০৮:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
পাকিস্তানের আহ্বান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সহিংসতা বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার বার্তা বন্নুর মিরিয়ান থানা হামলায় পুলিশ সদস্য নিহত, আহত ১০ পাকিস্তানে ৬ লাখ ৫১ হাজার শিশুর টিকা বঞ্চনা, জনস্বাস্থ্যে বড় সংকটের সতর্কতা বেঙ্গালুরুতে হামলায় বাজুরার নেপালি যুবকের মৃত্যু, ন্যায়বিচারের দাবিতে পরিবারের আন্দোলন কাঠমান্ডু ও পোখরায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা, বাড়ছে বন্যা ও দুর্যোগের ঝুঁকি ইরান-বাহরাইন-কুয়েত-জর্ডান উত্তেজনা: ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংকট যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন পর্যায়ে, উপসাগরীয় অঞ্চলে বাড়ছে উদ্বেগ ২৫ বছরের মাইলফলকের আগেই চাকরি হারালেন মাইক্রোসফটের অভিজ্ঞ প্রযুক্তি নেতা ফেডারেল রিজার্ভের গুরুত্বপূর্ণ দলে তিন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিশেষজ্ঞ, আছেন রঘুরাম রাজনও যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ পথে ভারতীয় অভিবাসন কমেছে ৬৯ শতাংশ, বাড়ছে ফেরত পাঠানোর ভয়

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণে এককালীন ছাড়, নতুন সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খারাপ ও ক্ষতিগ্রস্ত ঋণ আদায়ে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি ও প্রতিষ্ঠানের তারল্য সক্ষমতা বাড়াতে একবারের জন্য বিশেষ নিষ্পত্তি সুবিধা চালু করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ ও নীতি বিভাগ দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে।

খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ ব্যবস্থা

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিভিন্ন অনিয়ন্ত্রণযোগ্য অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক ব্যবসা, শিল্প ও প্রকল্প আর্থিক সংকটে পড়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান লোকসানে চলে গেছে। এর ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ আদায় প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

এ অবস্থায় যেসব ঋণগ্রহীতার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ঋণ নিয়মিত করার সম্ভাবনা কমে গেছে, তাদের জন্য এককালীন নিষ্পত্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

কোন ঋণ পাবে এই সুবিধা

নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত যেসব ঋণ খারাপ বা ক্ষতিজনক হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়েছে, সেগুলো এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে। তবে এ সুবিধা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে।

এই সুবিধা নিতে হলে ঋণগ্রহীতাকে একবারে পুরো বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে। ঋণের মূল টাকা মওকুফ করা যাবে না। তবে যাচাই-বাছাই শেষে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সুদের অংশে ছাড় দেওয়া যেতে পারে।

সুদ ছাড়ে থাকবে কঠোর যাচাই

যেসব ক্ষেত্রে অর্থ ব্যবহারের শর্তে পরিবর্তন বা আয়ের খাতে ভিন্নতা থাকার কারণে সুদ ছাড়ের প্রয়োজন হবে, সেসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগকে কারণ যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন বিভাগের মতামত নিতে হবে।

প্রতারণা বা অনিয়মে জড়িত ঋণ বাদ

অর্থ অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া, জালিয়াতি, প্রতারণা বা ঋণ বিতরণে অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ঋণ এই বিশেষ সুবিধার আওতায় আসবে না।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে পুনঃতফসিল করা ক্ষতিজনক ঋণও এই সুবিধার জন্য বিবেচিত হতে পারে।

কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, স্বল্পমেয়াদি কৃষি ঋণ এবং কুটির, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতের ঋণকে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

কার্যকর থাকবে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত

আরও বলা হয়েছে, যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের লিখিতভাবে এই সুবিধার বিষয়ে জানাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন এই নির্দেশনা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানের আহ্বান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সহিংসতা বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার বার্তা

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণে এককালীন ছাড়, নতুন সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

০৬:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খারাপ ও ক্ষতিগ্রস্ত ঋণ আদায়ে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি ও প্রতিষ্ঠানের তারল্য সক্ষমতা বাড়াতে একবারের জন্য বিশেষ নিষ্পত্তি সুবিধা চালু করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ ও নীতি বিভাগ দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে।

খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ ব্যবস্থা

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিভিন্ন অনিয়ন্ত্রণযোগ্য অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক ব্যবসা, শিল্প ও প্রকল্প আর্থিক সংকটে পড়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান লোকসানে চলে গেছে। এর ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ আদায় প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

এ অবস্থায় যেসব ঋণগ্রহীতার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ঋণ নিয়মিত করার সম্ভাবনা কমে গেছে, তাদের জন্য এককালীন নিষ্পত্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

কোন ঋণ পাবে এই সুবিধা

নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত যেসব ঋণ খারাপ বা ক্ষতিজনক হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়েছে, সেগুলো এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে। তবে এ সুবিধা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে।

এই সুবিধা নিতে হলে ঋণগ্রহীতাকে একবারে পুরো বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে। ঋণের মূল টাকা মওকুফ করা যাবে না। তবে যাচাই-বাছাই শেষে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সুদের অংশে ছাড় দেওয়া যেতে পারে।

সুদ ছাড়ে থাকবে কঠোর যাচাই

যেসব ক্ষেত্রে অর্থ ব্যবহারের শর্তে পরিবর্তন বা আয়ের খাতে ভিন্নতা থাকার কারণে সুদ ছাড়ের প্রয়োজন হবে, সেসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগকে কারণ যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন বিভাগের মতামত নিতে হবে।

প্রতারণা বা অনিয়মে জড়িত ঋণ বাদ

অর্থ অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া, জালিয়াতি, প্রতারণা বা ঋণ বিতরণে অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ঋণ এই বিশেষ সুবিধার আওতায় আসবে না।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে পুনঃতফসিল করা ক্ষতিজনক ঋণও এই সুবিধার জন্য বিবেচিত হতে পারে।

কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, স্বল্পমেয়াদি কৃষি ঋণ এবং কুটির, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতের ঋণকে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

কার্যকর থাকবে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত

আরও বলা হয়েছে, যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের লিখিতভাবে এই সুবিধার বিষয়ে জানাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন এই নির্দেশনা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।