লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থার প্রযুক্তি ব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনায় দুই তরুণ হ্যাকারকে সাড়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাজ্যের আদালত। ২০২৪ সালে সংঘটিত ওই হামলায় লাখো যাত্রীর তথ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ে এবং পরিবহন কর্তৃপক্ষকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
টিএফএল সিস্টেমে ভয়াবহ অনুপ্রবেশ
২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই হ্যাকার থালহা জুবাইর ও ওয়েন ফ্লাওয়ার্স লন্ডনের পরিবহন সংস্থা ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের প্রযুক্তি ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। তারা সিস্টেমের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার চেষ্টা করেছিল, যা পুরো নেটওয়ার্ককে অচল করে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারত।
যদিও লন্ডনের মূল বাস ও ট্রেন চলাচল সরাসরি বন্ধ হয়নি, তবে প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য বিশেষ পরিবহন সেবার বুকিং ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয়। একই সঙ্গে যাত্রীদের তথ্য, অনলাইন সেবা ও পেমেন্ট ব্যবস্থায় বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়।
কোটি মানুষের তথ্য ঝুঁকিতে
হামলার কারণে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের তথ্য চুরি হওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি পরিবহন সংস্থার প্রযুক্তি অবকাঠামো মেরামত ও আর্থিক ক্ষতি মিলিয়ে প্রায় ৩৯ মিলিয়ন পাউন্ডের ক্ষতি হয়েছে।
হ্যাকাররা গ্রাহক তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশ করে এমনকি পরিচিত ব্যক্তিদের তথ্য খোঁজার চেষ্টা করেছিল বলেও আদালতে তথ্য উঠে আসে।
আদালতের রায়ে সাজা
আদালতে অপরাধ স্বীকারের পর থালহা জুবাইর ও ওয়েন ফ্লাওয়ার্সকে সাড়ে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ফ্লাওয়ার্সের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলার অভিযোগও ছিল।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তারা অনলাইনে সক্রিয় একটি হ্যাকার গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল, যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ব্যবস্থায় হামলার জন্য পরিচিত।
বিপুল অর্থের সন্ধান
তদন্তে জানা যায়, দুই হ্যাকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন ডিজিটাল মুদ্রার হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ ছিল। তবে তাদের জীবনযাপন ছিল সাধারণ এবং তারা মূলত অনলাইন কার্যক্রম ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে আদালতে আলোচনা হয়।
সাইবার নিরাপত্তায় বড় সতর্কবার্তা
এই ঘটনা বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সাইবার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। তদন্তকারী সংস্থার মতে, এই মামলার রায়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট হ্যাকার চক্রের কার্যক্রমও বড় ধাক্কা খেয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















