ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে জলবায়ু আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের অনশনকে কেন্দ্র করে তরুণদের একটি নতুন প্রতিবাদ আন্দোলন জোরালো হয়ে উঠেছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার, পরীক্ষায় স্বচ্ছতা এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনকারীরা ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
অনশনে সোনম ওয়াংচুক, পাশে তরুণ প্রজন্ম
৫৯ বছর বয়সী সোনম ওয়াংচুক কয়েক সপ্তাহ ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে স্থাপিত প্রতিবাদ শিবিরে দিন-রাত অবস্থান করছেন শিক্ষার্থী ও তরুণ আন্দোলনকারীরা।
ওয়াংচুক জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মাধ্যমেই সরকারের কাছে মানুষের দাবি পৌঁছে দিতে চান তারা। সহিংসতার বদলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজেদের কথা জানানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।
পরীক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন
আন্দোলনকারীদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে দেশের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা। পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে।
ভারতের লাখো তরুণের জন্য মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও সরকারি চাকরির সুযোগ অনেকটাই নির্ভর করে কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর। এ কারণে পরীক্ষাব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছেন তারা।
অনলাইন আন্দোলন থেকে রাজপথে
তরুণদের এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল অনলাইনে। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন শহর ও বিশ্ববিদ্যালয়ে। আন্দোলনকারীরা নিজেদের একটি ব্যঙ্গাত্মক পরিচয়ের মাধ্যমে সংগঠিত করে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া তৈরি করেন।
আয়োজকদের দাবি, এখন এটি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আন্দোলন নয়, বরং শিক্ষা ব্যবস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বৃহত্তর দাবিতে পরিণত হয়েছে।

জনসমর্থন বাড়ছে, তবে সরকারের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ
নয়াদিল্লির প্রতিবাদস্থলে প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ অংশ নিচ্ছেন। সন্ধ্যার দিকে এই সংখ্যা আরও বাড়ছে। বৃষ্টির মধ্যেও অনেকে সেখানে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন।
আন্দোলনের উদ্যোক্তারা অভিযোগ করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এখনো তাদের দাবির বিষয়ে কার্যকর কোনো আলোচনা শুরু হয়নি। তাদের মতে, সরকারের নীরবতা আন্দোলনকারীদের আরও দৃঢ় করেছে।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বার্তা ওয়াংচুকের
সোনম ওয়াংচুক বলেছেন, এই অনশন কোনো সংঘাতের আহ্বান নয়, বরং মানুষের অধিকার ও জবাবদিহিতার দাবি জানানোর একটি শান্তিপূর্ণ উপায়।
তিনি মনে করেন, গণতন্ত্রে জনগণের কথা শোনা এবং তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সংসদ অভিমুখে কর্মসূচির প্রস্তুতি
আন্দোলনকারীরা এখন সংসদের দিকে পদযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা আশা করছেন, শান্তিপূর্ণ উপায়ে উত্থাপিত দাবিগুলো সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে।
আয়োজকদের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















