মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হামলার কয়েকটি প্রচেষ্টা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই নতুন করে এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তাদের অভিযান চলছে।
বাহরাইন ও কুয়েতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়
বাহরাইনের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি আক্রমণ শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনা লক্ষ্য করে যেকোনো হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
কুয়েতও জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা ড্রোন মোকাবিলা করছে। দেশটির সরকার ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে।
জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডের দিকে আসা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এর আগে ইরান জর্ডানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছিল।
উপসাগরীয় অঞ্চলে উদ্বেগ বাড়ছে
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে নৌ চলাচল ও জাহাজ নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন দেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
ভারতও হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নাবিকদের সুরক্ষায় সতর্কতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
সংযমের আহ্বান জানাল সংযুক্ত আরব আমিরাত
সংযুক্ত আরব আমিরাত বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। দেশটি বলেছে, এসব হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি এবং আক্রান্ত দেশগুলোর পাশে তারা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন দিকে মোড় নেওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















