১০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
সিউতার ট্র্যাজেডি: সীমান্ত ভেঙেছে শুধু মানুষ নয়, ভেঙেছে ডিজিটাল বিভ্রান্তির প্রতিরোধও মাত্র ২০ ডলারে বিশ্বতারকাদের কনসার্ট! বাড়তি টিকিটের দামে ভক্তদের স্বস্তি ফেরাতে নতুন উদ্যোগ আগুনে দুবার পুড়ে ধ্বংস: স্কটল্যান্ডের ঐতিহাসিক শিল্পবিদ্যালয় কি আবারও ফিরে পাবে তার হারানো গৌরব? চীনের আগ্রাসন ঠেকাতে যুদ্ধ প্রস্তুতি জোরদার তাইওয়ানের, শুরু ১০ দিনের বৃহৎ সামরিক মহড়া মিশিগানের প্রাইমারিকে ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েল ও ইহুদিবিদ্বেষ বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় রেকর্ড আয়, তবু কমছে দর্শক: বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমা দেখার অভ্যাস কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৭, দুর্বল হয়ে পড়ছে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে অভিবাসন অভিযান ঘিরে উত্তেজনা, আইসিইর পদক্ষেপে আপত্তি বিমান সংস্থাগুলোর শেখ হাসিনাকে ভারত এই সুযোগ কেন দিলো- প্রশ্ন বিএনপির মৃত্যুদণ্ড সত্ত্বেও দেশে ফেরার পরিকল্পনার ‘জুয়া’ কেন খেলছেন শেখ হাসিনা

রেকর্ড আয়, তবু কমছে দর্শক: বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমা দেখার অভ্যাস

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা শিল্পে এ বছর আয়ের দিক থেকে ইতিবাচক চিত্র দেখা গেলেও প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের উপস্থিতি এখনো মহামারির আগের পর্যায়ে ফিরতে পারেনি। বড় বাজেটের কয়েকটি আলোচিত চলচ্চিত্র, বাড়তি টিকিট মূল্য এবং প্রিমিয়াম প্রদর্শনের কারণে বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড গড়ছে হলিউড। তবে বাস্তবতা হলো, আগের তুলনায় অনেক কম মানুষ সিনেমা হলে যাচ্ছেন।

এ বছরের সবচেয়ে বড় সাফল্যের পেছনে রয়েছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ এবং ‘দ্য ওডিসি’। এই দুটি ছবির মুক্তির সপ্তাহান্তেই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড তৈরি হয়। একই সঙ্গে ‘অবসেশন’ ও ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’-র মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিবিহীন ছবিও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন পর কেবল সুপারহিরো বা জনপ্রিয় সিরিজের ছবির ওপর নির্ভরশীলতা কিছুটা কমেছে।

আয় বাড়ছে, দর্শক নয়

গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বক্স অফিস আয় দাঁড়িয়েছে ৬২০ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। তবে ২০১৯ সালের একই সময়ে এই আয় ছিল ৭০০ কোটি ডলারেরও বেশি

অন্যদিকে দর্শকসংখ্যার চিত্র ভিন্ন। ২০২৬ সালের প্রথম ৩০ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা হলে বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৭ কোটি ৯ লাখ টিকিট। অথচ ২০১৯ সালের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৭৪ কোটি ৭৩ লাখ টিকিট। অর্থাৎ আয় বাড়লেও দর্শক এখনো মহামারির আগের অবস্থানে ফিরতে পারেননি।

টিকিটের দামই বড় ভূমিকা রাখছে

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সিনেমা হলগুলোর আয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ টিকিটের দাম বৃদ্ধি এবং খাবার ও পানীয়ের মূল্য বাড়ানো। পাশাপাশি আইম্যাক্সসহ বড় পর্দার প্রিমিয়াম প্রদর্শনের জন্য দর্শকরা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছেন।

আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, চলতি বছরে সিনেমা হলে দর্শক উপস্থিতি গত বছরের তুলনায় ৮.১ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু ২০১৯ সালের তুলনায় এখনো ২৭ শতাংশ কম

কেন বদলে গেল অভ্যাস?

