০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর ব্রিটেনে ছুরি হামলার পর উত্তেজনা, উসকে দিচ্ছে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির দেশে ফেরা, বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ২১ জঙ্গি, মোট নিহত ৪৮ লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতালেন লিসা, কেপপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় ইউটিউব থেকে হলিউড: নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা কি বদলে দিচ্ছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ? গুগলের নতুন এআই চিপে স্যামসাং? ‘আইসফিশ’ প্রকল্পে বড় চুক্তির আলোচনায় দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট ইরান যুদ্ধের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা: চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থেকেও কেন কঠিন অবস্থানে তেহরান পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি বিতর্ক: অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশি অভিযানে মমতার অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে ঘিরে ইডির তল্লাশি

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১২৮)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৪
  • 151

শ্রী নিখিলনাথ রায়

তিনি কুঞ্জটি দেখিয়াছিলেন বলিয়া উল্লেখ করিয়া গিয়াছেন। বর্তমান পলাশী গ্রামের উত্তর-পূর্ব্ব ও নবগ্রাম তেজনগরের দক্ষিণ পূর্ব্বে একটি আম্রবৃক্ষ আছে। লোকে বলিয়া থাকে যে, অষ্টাদশ শতাব্দীর আঁম্রকুঞ্জ বা লাখবাগের দক্ষিণ-পূর্ব্ব কোণের আমবুকের নিকট তাহারই বীজ হইতে উক্ত বৃক্ষের উৎপত্তি হই- তাছে। যেখানে শেষ আম্রবৃক্ষটি ছিল, অর্থাৎ যাহা ১৮৭৯ খৃঃ অব্দে শুকাইয়া যায়, তাহা হইতে প্রায় ৬০/৭০ হস্ত দক্ষিণ পূর্ব্বে বেঙ্গল গবর্ণমেন্ট কর্তৃক ১৮৮৩ খৃঃ অব্দে একটি গ্রানাইট্ প্রস্তরের বিজয়গুপ্ত নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল। ১৯০৯ খৃঃ অব্দে লর্ড কর্জনের অনুমতিক্রমে তদপেক্ষা একটি বৃহৎকায় মনুমেন্ট ও তাহার নিকট দর্শকগণের বিশ্রামের জন্য একটি গৃহ ‘নির্মিত হইয়াছে।

তদ্‌ভিন্ন রেনেলের যুদ্ধ-চিত্রানুযায়ী উভয় পক্ষের সৈন্য সংস্থান-প্রদর্শনের জন্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্তন্তও স্থাপিত হইয়াছে। পুরাতন স্তম্ভের নিকট একটি তিন্তিড়ী ও বওলা বৃক্ষের ছায়াতলে দৌলত আলি নামে জনৈক মুসলমান সৈনিক কর্মচারীর সমাধি আছে; কেহ কেহ তাহাকে আকবর আলিও বলিয়া থাকে। দৌলত আলি পলাশীযুদ্ধে প্রাণত্যাগ করেন বলিয়া কথিত। তাঁহার সমাধিকে হিন্দুমুসল মানে সমভাবে সম্মান করিয়া থাকে। অষ্টাদশ শতাব্দীর আম্রকুঞ্জের ও পুরাতন বিজয়স্তম্ভের নিকট একখানি নূতন গ্রাম স্থাপিত হইয়াছে; তাহাকে তেজনগর কহে। তেজনগরের পশ্চিমপারে রামনগর কুঠী; রামনগর পূর্ব্বেও ভাগীরথীর পশ্চিম পারেই ছিল; রেনেলের মানচিত্রে তাহাই দেখা যায়।

পলাশীগ্রাম হইতে তেজনগর প্রায় অর্দ্ধক্রোশ উত্তরে অবস্থিত। পূর্ব্বোক্ত নবজাত আম্রবৃক্ষ হইতে প্রায় ১৮০০ হস্ত উত্তরে পূর্ব বিভাগের পুরাতন বাঙ্গলার নিকটে কতকগুলি উচ্চ জমি দেখা যায়; সেগুলি ইংরেজদিগের বুরুজের চিহ্ন বলিয়া লোকে নির্দেশ করিয়া থাকে। তথায় কতিপয় বিষবৃক্ষ জন্মগ্রহণ করিয়াছে। এই স্থান হইতে নবজাত আম্রবৃক্ষ পৰ্য্যন্ত মধ্যে মধ্যে পরিখার চিহ্ন দেখা যায়, তাহা আত্র- কুঞ্জের পূর্ব্বসীমা বলিয়া কথিত হইয়া থাকে এবং অম্লাপি ঐ স্থানকে লোকে লাখবাগও বলিয়া থাকে। প্রাতঃস্মরণীয়া রাণী ভবানী লক্ষ আম্রবৃক্ষের বাগান করিয়াছিলেন- বলিয়া শ্রুত হওয়া যায়।

