যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে দীর্ঘদিন ধরে লন্ডন এমন এক কেন্দ্র, যার চারপাশেই যেন রাষ্ট্রের অর্থনীতি, প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণের অধিকাংশ শক্তি আবর্তিত হয়েছে। কিন্তু নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের উত্থান সেই পুরোনো ভারসাম্যে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এটি সাময়িক রাজনৈতিক প্রতীক, নাকি ব্রিটিশ রাষ্ট্রব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী পুনর্বিন্যাসের সূচনা—এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট: ক্ষমতার কেন্দ্রকে লন্ডনের বাইরে নেওয়ার প্রশ্নটি আবার ব্রিটিশ রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ফিরে এসেছে।
ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র বার্নহামের রাজনৈতিক পরিচয়ের বড় অংশই গড়ে উঠেছে স্থানীয় সরকার ও আঞ্চলিক ক্ষমতায়নের ধারণাকে ঘিরে। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে ছোট, কৌশলগত এবং কম কেন্দ্রীভূত করার কথা বলছেন। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রাও এই বার্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওয়েস্টমিনস্টারের প্রচলিত রাজনীতির বাইরে গিয়ে ম্যানচেস্টারের স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃত্বে প্রায় এক দশক কাটিয়ে তিনি জাতীয় ক্ষমতায় এসেছেন। ফলে দেশের রাজধানীর রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণির তুলনায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের একটি আলাদা রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
ম্যানচেস্টারের মেয়র থাকাকালে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছিল ‘উত্তরের রাজা’ হিসেবে। এখন সেই প্রতীকী পরিচয়কে জাতীয় শাসনব্যবস্থার কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি।
লন্ডনের আধিপত্যের প্রশ্ন
যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় লন্ডনের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের ২৩ শতাংশেরও বেশি এই রাজধানী শহর থেকে আসে। অর্থনীতি, অর্থবাজার, সংস্কৃতি, পরিবহন এবং জাতীয় রাজনীতির প্রধান কেন্দ্র হিসেবেও লন্ডনের অবস্থান অনন্য। উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রেও শহরটি দেশের অধিকাংশ অঞ্চলের চেয়ে এগিয়ে।
সমস্যা হচ্ছে, এই সাফল্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে কতটা ভাগাভাগি হয়েছে। ব্রিটেনের উত্তরাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং অপেক্ষাকৃত দরিদ্র অঞ্চলগুলো দীর্ঘদিন ধরে মনে করে এসেছে যে জাতীয় প্রবৃদ্ধির সুফল তাদের কাছে যথেষ্ট পৌঁছায়নি। বার্নহামের রাজনৈতিক প্রকল্প মূলত সেই ক্ষোভ ও বৈষম্যের জায়গাটিকেই ধরতে চাইছে।
এর সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রতীক ম্যানচেস্টারে প্রধানমন্ত্রীর নতুন কার্যালয়—‘নম্বর ১০ নর্থ’। ডাউনিং স্ট্রিটের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী সপ্তাহের কিছু সময় ম্যানচেস্টার থেকে কাজ করবেন। এটি নিছক প্রতীকী স্থানান্তর নয়—এমনটাই বোঝাতে চাইছে সরকার।
এমনকি সরকারি নীতির মূল্যায়নেও স্থানীয় মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যে নীতিকে লন্ডনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজাতরা গ্রহণযোগ্য মনে করেন, সেটি দেশের শিল্পাঞ্চল ও শ্রমজীবী মানুষের কাছেও কার্যকর কি না—এই প্রশ্নকে সামনে আনা হচ্ছে।
এই ধারণার মধ্যে আকর্ষণ আছে। প্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক সেবা, গৃহহীনতা এবং সাংবিধানিক সংস্কারের মতো বিষয়ে বার্নহামের উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তবে উত্তর ইংল্যান্ডকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত রাজনৈতিক মনোযোগ অন্য অঞ্চলে নতুন অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। দারিদ্র্য ও বঞ্চনা শুধু উত্তরের শহরগুলোতে নেই; লন্ডনের দরিদ্র এলাকাগুলো, গ্রামীণ অঞ্চল, উপকূলীয় জনপদ, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে।
‘ডিভলিউশন’ প্রতিশ্রুতির পুরোনো ইতিহাস
বার্নহামের প্রকল্পের সবচেয়ে বড় বাধা হলো, ব্রিটিশ জনগণ এর আগে একই ধরনের প্রতিশ্রুতি বহুবার শুনেছে।
ডেভিড ক্যামেরনের সরকার ‘নর্দার্ন পাওয়ারহাউস’-এর কথা বলেছিল। বরিস জনসনের সরকারের মাইকেল গোভ আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর জন্য ‘লেভেলিং আপ’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরে কিয়ার স্টারমার ও তাঁর উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার ‘ডিভলিউশন রেভলিউশন’-এর কথা বলেছিলেন। কিন্তু এসব উদ্যোগের কোনোটিই এমন গভীর পরিবর্তন আনতে পারেনি, যাতে লন্ডনের বাইরে বসবাসকারী মানুষ রাষ্ট্রের ক্ষমতার বাস্তব পুনর্বণ্টন অনুভব করতে পারে।
