যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক ক্যাপিটাল ওয়ান জানিয়েছে, ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের ৩০০টিরও বেশি ব্যাংক হিসাব বন্ধ করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক কারণে নয়; বরং অর্থপাচার প্রতিরোধসংক্রান্ত (এএমএল) বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘ পর্যালোচনার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছিল। আদালতে দাখিল করা নথিতে ব্যাংকটি প্রথমবারের মতো এই ব্যাখ্যা তুলে ধরেছে।
আদালতে ব্যাংকের অবস্থান
ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে চলমান মামলায় ক্যাপিটাল ওয়ান দাবি করেছে, ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের হিসাব বন্ধের আগে কয়েক মাস ধরে তাদের অর্থপাচারবিরোধী দল লেনদেন পর্যালোচনা করে। ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত তাদের নিজস্ব নীতিমালা ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নেওয়া হয়।
তবে ব্যাংকটি স্পষ্ট করেছে, তারা কখনও ট্রাম্প অর্গানাইজেশনকে অর্থপাচারে জড়িত বলে অভিযোগ করেনি। তাদের বক্তব্য, কেবল ঝুঁকি মূল্যায়নের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের অভিযোগ
২০২৫ সালের মার্চে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প মামলা করেন। তাদের অভিযোগ, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলার পর রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে এবং তথাকথিত ‘ওয়োক’ মনোভাব থেকে ক্যাপিটাল ওয়ান তাদের হিসাব বন্ধ করে দেয়।
তবে মিয়ামির ফেডারেল আদালত ইতোমধ্যে মামলার দুটি সংস্করণ খারিজ করেছে। যদিও বাদীপক্ষকে সংশোধিত অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
‘ভিত্তিহীন’ দাবি বলছে ক্যাপিটাল ওয়ান
ব্যাংকটি আদালতে বলেছে, ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণের অভিযোগ ‘ভুল ধারণার’ ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। তাদের মতে, বাদীপক্ষ নথির আংশিক উদ্ধৃতি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
ব্যাংকের দাবি, যেসব লেনদেন তাদের নজরে আসে, সেগুলো ফেডারেল ব্যাংকিং নির্দেশিকায় ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত হওয়া লেনদেনের ধরনগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে ‘ব্যাংকিং সেবা থেকে রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত করার’ অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ট্রাম্প বৈষম্যমূলকভাবে ব্যাংকিং সেবা বন্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন।
এ বছরের জানুয়ারিতেও তিনি একই ধরনের অভিযোগে আরেক বড় ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ফলে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে।
পুরোনো বিরোধও সামনে
এর আগে, ২০১৯ সালে প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদকালে ট্রাম্প ক্যাপিটাল ওয়ান ও আরেকটি বড় ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। সে সময় কংগ্রেসের তদন্তে তার আর্থিক নথি হস্তান্তর ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই ঘটনার পর থেকেই ট্রাম্প এবং বড় ব্যাংকগুলোর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
ক্যাপিটাল ওয়ানের সর্বশেষ আদালত-দাখিল করা নথি সেই দীর্ঘদিনের বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















