কঙ্গোর ঘন জঙ্গলে এমন এক নতুন প্রজাতির বানরের সন্ধান মিলেছে, যার মুখ কালো, শরীর গাঢ় রঙের এবং ঠোঁটে রয়েছে আকর্ষণীয় গোলাপি-কমলা আভা। দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন, এটি আগে অজানা একটি স্বতন্ত্র প্রজাতি।
গাছের উঁচু ডালে লুকিয়ে থাকা রহস্যময় বানর
নতুন এই বানরটি ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর লোমামি জাতীয় উদ্যানের গভীর বনে বসবাস করে। গাছের অনেক উঁচু ডালে থাকার কারণে প্রাণীটিকে দেখা খুবই কঠিন। সংরক্ষণকর্মীরা প্রথম ২০০৮ সালে বানরটির সন্ধান পান, তবে তখন শুধু অস্পষ্ট ছবি তুলতে পেরেছিলেন।
এরপর প্রায় এক দশক পর আবার দেখা পাওয়ার পর গবেষকরা বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করেন। মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ, ছবি, শব্দের রেকর্ড এবং বংশগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হন যে এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি।
স্থানীয়দের পরিচিত হলেও বিজ্ঞানীদের কাছে নতুন
স্থানীয় মানুষ বহু বছর ধরেই এই বানরকে চিনতেন এবং তারা এটিকে লিকওয়েলি নামে ডাকতেন। তবে বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এর আলাদা বৈশিষ্ট্য ও বংশগত পার্থক্য বিশ্লেষণ করে এটিকে নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, বানরটি অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের এবং সাধারণত বনের ছাউনির অনেক ওপরে লুকিয়ে থাকে। আশপাশের ৫২টি গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলেও দেখা যায়, মাত্র কয়েকটি গ্রামের মানুষ এই প্রাণীটিকে সরাসরি দেখেছেন।
)
নতুন প্রজাতির সংরক্ষণে বাড়ছে আশা
এই বানর আফ্রিকার কলবাস গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের বানর বনের উদ্ভিদ খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা বীজ ছড়িয়ে দিয়ে নতুন গাছ জন্মাতেও সহায়তা করে।
গবেষকদের ধারণা, বানরটির উজ্জ্বল মুখের রং একে অপরকে চিনতে বা সঙ্গী আকর্ষণে সাহায্য করতে পারে। প্রাণীটি গভীর গর্জনের মতো বিশেষ ধরনের ডাকও দেয়, যা অনেক সময় শোনা গেলেও সহজে দেখা যায় না।
সীমিত আবাসস্থল নিয়ে উদ্বেগ
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই নতুন প্রজাতির বানরের সংখ্যা কম এবং এটি নির্দিষ্ট কিছু বনাঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করা এবং এর আবাসস্থল সংরক্ষণ করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন গবেষকরা। ভবিষ্যতে এই প্রাণীর সংখ্যা, আচরণ এবং জীবনযাপন সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















