হিমালয়ঘেঁষা নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরও দেশটি এখনো সামলে উঠতে পারেনি বিপর্যয়ের ধাক্কা। পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় নদীপথের নিচের দিকে থাকা বহু গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যোগাযোগ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো। প্রাণহানির সংখ্যা ১ হাজার ২৮৭-তে পৌঁছেছে, আর নেপাল ও চীনে ৫ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ।
এই বিপর্যয়ের পর আন্তর্জাতিক সহায়তা ও পুনর্বাসন নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে। কিন্তু নেপালের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন শুধু কত অর্থ সহায়তা পাওয়া যাবে, তা নয়। আরও বড় প্রশ্ন হলো—যে অবকাঠামো ও বসতি আবার গড়ে তোলা হবে, সেগুলো কি আগের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে, নাকি এই সুযোগে একটি নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল নেপাল তৈরি করা হবে?
এই পার্থক্যটিই ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের সাফল্য নির্ধারণ করবে।
জলবায়ু ন্যায্যতার দাবি
নেপাল সরকার এবারের দুর্যোগকে শুধু মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখছে না। নতুন প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ-সমর্থিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা তহবিলের কাছে সরকার জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছে। অর্থমন্ত্রী শিষির খানালের বক্তব্য অনুযায়ী, পুনর্বাসন ও পুনরুদ্ধারকে কেবল দ্বিপক্ষীয় সাহায্য বা বহুপক্ষীয় অনুদানের কাঠামোয় দেখলে চলবে না; এর সঙ্গে জলবায়ু ন্যায্যতার প্রশ্নও যুক্ত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহও সংসদে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনে পুরো বিশ্বই কোনো না কোনোভাবে অবদান রেখেছে এবং এর প্রভাব মোকাবিলা করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ দায়িত্ব।
নৈতিক ও বৈজ্ঞানিক দিক থেকে নেপালের এই অবস্থানের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্ষতিপূরণের দাবি প্রতিষ্ঠা করা শুধু নৈতিক যুক্তির বিষয় নয়। এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী তথ্য, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট হিসাব।
কোন অবকাঠামো কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কত মানুষ জীবিকা হারিয়েছে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কতটা ব্যাহত হয়েছে, কৃষি ও পরিবেশের ক্ষতি কত, দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারে কত ব্যয় হবে—এসব তথ্য সুসংগঠিতভাবে নথিভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে দেখাতে হবে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
এখানেই নেপালের সামনে কঠিন রাজনৈতিক ও আইনি বাস্তবতা। মানবিক সহায়তা সাধারণত স্বেচ্ছামূলক। কিন্তু ক্ষতিপূরণ বা জলবায়ু পুনরুদ্ধারের দাবি মূলত দায় স্বীকারের সঙ্গে যুক্ত। বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলো সেই দায় কতটা গ্রহণ করবে, তা তাদের নিজস্ব রাজনীতি ও স্বার্থের ওপরও নির্ভর করবে।
শুধু জলবায়ুকে দায়ী করলেই চলবে না
তবে নেপালের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে হলে একটি অস্বস্তিকর সত্যও স্বীকার করতে হবে। এই দুর্যোগের সব ক্ষতির ব্যাখ্যা শুধু জলবায়ু পরিবর্তন দিয়ে করা যাবে না।
বছরের পর বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ নদী অববাহিকায় বসতি বিস্তার, যথাযথ ঝুঁকি মূল্যায়ন ছাড়া সড়ক ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ এবং হিমবাহনির্ভর নদীর তীরে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো স্থাপন—এসব সিদ্ধান্তের পেছনে নেপালের নিজস্ব রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতাও রয়েছে।
অর্থাৎ এবারের বিপর্যয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি বাড়িয়ে থাকলেও মানুষের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকিকে আরও ভয়াবহ করেছে।
এই বাস্তবতা অস্বীকার করলে আন্তর্জাতিক ক্ষতিপূরণের দাবিও দুর্বল হতে পারে। বরং নেপালের উচিত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা ও শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা—দুই বিষয়কেই আলাদা করে বিশ্লেষণ করা। এতে ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনাও আরও বাস্তবসম্মত হবে।
অর্থনীতির ওপর দীর্ঘস্থায়ী আঘাত
বিপর্যয়ের তাৎক্ষণিক মানবিক ক্ষতির বাইরে নেপালের অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। গত বছরের তরুণদের আন্দোলনের পর ক্ষমতায় আসা আরএসপি সরকার মাত্র ছয় মাস ধরে দেশ পরিচালনা করছে। অর্থনীতি সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান তৈরির যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ছিল, তার মাঝেই এখন কয়েক শ কোটি ডলারের পুনর্গঠনের চাপ এসে পড়েছে।
অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে প্রাথমিকভাবে পুনরুদ্ধার ব্যয় ৫০০ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে বলে অনুমান করেছেন। তবে পূর্ণাঙ্গ পুনর্গঠন হিসাব করলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, মোট অর্থনৈতিক ক্ষতি ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের প্রভাবকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। সেই ভূমিকম্পে ক্ষতির পরিমাণ ছিল আনুমানিক ৭০০ থেকে ১ হাজার কোটি ডলার।
জলবিদ্যুৎ খাতের ক্ষতিই একা প্রায় ২০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে নেপালের স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদকদের সংগঠন। ক্ষতির প্রভাব এখানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও পরিবহন করিডর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পণ্য পরিবহন, বিদ্যুৎ, বিমান চলাচল, বীমা ও পুনর্বীমা এবং শেয়ারবাজার পর্যন্ত এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে।
অন্তত ৪০ কিলোমিটার সড়ক এবং ৪০টির বেশি যান চলাচলযোগ্য সেতু ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। বন্যার পানিতে দুর্বল হয়ে কৃষ্ণভীর এলাকায় পৃথ্বী মহাসড়কের একটি অংশ ত্রিশূলী নদীতে ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে ৬৬৯ মেগাওয়াট সম্মিলিত সক্ষমতার অন্তত ১২টি নদীনির্ভর জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নুয়াকোটের ২৫ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটিও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এই পরিসংখ্যানগুলো দেখাচ্ছে, দুর্যোগের ক্ষতি শুধু ভেঙে পড়া সড়ক বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের হিসাব নয়। একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ অচল হলে তার প্রভাব পণ্যের দামে, বাজারে সরবরাহে এবং মানুষের কর্মসংস্থানে গিয়ে পড়ে।
বিপর্যয় থেকে অবকাঠামোগত শিক্ষা
এবারের বন্যা নেপালের অবকাঠামো পরিকল্পনার একটি বড় দুর্বলতা স্পষ্ট করেছে। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বিবেচনায় না নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গড়ে তোলা হলে বড় বিনিয়োগও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিপর্যস্ত হতে পারে।
অথচ একই বন্যায় কিছু অবকাঠামো তুলনামূলকভাবে টিকে গেছে। ত্রিশূলী নদীর সরাসরি প্রবাহের পথে থাকা মুগলিং সেতু উঁচু কাঠামো এবং ইস্পাত ও কংক্রিটের খিলান নকশার কারণে অক্ষত ছিল। একইভাবে সুপার ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে তুলনামূলকভাবে সামান্য ক্ষতি হয়েছে। এর পেছনে নির্মাণের আগে বন্যার সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং নদীর সরাসরি প্রবাহ থেকে প্রকল্পের অবস্থান দূরে রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এই দুটি উদাহরণই নেপালের জন্য বড় শিক্ষা। দুর্যোগ সব সময় একই মাত্রায় সব অবকাঠামো ধ্বংস করে না; নকশা, অবস্থান এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন অনেক পার্থক্য তৈরি করে।
তাই পুনর্গঠনের লক্ষ্য শুধু ধ্বংস হওয়া সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র আগের জায়গায় আবার বানানো হতে পারে না। যদি পুরোনো ভুল নকশা ও একই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আবার একই ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়, তাহলে পরবর্তী দুর্যোগের জন্য নতুন ক্ষতির ভিত্তিই তৈরি হবে।
পুনর্গঠন মানেই নিরাপদ পুনর্গঠন
নেপালের এখন প্রয়োজন একটি জাতীয় পর্যায়ের ঝুঁকি-ভিত্তিক অবকাঠামো নীতি। বসতি, সড়ক, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কোথায় নির্মাণ করা যাবে, সে বিষয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ধারিত অঞ্চলভিত্তিক আইন কার্যকর করতে হবে।
বিশেষ করে বন্যাপ্রবণ নদীতীর ও নদী করিডরে বসতি স্থাপন নিয়ন্ত্রণ জরুরি। অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাজনক বলে কোনো জায়গাকে নিরাপদ ধরে নেওয়া যাবে না।
প্রকল্প অনুমোদনের আগে ভূপ্রকৃতি, বন্যার সম্ভাবনা, নদীর গতিপথ, ভূমিকম্পের ঝুঁকি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে ভোতে কোশি-ত্রিশূলী করিডরকে জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার জাতীয় মডেল হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ জলবিদ্যুৎ ও পরিবহন অবকাঠামোর নকশা পুনর্বিবেচনা, দ্রুত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, নদীর পানির তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, নিরাপদ সরিয়ে নেওয়ার পথ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থানান্তর—সবকিছু একই পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।
উপগ্রহ প্রযুক্তি, ভূকম্পন ও বৈশ্বিক উপগ্রহভিত্তিক অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা, হিমবাহ ও চিরতুষার পর্যবেক্ষণ, নদীর পানি পরিমাপক এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীভিত্তিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থাকে একত্রে ব্যবহার করা এখন আর বিলাসিতা নয়। পাহাড়ি দেশের জন্য এগুলো ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার মৌলিক অবকাঠামো।