করোনা মহামারির সময় অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ে। এর ফলে অনেক দর্শক বাড়িতেই নতুন সিনেমা দেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন। এখন অনেকেই কেবল বড় বাজেটের বা বিশেষ আকর্ষণের চলচ্চিত্র মুক্তি পেলেই প্রেক্ষাগৃহে যান।

এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিনেমা হলগুলোও নিজেদের উন্নত করেছে। বড় পর্দা, উন্নত শব্দব্যবস্থা, আরামদায়ক আসন এবং প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দর্শকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

প্রিমিয়াম প্রদর্শনে মিলছে সাফল্য

বিশ্বের বৃহত্তম সিনেমা হল চেইনগুলোর একটি এএমসি এন্টারটেইনমেন্ট জানিয়েছে, প্রিমিয়াম পর্দায় ব্যাপক চাহিদার কারণে তাদের ১০৬ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহান্তের আয় হয়েছে। একই সময়ে তাদের এএমসি ও ওডিয়ন প্রেক্ষাগৃহে এক কোটিরও বেশি দর্শক সিনেমা দেখেছেন, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

কয়েকটি স্টুডিওর দখল আরও শক্ত

চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বক্স অফিস আয়ের ৬৮ শতাংশ এসেছে মাত্র পাঁচটি বড় স্টুডিও—ইউনিভার্সাল, ডিজনি, সনি, ওয়ার্নার ব্রাদার্স এবং প্যারামাউন্টের ছবি থেকে। এর ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

এদিকে প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির সম্ভাব্য ১১০ বিলিয়ন ডলারের একীভূতকরণ ঠেকাতে ক্যালিফোর্নিয়াসহ ১২টি অঙ্গরাজ্য আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। নিয়ন্ত্রকদের আশঙ্কা, এই ধরনের বড় একীভূতকরণ হলে সিনেমা বাজারে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য আরও বেড়ে যাবে।

ভবিষ্যতের বড় প্রশ্ন

বিশ্লেষকদের মতে, এ বছরের সাফল্য নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। তবে এই প্রবৃদ্ধি কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে বড় বাজেটের কয়েকটি চলচ্চিত্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিয়মিতভাবে বৈচিত্র্যময় ও মানসম্মত সিনেমা দর্শকদের সামনে আনা যায় কি না। কারণ আয়ের রেকর্ড গড়লেও, সিনেমা হলে দর্শকের স্থায়ী প্রত্যাবর্তন এখনো নিশ্চিত নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিউতার ট্র্যাজেডি: সীমান্ত ভেঙেছে শুধু মানুষ নয়, ভেঙেছে ডিজিটাল বিভ্রান্তির প্রতিরোধও

রেকর্ড আয়, তবু কমছে দর্শক: বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমা দেখার অভ্যাস

০৯:১০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা শিল্পে এ বছর আয়ের দিক থেকে ইতিবাচক চিত্র দেখা গেলেও প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের উপস্থিতি এখনো মহামারির আগের পর্যায়ে ফিরতে পারেনি। বড় বাজেটের কয়েকটি আলোচিত চলচ্চিত্র, বাড়তি টিকিট মূল্য এবং প্রিমিয়াম প্রদর্শনের কারণে বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড গড়ছে হলিউড। তবে বাস্তবতা হলো, আগের তুলনায় অনেক কম মানুষ সিনেমা হলে যাচ্ছেন।

এ বছরের সবচেয়ে বড় সাফল্যের পেছনে রয়েছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ এবং ‘দ্য ওডিসি’। এই দুটি ছবির মুক্তির সপ্তাহান্তেই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড তৈরি হয়। একই সঙ্গে ‘অবসেশন’ ও ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’-র মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিবিহীন ছবিও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন পর কেবল সুপারহিরো বা জনপ্রিয় সিরিজের ছবির ওপর নির্ভরশীলতা কিছুটা কমেছে।