এই ইতিহাসের কারণে বার্নহামের পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় স্বাভাবিক। তবে তাঁর ক্ষেত্রে পার্থক্য হলো, তিনি শুধু স্লোগান দিচ্ছেন না; করের রাজস্ব ভাগাভাগি থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে আরও বাস্তব ক্ষমতা দেওয়ার পরিকল্পনাও করছেন।
স্থানীয় সরকারকে বেশি ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে মেয়রদের হাতে আয়কর ও ব্যবসায়িক করের একটি অংশ রাখার চিন্তা রয়েছে। শিক্ষা, বিশেষ করে কারিগরি ও প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা খাতের বাজেটও স্থানীয় নেতৃত্বের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আরও দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার মতো ক্ষেত্রও স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
এ ধরনের পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা সহজ নয়। কিন্তু উচ্চাকাঙ্ক্ষার জায়গাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্রিটেনের আঞ্চলিক বৈষম্যের সমস্যা এত গভীর যে ছোটখাটো প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস দিয়ে তা সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কম।
ম্যানচেস্টার কি মডেল হতে পারবে?
ম্যানচেস্টার ইতিমধ্যে ব্রিটেনের অন্য অনেক অঞ্চলের তুলনায় শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উদাহরণ তৈরি করেছে। সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের সমন্বয়ে শহরটি নিজস্ব অর্থনৈতিক শক্তি বাড়াতে পেরেছে। বার্নহামের সমর্থকেরা মনে করেন, স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আরও বাড়ানো গেলে এই অভিজ্ঞতা দেশের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
কিন্তু এই মডেলের সমালোচনাও কম নয়। গ্রিন পার্টির জেরাল্ডিন কগিন্সের মতো সমালোচকেরা মনে করেন, ম্যানচেস্টারের উন্নয়ন থেকে সমাজের অপেক্ষাকৃত সুবিধাবঞ্চিত অংশ যথেষ্ট লাভবান হয়নি। বিশেষ করে সামাজিক আবাসনের ক্ষেত্রে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে। স্থানীয় সরকারকে ক্ষমতা দিলেই কি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি হবে? উত্তরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘হ্যাঁ’ নয়। জাতীয় সরকার যেমন দক্ষতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে ব্যর্থ হতে পারে, স্থানীয় প্রশাসনও তেমন ব্যর্থ হতে পারে। কোনো শহরের মেয়র যদি দক্ষ হন, তাহলে অধিক ক্ষমতা সুফল আনতে পারে। কিন্তু দুর্বল নেতৃত্ব বা ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের স্থানীয় প্রশাসনের ক্ষেত্রে একই কাঠামো ভিন্ন ফল দিতে পারে।
এ কারণেই ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের সঙ্গে জবাবদিহি ও দক্ষতার প্রশ্নটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ওয়েস্টমিনস্টারের ‘অদৃশ্য প্রতিরোধ’
বার্নহামের আরেকটি কৌশলগত সুবিধা হলো তিনি ব্রিটিশ কেন্দ্রীয় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জড়তা ভাঙার চেষ্টা করছেন। মন্ত্রিসভা দপ্তরের বেশ কিছু ক্ষমতা তিনি নিজের অধীনে এনে প্রথম সচিব লুইস হেইগের নেতৃত্বে নতুনভাবে সাজাচ্ছেন। হেইগও মূলত ম্যানচেস্টার থেকে কাজ করবেন।
ওয়েস্টমিনস্টারের বাইরে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা অবশ্য নতুন নয়। ট্রেজারির একটি বড় শাখা ডার্লিংটনে খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কর্ম ও পেনশন বিভাগের একটি অংশ লিডসে রয়েছে। কিন্তু বার্নহামের পরিকল্পনায় পার্থক্য হলো—এখানে শুধু কর্মকর্তাদের ভৌগোলিক অবস্থান বদলানো নয়, রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রকেও সরানোর চেষ্টা রয়েছে।
এটি সফল হলে ওয়েস্টমিনস্টারের সেই প্রশাসনিক সংস্কৃতিকে পাশ কাটানো সম্ভব হতে পারে, যাকে অনেক সময় পরিবর্তনের পথে অদৃশ্য বাধা হিসেবে দেখা হয়। কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষকদের সাম্প্রতিক মূল্যায়নও দেখিয়েছে, অতীতের সরকারগুলো আঞ্চলিক বিকেন্দ্রীকরণকে অর্থবহ পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক শক্তি দেখাতে পারেনি। ফলে রাজধানীর বাইরে থাকা মানুষের কাছে সরকারের কাঠামোগত পরিবর্তন প্রায় অদৃশ্যই থেকেছে।
বার্নহামের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত এখানেই—তিনি এই প্রকল্পটিকে নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছেন।
প্রতীক কি কাঠামোগত পরিবর্তনের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন ম্যানচেস্টার কার্যালয়ের স্থায়ী ভবন ২০৩২ সালে চালু হওয়ার কথা। এর অর্থ, প্রকল্পটির পূর্ণ ফল দেখতে বর্তমান রাজনৈতিক মেয়াদের বাইরেও যেতে হবে। প্রশ্ন হলো, বার্নহাম ক্ষমতায় না থাকলে পরবর্তী সরকার কি এই কাঠামো বজায় রাখবে?
