জাপানে এমন অনেক বাড়ি রয়েছে, যেগুলোতে অতীতে আত্মহত্যা, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, অগ্নিকাণ্ড বা একাকী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব বাড়িকে অনেক জাপানি মানুষ অশুভ হিসেবে মনে করেন। ফলে বাড়িগুলো বিক্রি বা ভাড়া দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
মৃত্যুর ইতিহাস থাকা বাড়ি এড়িয়ে চলেন অনেকে
জাপানে এমন সম্পত্তিকে বিশেষ নামে ডাকা হয়, যার অর্থ হলো কলঙ্কিত বা অশুভ হিসেবে চিহ্নিত বাড়ি। অনেক ক্রেতা ও ভাড়াটিয়া এসব বাড়ির অতীত জানার পর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ফলে মালিকদের দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি খালি পড়ে থাকার সমস্যায় পড়তে হয়।
দক্ষিণ ইয়োকোহামার একটি দুইতলা বাড়ি এরই উদাহরণ। দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকা এই বাড়িটি সংস্কার করলে বসবাসের উপযোগী করা সম্ভব হলেও মৃত্যুর ঘটনার কারণে কেউ এটি কিনতে বা ভাড়া নিতে চাইছেন না।
বাড়ির অশুভ ভাব কাটাতে নতুন উদ্যোগ
জাপানে এমন বাড়ির মালিকদের সহায়তা করতে একটি বিশেষ ধরনের সেবা চালু হয়েছে। এই সেবায় বাড়ির পরিবেশ পরীক্ষা করা হয় এবং বাড়িতে কোনো অস্বাভাবিক বিষয় আছে কি না তা যাচাই করা হয়।

সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, অনেক সময় সংস্কারের পরও ক্রেতাদের মনে ভয় থেকে যায়। তাই বাড়ির অতীত নিয়ে থাকা নেতিবাচক ধারণা দূর করার চেষ্টা করা হয়।
কুসংস্কারের প্রভাব পড়ছে আবাসন বাজারে
জাপানের অনেক মানুষের বিশ্বাস, মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত স্থান দুর্ভাগ্য বয়ে আনতে পারে। এ কারণে এমন বাড়ির ভাড়া অনেক ক্ষেত্রে কমিয়ে দিতে হয়। বড় শহরগুলোতে এসব বাড়ির ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও অনেক সম্পত্তি দীর্ঘ সময় খালি পড়ে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও এমন খালি বাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং বাড়ির মালিকানা নিয়ে পারিবারিক জটিলতার পাশাপাশি অশুভ ধারণাও এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
খালি বাড়ির সংখ্যা বাড়ছে জাপানে
জাপানে খালি বাড়ির সংখ্যা এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। দেশটির অনেক এলাকায় জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় বিপুল সংখ্যক বাড়ি ব্যবহারহীন হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে মৃত্যুর ইতিহাস থাকা বাড়িগুলো নতুন মালিক খুঁজে পেতে আরও বেশি সমস্যায় পড়ছে।
কিছু বিনিয়োগকারী কম দামে এসব বাড়ি কিনে লাভের আশা করলেও পরে ভাড়াটিয়া খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়েছেন। কারণ বাড়ির অতীত গোপন না করার নিয়ম থাকায় সম্ভাব্য বাসিন্দারা অনেক সময় পিছিয়ে যান।
ধর্মীয় আচারেও সমাধানের চেষ্টা
অনেক বাড়ির মালিক এখন নেতিবাচক ধারণা দূর করতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সাহায্য নিচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে পুরোহিতের মাধ্যমে বিশেষ প্রার্থনা বা শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানও করা হচ্ছে।
জাপানে এসব বাড়ি নিয়ে ভয় ও কুসংস্কার থাকলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে খালি বাড়ির সমস্যা সমাধানে এই ধরনের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার চাহিদা আরও বাড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















