পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার বন্নু জেলার মিরিয়ান থানায় সন্ত্রাসী হামলায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয় নিরাপত্তাকর্মী ও চার বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
বিস্ফোরণের পর শুরু হয় তীব্র সংঘর্ষ
বুধবার রাতে হামলাকারীরা বিস্ফোরক বোঝাই একটি যান দিয়ে মিরিয়ান থানায় আঘাত করার চেষ্টা করে। এতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। পরে হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘ সময় ধরে গুলিবিনিময় হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পরপরই সন্ত্রাসীরা থানায় ঢোকার চেষ্টা করেছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত প্রতিরোধে তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
গুরুতর আহত পুলিশ সদস্য নূর জামাল খান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আহত ছয় নিরাপত্তাকর্মী ও চার বেসামরিক ব্যক্তি এখনও চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পাল্টা অভিযানে হতাহত হামলাকারী
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন হামলাকারী হতাহত হয়েছে। তবে তাদের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে কিছু হামলাকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
নিহত পুলিশ সদস্যের জানাজা বন্নু পুলিশ লাইন্সে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বন্নুতে ধারাবাহিক নিরাপত্তা সংকট
এর আগে হামলাকারীরা মিরিয়ান থানার দিকে যাওয়ার একটি ক্ষতিগ্রস্ত সেতুও বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয় বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচল বাধাগ্রস্ত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বন্নু জেলায় একাধিক নিরাপত্তা ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও সাধারণ মানুষ উভয়েই এসব হামলার শিকার হয়েছেন।
খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহত পুলিশ সদস্যের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