এটাই প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে ব্যক্তিনির্ভর উদ্যোগের উদাহরণ কম নয়। কোনো নেতার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অগ্রাধিকারও হারিয়ে গেছে। ফলে ‘নম্বর ১০ নর্থ’ যদি শুধু বার্নহামের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ব্র্যান্ডের অংশ হয়ে থাকে, তাহলে এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
কিন্তু যদি এটি ধীরে ধীরে সরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্থায়ী কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে এর প্রভাব অনেক গভীর হতে পারে।
সমালোচকেরা ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতার প্রশ্ন তুলছেন। কর্মকর্তাদের বিভিন্ন শহরে যাতায়াত, নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকে নতুনভাবে ভাগ করার খরচও কম নয়। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—লন্ডনের বাইরে গিয়ে সত্যিই কতটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে?
তবু প্রতীকের শক্তিকে ছোট করে দেখা ঠিক হবে না।
লন্ডনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়, ভারসাম্য
বার্নহামের প্রকল্পকে লন্ডনবিরোধী আন্দোলন হিসেবে দেখলে ভুল হবে। লন্ডনের বৈশ্বিক অবস্থান এত শক্তিশালী যে ম্যানচেস্টারে কিছু ক্ষমতা স্থানান্তরিত হলেও রাজধানীর গুরুত্ব কমে যাওয়ার সম্ভাবনা সামান্য। লন্ডনের প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার নয়; বরং নিউইয়র্ক বা দুবাইয়ের মতো বৈশ্বিক শহরগুলো।
প্রশ্নটি তাই লন্ডনকে দুর্বল করার নয়। প্রশ্ন হলো, ব্রিটেন কি এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করতে পারে, যেখানে একাধিক শহর নিজেদের সম্ভাবনা অনুযায়ী বিকশিত হবে?
ম্যানচেস্টার, লিভারপুল, লিডস বা অন্যান্য আঞ্চলিক শহর যদি নিজেদের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও জনসেবার বিষয়ে বেশি সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তাহলে জাতীয় প্রবৃদ্ধির ভিত্তিও বিস্তৃত হতে পারে। তবে এখানেও সতর্কতা প্রয়োজন। বড় শহরগুলোর উন্নয়নের সুফল যেন আশপাশের ছোট শহর, গ্রামীণ অঞ্চল এবং অপেক্ষাকৃত জনবিরল এলাকাগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে যায়।
বিকেন্দ্রীকরণের সাফল্য তখনই অর্থবহ হবে, যখন এটি শুধু নতুন আঞ্চলিক ক্ষমতাকেন্দ্র তৈরি করবে না, বরং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত করবে।
ব্রিটিশ রাজনীতিতে আঞ্চলিক ক্ষোভ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শিল্পোত্তর অঞ্চলগুলোর অসন্তোষ নতুন রাজনৈতিক শক্তির জন্য জায়গা তৈরি করছে। এই বাস্তবতায় ক্ষমতার কাঠামোকে লন্ডনের বাইরে পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা কেবল প্রশাসনিক সংস্কার নয়; এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতারও একটি পরীক্ষা।
বার্নহামের উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে তিনি কতটা ক্ষমতা বাস্তবে স্থানীয় পর্যায়ে হস্তান্তর করতে পারেন এবং তাঁর পরবর্তী সরকারগুলো সেই ব্যবস্থা কতটা টিকিয়ে রাখে তার ওপর। কিন্তু দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীভূত ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থায় প্রশ্নটি নতুন করে তোলাটাই গুরুত্বপূর্ণ।
লন্ডনকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন নেই। বরং এখন সময় এসেছে ব্রিটেনের অন্য শহর ও অঞ্চলগুলোকে নিজেদের শক্তিতে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়ার। ‘নম্বর ১০ নর্থ’ যদি সেই পরিবর্তনের স্থায়ী সূচনা হয়ে উঠতে পারে, তাহলে এটি একটি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগের চেয়ে অনেক বড় রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হয়ে উঠবে।
রোজা প্রিন্স 


















