ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত বৃহস্পতিবার আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালায়।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা এই উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের পাল্টা হামলা, ছড়িয়ে পড়ছে সংঘাত
ইরানের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।
বাহরাইনও জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি আকাশপথের হামলা প্রতিহত করেছে। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধের” মুখোমুখি হয়েছে। তিনি হরমুজ প্রণালিকে ইরানের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
হরমুজ ও লোহিত সাগর নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা
ইরান সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করা হতে পারে।
এদিকে তেলের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।
লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন হয়। সেখানে কোনো ধরনের বড় বাধা তৈরি হলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে চাপ বাড়তে পারে।

ইরাকের তেল স্থাপনাতেও হামলার ঘটনা
ইরাকের বাসরা তেল টার্মিনালের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন আঘাত করার পর সাময়িকভাবে তেল লোডিং বন্ধ করা হয়েছিল। তবে পরে আবার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনাটির পেছনে কারা রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ইরাক জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
হাসপাতালে হামলার অভিযোগ
ইরান জানিয়েছে, আহভাজ শহরের কাছে একটি হামলায় শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র থাকা হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির দাবি, এতে চিকিৎসাধীন অনেক শিশুকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
ইরান এই ঘটনাকে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে তুলে ধরলেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ করার বিষয়ে আলোচনার পক্ষে তিনি অবস্থান করছেন।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিলের খবর পাওয়া গেছে। এর আগে তাকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্ব এখন নজর রাখছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা কোন দিকে গড়ায় এবং কূটনৈতিক সমাধানের কোনো সুযোগ তৈরি হয় কি না।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও তীব্র, কুয়েত ও জর্ডানে হামলার দাবি। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও তেল সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















