যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে মনোনীত টড ব্লাঞ্চ বুধবার মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে এপস্টেইন নথি প্রকাশ, ট্রাম্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর-সুরক্ষা চুক্তি এবং কথিত “অস্ত্রায়ন তহবিল” নিয়ে তাকে জবাব দিতে হয়েছে।
এপস্টেইন নথি ও বিতর্কিত তহবিল নিয়ে প্রশ্ন
সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির শুনানিতে ব্লাঞ্চকে দুই দলের সিনেটররা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি জানান, ১৮০ কোটি ডলারের প্রস্তাবিত “অস্ত্রায়ন তহবিল” কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়নি বলেও স্বীকার করেন তিনি।
ব্লাঞ্চ বলেন, চুক্তি কার্যকর করতে হলে ট্রাম্পের আইনজীবীদের আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে। তবে বর্তমানে এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি।
কর-সংক্রান্ত অংশটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগের সাধারণ সমঝোতার নিয়মের মধ্যে পড়ে বলে দাবি করেন ব্লাঞ্চ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প ও তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে যেভাবে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি এসেছে, তা অস্বাভাবিক।
রিপাবলিকানদের মধ্যেও ছিল উদ্বেগ
রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নিন শুনানির পর জানান, ব্লাঞ্চের ব্যাখ্যায় তার সব উদ্বেগ দূর হয়নি। তিনি বলেন, তহবিল বাতিল হয়েছে বলা হলেও বাস্তবে বিষয়টি পুরোপুরি শেষ হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তবে কমিটির বেশিরভাগ রিপাবলিকান সদস্য ব্লাঞ্চের প্রতি সমর্থন দেখান। উত্তর ক্যারোলিনার সিনেটর থম টিলিসসহ কয়েকজন সদস্য তার বক্তব্যকে ইতিবাচকভাবে নেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব দেখানোর চেষ্টা
শুনানিতে ব্লাঞ্চ ট্রাম্পের কিছু সিদ্ধান্ত থেকে নিজেকে আলাদা অবস্থানে রাখার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের নীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়া ফেডারেল বিচারকদের অভিশংসনের মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়।
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্লাঞ্চ বলেন, ট্রাম্প তাকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য বিশ্বাস করেন, তবে পরামর্শ দেওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি সব বিষয়ে সম্মতি জানাবেন।
এপস্টেইন নথি প্রকাশ নিয়েও চাপ
প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত তদন্ত নথি প্রকাশ নিয়েও ব্লাঞ্চকে কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। ভুক্তভোগীদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে তিনি ভুলের দায় স্বীকার করেন।
ব্লাঞ্চ বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে নতুন অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া চালানো হবে।
তবে তিনি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নিজে দেখা করার বিষয়ে সরাসরি প্রতিশ্রুতি দেননি। তার ভাষ্য, বিচার বিভাগ ও এফবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে বেশি উপযুক্ত।
মনোনয়ন নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই
ব্লাঞ্চকে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে অনুমোদন পেতে সিনেটে প্রায় সব রিপাবলিকান সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করছেন, তিনি এখনো ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীর ভূমিকা থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেননি।
অন্যদিকে রিপাবলিকানরা তার অপরাধ দমন ও দুর্নীতি মোকাবিলার কাজের প্রশংসা করেছেন। ব্লাঞ্চ নিজেও বিচার বিভাগের আগের কিছু কর্মকাণ্ড সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
টড ব্লাঞ্চের এই শুনানি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। এপস্টেইন নথি, ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট চুক্তি এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা—সবকিছু মিলিয়ে তার মনোনয়ন এখনো বড় পরীক্ষার মুখে রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















