ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে চলতি মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ ভোট হতে যাচ্ছে। বিষয়টি ঘিরে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর নতুন করে তীব্র মতবিরোধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
১৭ সেপ্টেম্বর ভোট
ফ্রান্স জানিয়েছে, ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ নবায়নের বিষয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর ভোট হতে পারে। চলতি সেপ্টেম্বরে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে ফ্রান্স।
প্যানেলটির বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে ২৬ সেপ্টেম্বর। একই সময়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা জড়ো হবেন। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধও এবারের অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে।
ফ্রান্সের জাতিসংঘবিষয়ক রাষ্ট্রদূত জেরোম বনাফোঁ বলেন, চলতি মাসে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং জাতিসংঘের বাধ্যবাধকতা পালনে তেহরানের ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
রাশিয়া-চীনের আপত্তি
ইরানবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী প্যানেলের মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগে রাশিয়া ও চীন আপত্তি জানিয়ে আসছে। দুই দেশই মনে করে, ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের আগের মতো কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই।
ফলে ভোটে রাশিয়া ও চীন ভেটো দিলে প্যানেলের মেয়াদ নবায়নের উদ্যোগ বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। গত মার্চে এক যৌথ বিবৃতিতে দেশ দুটি জানিয়েছিল, নিরাপত্তা পরিষদ ইরানবিষয়ক ১৭৩৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটি বা এর বিশেষজ্ঞ প্যানেল পুনর্বহালের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারে না।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা তদারকির জন্য ২০০৬ সালে এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। জাতিসংঘের যে প্রস্তাবের মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়, সেটির নম্বর ১৭৩৭ হওয়ায় কমিটিটিও ওই নামে পরিচিত।
নিষেধাজ্ঞা ফেরানোর পটভূমি
ইরানকে ঘিরে বর্তমান বিরোধের সূত্রপাত গত বছর। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি জাতিসংঘের তথাকথিত ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেয়। এর ফলে ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তির আওতায় তুলে নেওয়া জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলো আবার কার্যকর করা হয়।
ইউরোপীয় দেশগুলোর অভিযোগ ছিল, তেহরান পরমাণু কর্মসূচি সীমিত রাখার বিষয়ে চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে না।

ইরান অবশ্য বরাবরই পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের দাবি, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে উদ্বেগ
তবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। কারণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি পরমাণু অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা সম্ভব।
এ কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, ইরান হয়তো এখনই পরমাণু অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়নি, কিন্তু ভবিষ্যতে দ্রুত এমন অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের পথ খোলা রাখছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের আসন্ন ভোট তাই শুধু একটি পর্যবেক্ষণকারী প্যানেলের মেয়াদ বাড়ানোর প্রশ্ন নয়; এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর কূটনৈতিক সংঘাতও আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