পর্যটনকে ভয় নয়, আস্থার বার্তা
দুর্যোগের আন্তর্জাতিক প্রচার নেপালের পর্যটন খাতের ওপরও চাপ তৈরি করেছে। সামনে উৎসব ও পর্যটন মৌসুম। এর মধ্যেই চীনমুখী ত্রিশূলী-রাসুওয়াগড়ি-গিয়েরং সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বিরগঞ্জের পর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনপথ। তাতোপানি বাণিজ্যকেন্দ্রও নতুন বন্যার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কাঠমান্ডু, পোখারা, বিরগঞ্জ ও ধানগড়ির সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পৃথ্বী মহাসড়কের কয়েকটি অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নাগঢুঙ্গা-নওবিসে সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ায় রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থায় আরও চাপ তৈরি হয়েছে। বিকল্প সড়ক চালু করা হলেও মেরামতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
স্বাভাবিকভাবেই এসব ঘটনার প্রভাব পর্যটনেও পড়েছে। কিছু পর্যটন প্রতিষ্ঠান ও হোটেল শরৎ মৌসুমের বুকিং বাতিলের কথা জানিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাও মনে রাখা দরকার—বিপর্যয়টি নেপালের নির্দিষ্ট কয়েকটি উপত্যকায় কেন্দ্রীভূত, পুরো দেশ অচল হয়ে যায়নি।
নেপাল পর্যটন বোর্ড তাই দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পর্যটকদের ভ্রমণের আহ্বান জানিয়েছে। ‘আপনার ভ্রমণ গুরুত্বপূর্ণ’ প্রচারণার মূল যুক্তিটিও বাস্তব: পর্যটকদের উপস্থিতি শুধু আনন্দভ্রমণ নয়, দুর্যোগের পর স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখার একটি উপায়।
তবে পর্যটন পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রেও তথ্যের স্বচ্ছতা জরুরি। কোথায় যাওয়া নিরাপদ, কোন সড়ক চালু, কোন অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে না পারলে আতঙ্ক বাস্তব ঝুঁকির চেয়েও বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি করতে পারে।
সবচেয়ে বড় পুনর্গঠন মানুষের
অবকাঠামোর ক্ষতি দৃশ্যমান। কিন্তু মানুষের ক্ষতি অনেক বেশি গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী। হাজার হাজার মানুষ শুধু স্বজন হারাননি; তারা ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, কর্মসংস্থান, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং জীবিকার ভিত্তিও হারিয়েছেন।
রাসুওয়ার তিমুরে ও সিয়াফ্রুবেশি, ঐতিহাসিক ত্রিশূলী ও বেত্রাবতীর মতো বাণিজ্যকেন্দ্রগুলো পলি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। যাদের থাকার মতো ঘর নেই কিংবা জীবিকা ফেরানোর সুযোগ নেই, তাদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত শহর অথবা দেশের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হতে পারেন।
তাই পুনর্গঠনের অর্থনীতিকে শুধু বড় প্রকল্পের অর্থনীতি বানালে চলবে না। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে পুনর্গঠনের সক্রিয় অংশীদার করতে হবে। দক্ষ ও অদক্ষ স্থানীয় শ্রমশক্তিকে পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে যুক্ত করা যেতে পারে। কোথাও নদীর করিডরকে পুনরায় কৃষির উপযোগী করার সুযোগও তৈরি হতে পারে।
সবচেয়ে জরুরি হলো, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘর পুনর্নির্মাণ, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসা পুনরায় চালু করা, বাজারে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা। সহায়তা দ্রুত পৌঁছাতে হবে, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো তা যেন ন্যায্য, স্বচ্ছ এবং সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষের কাছে আগে পৌঁছে।
নেপালের সামনে তাই দুটি পথ। একটি হলো পুরোনো কাঠামোকে সামান্য মেরামত করে আবার একই জায়গায় একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি করা। অন্যটি হলো এবারের বিপর্যয়কে একটি কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় পুনর্বিবেচনার সুযোগ হিসেবে দেখা।
দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের দায় নিয়ে আন্তর্জাতিক ন্যায্যতার দাবি নেপাল তুলতেই পারে। কিন্তু সেই দাবির পাশাপাশি দেশের নিজের উন্নয়ন পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনতে হবে। কারণ নিরাপদ ভবিষ্যৎ শুধু বাইরের অর্থায়নে তৈরি হয় না; সঠিক সিদ্ধান্ত, বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছাও তার সমান গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
এবারের শিক্ষা তাই একেবারে পরিষ্কার: পুনর্গঠন মানে শুধু যা হারিয়েছে তা ফিরিয়ে আনা নয়। পুনর্গঠনের আসল সাফল্য হবে এমন একটি নেপাল তৈরি করা, যেখানে পরবর্তী দুর্যোগ একইভাবে মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎকে ভেঙে দিতে না পারে।
শ্রিষ্টি কার্কি 



















