সম্পর্কের বরফ গলছে, কিন্তু অর্থনীতিতে দ্বিধা
ব্রিকস সম্মেলনের আর মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময় বাকি। এর মধ্যেই ভারত ও চীনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে উষ্ণ হচ্ছে। গত ২২ জুলাই পূর্ব এশিয়া সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পাঁচ দিন পর ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি চীন সফর করেন। গত সপ্তাহে সীমান্ত ইস্যুতে আলোচনার জন্য ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও বেইজিং সফর করেছেন।
তবে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হলেও চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান এখনো দ্বিধাগ্রস্ত। একদিকে ভারত চীনের পুঁজি, প্রযুক্তি ও দক্ষতা কাজে লাগাতে চায়, অন্যদিকে এসবের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতাই ভারতের লক্ষ্য
চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে ভারতের লক্ষ্য হলো উৎপাদন খাতে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা।
অর্থাৎ ভারত শুধু চীনা বিনিয়োগ বা প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে চায় না; বরং চীনের শক্তিশালী উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে পাল্লা দিতে নিজেদের শিল্পভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে চায়।
নিষেধাজ্ঞার পরও বাড়ছে বাণিজ্য
২০২০ সালের পর চীনা বিনিয়োগের ওপর ভারতের আরোপ করা ব্যাপক বিধিনিষেধের ছয় বছর পরও দুই দেশের বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ৩১ মার্চ শেষ হওয়া অর্থবছরে ভারত ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
চীন এখনো ভারতের সবচেয়ে বড় আমদানি উৎস। চার বছর পর চীন আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত হয়েছে।
তিন ধাপে বদলেছে ভারতের নীতি

চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান গত কয়েক বছরে তিনটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত হয়েছে। প্রথমে ভারত চীনা অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছিল। ২০২০ সালের পর সেই অবস্থান বদলে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধের দিকে যায়। এখন আবার ধীরে ধীরে, সতর্ক ও নিয়ন্ত্রিতভাবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্মুক্ত করার পথে এগোচ্ছে নয়াদিল্লি।
কিন্তু এখানেই ভারতের সামনে বড় প্রশ্ন—চীনের অর্থনীতি ও প্রযুক্তির সুযোগ কতটা গ্রহণ করবে, আর জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তার স্বার্থে কোথায় সীমারেখা টানবে।
চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে ভারতকে যেমন দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে, তেমনি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ থেকেও পুরোপুরি দূরে থাকা সম্ভব নয়। ফলে সম্পর্কের উষ্ণতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক নীতিতেও ভারতকে এখন আরও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















