২০১৫ সালের জুলাইয়ে নাসার নিউ হরাইজনস মহাকাশযান প্রথমবারের মতো প্লুটোর পৃষ্ঠের বিস্তারিত ছবি পৃথিবীতে পাঠায়। সেই ঐতিহাসিক অভিযানের ১১ বছর পর বিজ্ঞানীরা পুরোনো তথ্য বিশ্লেষণ করে প্লুটোর বুকে বিশাল আকারের ভূমিধসের প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন।
নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, বামন গ্রহ প্লুটোর তিনটি আঘাতজনিত গহ্বরের ভেতরে ছয়টি বড় ধরনের ভূমিধসের চিহ্ন রয়েছে। পৃথিবীতে সাধারণ এই প্রাকৃতিক পরিবর্তন বরফে ঢাকা দূরবর্তী জগতে কীভাবে ঘটে, তা বোঝার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পুরোনো ছবিতে মিলল নতুন প্রমাণ
গবেষকরা নিউ হরাইজনসের দীর্ঘ দূরত্বের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি ও প্লুটোর ভূমির উচ্চতার মানচিত্র বিশ্লেষণ করেন। এসব তথ্যের তুলনা করে তারা এমন কিছু গঠন শনাক্ত করেন, যা বড় ধরনের ভূমিধসের সঙ্গে মিলে যায়।
চিহ্নিত ভূমিধসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির বিস্তৃতি প্রায় ১৩০ বর্গকিলোমিটার। অন্যগুলোর উচ্চতা প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ মিটার পর্যন্ত। এসব অংশে গহ্বরের দেয়াল থেকে বরফ ও বিভিন্ন উপাদান নিচের দিকে নেমে জমা হওয়ার চিহ্ন দেখা গেছে।

বরফের জগতে ভূ-পরিবর্তনের নতুন ধারণা
ভূমিধস সাধারণত পৃথিবীতে বৃষ্টি, তুষার গলা, আগ্নেয়গিরির কার্যক্রম বা ভূমিকম্পের কারণে দেখা যায়। তবে সৌরজগতের অন্য কিছু স্থানেও এ ধরনের ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। প্লুটোর ক্ষেত্রে এটি প্রথমবারের মতো নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, প্লুটোর পৃষ্ঠ স্থির নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর ভূমিরূপ পরিবর্তিত হয়েছে। এই আবিষ্কার বরফে ঢাকা অন্যান্য গ্রহাণু ও বামন গ্রহ কীভাবে বিবর্তিত হয়, তা বুঝতেও সহায়তা করবে।
ভবিষ্যৎ অভিযানে মিলতে পারে আরও তথ্য
গবেষকদের ধারণা, প্লুটোর পৃষ্ঠে আরও অনেক ভূমিধসের চিহ্ন থাকতে পারে, যা বর্তমান ছবিতে ধরা পড়েনি। ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযান আরও উন্নত ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করতে পারলে প্লুটোর লুকানো ভূ-রহস্য আরও পরিষ্কার হতে পারে।
প্লুটোর এই নতুন আবিষ্কার দূর মহাকাশের বরফময় জগত সম্পর্কে মানুষের ধারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্লুটোর বুকে বিশাল ভূমিধসের প্রমাণ মিলেছে, ১১ বছর আগের মহাকাশ অভিযানের তথ্য বিশ্লেষণে উন্মোচিত হলো নতুন রহস্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















