প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক উদ্বেগের বিষয়ে নয়াদিল্লির জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম সালেহ (সালেহ শিবলী) ইউএনবিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস শুক্রবার জানিয়েছে, আগামী ২৩ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো সফরের তারিখ বা আয়োজন চূড়ান্ত করা হয়নি।
রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রস্তুতির তথ্য প্রত্যাহার
সম্ভাব্য সফর ঘিরে শুক্রবার ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও পরে সেই তথ্য প্রত্যাহার করা হয়। ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে জানায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মহড়ার কারণে ২২ আগস্ট রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান হবে না। পরে বিবৃতিটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এর মধ্যেই বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে যোগাযোগ করে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় সেই প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকার অবস্থান
গত ১৬ আগস্ট বাংলাদেশ ভারতকে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামিদের দ্রুত প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানায়। একই সঙ্গে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদেরও দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম শুক্রবার বলেন, এ বিষয়ে তারা ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যের পর সফর নিয়ে চলমান প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানও ভারতকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
প্রথম সফর দ্বিপক্ষীয় চান উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বৃহস্পতিবার বলেন, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর কোনো বহুপক্ষীয় সম্মেলনের ফাঁকে নয়, সরাসরি দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সমঝোতার ভিত্তি তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, সফরের সময় এমন হতে হবে, যখন দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের দিক থেকে ইতিবাচক কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মোদির আমন্ত্রণ, সম্মানজনক অভ্যর্থনার আশ্বাস
এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে ভারতে সম্মানজনক অভ্যর্থনা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের মাধ্যমে বিদ্যমান বিভিন্ন বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও অংশ নিতে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। এ বিষয়ে অগ্রগতি হলে তা জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















