচ্ছার কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে থাকা সীমাবদ্ধতার কারণে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
শুনানিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত
প্রশ্নোত্তরের এক পর্যায়ে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান সিনেটরের সঙ্গে ব্লাঞ্চের তর্ক হয়। তিনি কিছু প্রশ্নের কঠোর জবাব দেন এবং কয়েকটি বিষয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এদিকে তার মনোনয়ন এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিচার বিষয়ক কমিটির অনুমোদনের পর পুরো সিনেটে ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















