রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রাতভর চালানো রুশ হামলায় ছোড়া কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করতে পারেনি, যা দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ক্রমবর্ধমান সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে।
টানা দুই ঘণ্টার হামলা
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই হামলা ছিল সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার ধারাবাহিক বৃহৎ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আরেকটি উদাহরণ। চলতি গ্রীষ্মে এমন হামলা প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ সক্ষমতার ঘাটতির সুযোগই নিচ্ছে মস্কো।
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটে ইউক্রেন
ইউক্রেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকটে রয়েছে। এই ব্যবস্থাই দেশটির হাতে থাকা একমাত্র প্রতিরক্ষা অস্ত্র, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের কারণে এসব গোলাবারুদের সরবরাহ আরও সীমিত হয়ে পড়েছে। তিনি বিকল্প হিসেবে ইউক্রেনেই প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের গোলাবারুদ উৎপাদনের সুযোগও চান।
গত শুক্রবার রাতের আরেকটি রুশ হামলার পর জেলেনস্কি বলেছিলেন, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী মাত্র একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে, কারণ প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্র কার্যত শেষ হয়ে এসেছে।
বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলায় একটি ব্রুয়ারি, নির্মাণসামগ্রীর গুদাম এবং ডাক বিভাগের একটি চিঠি বাছাই কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব স্থাপনার সঙ্গে যুদ্ধ বা সামরিক কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ইউক্রেনের সামরিক কার্যক্রমের সম্পর্ক ছিল।
ইউক্রেনে যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে বেসামরিক এলাকায় প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