আয় বাড়ছে, দর্শক নয়

গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বক্স অফিস আয় দাঁড়িয়েছে ৬২০ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। তবে ২০১৯ সালের একই সময়ে এই আয় ছিল ৭০০ কোটি ডলারেরও বেশি

অন্যদিকে দর্শকসংখ্যার চিত্র ভিন্ন। ২০২৬ সালের প্রথম ৩০ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা হলে বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৭ কোটি ৯ লাখ টিকিট। অথচ ২০১৯ সালের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৭৪ কোটি ৭৩ লাখ টিকিট। অর্থাৎ আয় বাড়লেও দর্শক এখনো মহামারির আগের অবস্থানে ফিরতে পারেননি।

টিকিটের দামই বড় ভূমিকা রাখছে

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সিনেমা হলগুলোর আয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ টিকিটের দাম বৃদ্ধি এবং খাবার ও পানীয়ের মূল্য বাড়ানো। পাশাপাশি আইম্যাক্সসহ বড় পর্দার প্রিমিয়াম প্রদর্শনের জন্য দর্শকরা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছেন।

আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, চলতি বছরে সিনেমা হলে দর্শক উপস্থিতি গত বছরের তুলনায় ৮.১ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু ২০১৯ সালের তুলনায় এখনো ২৭ শতাংশ কম

কেন বদলে গেল অভ্যাস?

করোনা মহামারির সময় অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ে। এর ফলে অনেক দর্শক বাড়িতেই নতুন সিনেমা দেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন। এখন অনেকেই কেবল বড় বাজেটের বা বিশেষ আকর্ষণের চলচ্চিত্র মুক্তি পেলেই প্রেক্ষাগৃহে যান।

এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিনেমা হলগুলোও নিজেদের উন্নত করেছে। বড় পর্দা, উন্নত শব্দব্যবস্থা, আরামদায়ক আসন এবং প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দর্শকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

প্রিমিয়াম প্রদর্শনে মিলছে সাফল্য

বিশ্বের বৃহত্তম সিনেমা হল চেইনগুলোর একটি এএমসি এন্টারটেইনমেন্ট জানিয়েছে, প্রিমিয়াম পর্দায় ব্যাপক চাহিদার কারণে তাদের ১০৬ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহান্তের আয় হয়েছে। একই সময়ে তাদের এএমসি ও ওডিয়ন প্রেক্ষাগৃহে এক কোটিরও বেশি দর্শক সিনেমা দেখেছেন, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

কয়েকটি স্টুডিওর দখল আরও শক্ত

চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বক্স অফিস আয়ের ৬৮ শতাংশ এসেছে মাত্র পাঁচটি বড় স্টুডিও—ইউনিভার্সাল, ডিজনি, সনি, ওয়ার্নার ব্রাদার্স এবং প্যারামাউন্টের ছবি থেকে। এর ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

এদিকে প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির সম্ভাব্য ১১০ বিলিয়ন ডলারের একীভূতকরণ ঠেকাতে ক্যালিফোর্নিয়াসহ ১২টি অঙ্গরাজ্য আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। নিয়ন্ত্রকদের আশঙ্কা, এই ধরনের বড় একীভূতকরণ হলে সিনেমা বাজারে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য আরও বেড়ে যাবে।

ভবিষ্যতের বড় প্রশ্ন

বিশ্লেষকদের মতে, এ বছরের সাফল্য নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। তবে এই প্রবৃদ্ধি কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে বড় বাজেটের কয়েকটি চলচ্চিত্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিয়মিতভাবে বৈচিত্র্যময় ও মানসম্মত সিনেমা দর্শকদের সামনে আনা যায় কি না। কারণ আয়ের রেকর্ড গড়লেও, সিনেমা হলে দর্শকের স্থায়ী প্রত্যাবর্তন এখনো নিশ্চিত নয়।