দেশের ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণের ঝুঁকি মোকাবিলায় ১৮ মাসের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশই খেলাপি, যা আর্থিক খাতের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা কিউআর কোড বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করতে এবং খেলাপি ঋণ কমাতে এই বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ প্যাকেজ চালুর ঘোষণা দেন তিনি।
খেলাপি ঋণ কমাতে ১৮ মাসের রূপরেখা
গভর্নরের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মপরিকল্পনার প্রথম ছয় মাসে খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের জন্য ‘বুলেট পেমেন্ট’ পদ্ধতির মাধ্যমে এক্সিট সুবিধা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্তে ঋণ পরিশোধের সুযোগ তৈরি করা হবে।
পরবর্তী এক বছরে প্রস্তাবিত ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট আইন এবং অর্থ ঋণ আদালত আইনের আওতায় খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হলো দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ঋণ পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটানো।
ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর ওপর জোর
ড. মোস্তাকুর রহমান বলেন, আগের সরকারের আমলে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে দেশের প্রায় ২ কোটি আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে কঠোর পদক্ষেপের বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সেপ্টেম্বরে নতুন ঋণ প্যাকেজ
বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ প্যাকেজ চালু করা হবে বলে জানান গভর্নর। এই উদ্যোগের মাধ্যমে উৎপাদন, ব্যবসা ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিটি উপজেলায় ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ
গভর্নর আরও জানান, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ১৮ মাসের কর্মপরিকল্পনা খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৮ মাসের পরিকল্পনায় খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ কর্মসূচি, সেপ্টেম্বরে ৬০ হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ প্যাকেজ এবং উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