পলাশী পরগণার কিয়দংশ এককালে তাঁহারই জমীদারীর অন্তর্ভূত ছিল; তজ্জন্য উক্ত প্রবাদ নিতান্ত অমূলক বলিয়া বোধ হয় না। লাখবাগ বা অষ্টাদশ শতাব্দীর আম্রকুঞ্জ বর্তমান না থাকিলেও ঐ সমস্ত চিহ্নের দ্বারা তাহার স্থান নির্ণয় করা যাইতে পারে। পুরাতন বাঙ্গলার নিকট একটি পুষ্করিণী দেখিতে পাওয়া যায়, তাহার নাম কালী- কূপ। কালীকূপ যুদ্ধস্থলের পুষ্করিণী নহে; ভাগীরথীর জলপ্লাবনে বাঁধ ভগ্ন হওয়ায় ইহার উৎপত্তি হইয়াছে বলিয়া অনুমিত হয়। পূর্ব্বোক্ত বাঙ্গলা হইতে পশ্চিম দিকে বর্তমান চরভূমিতে স্থানীয়লোকে নবাবের ‘শিকার- ভবনের স্থান নির্দেশ করিয়া থাকে। ১৭৮০ খৃঃ অব্দে হজেজ সাহেব: তাহা দর্শন করিয়াছিলেন। রেনেলের মানচিত্র অঙ্কনের সময়ও তাহা বিদ্যমান ছিল।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১২৮)

১১:০০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

তিনি কুঞ্জটি দেখিয়াছিলেন বলিয়া উল্লেখ করিয়া গিয়াছেন। বর্তমান পলাশী গ্রামের উত্তর-পূর্ব্ব ও নবগ্রাম তেজনগরের দক্ষিণ পূর্ব্বে একটি আম্রবৃক্ষ আছে। লোকে বলিয়া থাকে যে, অষ্টাদশ শতাব্দীর আঁম্রকুঞ্জ বা লাখবাগের দক্ষিণ-পূর্ব্ব কোণের আমবুকের নিকট তাহারই বীজ হইতে উক্ত বৃক্ষের উৎপত্তি হই- তাছে। যেখানে শেষ আম্রবৃক্ষটি ছিল, অর্থাৎ যাহা ১৮৭৯ খৃঃ অব্দে শুকাইয়া যায়, তাহা হইতে প্রায় ৬০/৭০ হস্ত দক্ষিণ পূর্ব্বে বেঙ্গল গবর্ণমেন্ট কর্তৃক ১৮৮৩ খৃঃ অব্দে একটি গ্রানাইট্ প্রস্তরের বিজয়গুপ্ত নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল। ১৯০৯ খৃঃ অব্দে লর্ড কর্জনের অনুমতিক্রমে তদপেক্ষা একটি বৃহৎকায় মনুমেন্ট ও তাহার নিকট দর্শকগণের বিশ্রামের জন্য একটি গৃহ ‘নির্মিত হইয়াছে।

তদ্‌ভিন্ন রেনেলের যুদ্ধ-চিত্রানুযায়ী উভয় পক্ষের সৈন্য সংস্থান-প্রদর্শনের জন্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্তন্তও স্থাপিত হইয়াছে। পুরাতন স্তম্ভের নিকট একটি তিন্তিড়ী ও বওলা বৃক্ষের ছায়াতলে দৌলত আলি নামে জনৈক মুসলমান সৈনিক কর্মচারীর সমাধি আছে; কেহ কেহ তাহাকে আকবর আলিও বলিয়া থাকে। দৌলত আলি পলাশীযুদ্ধে প্রাণত্যাগ করেন বলিয়া কথিত। তাঁহার সমাধিকে হিন্দুমুসল মানে সমভাবে সম্মান করিয়া থাকে। অষ্টাদশ শতাব্দীর আম্রকুঞ্জের ও পুরাতন বিজয়স্তম্ভের নিকট একখানি নূতন গ্রাম স্থাপিত হইয়াছে; তাহাকে তেজনগর কহে। তেজনগরের পশ্চিমপারে রামনগর কুঠী; রামনগর পূর্ব্বেও ভাগীরথীর পশ্চিম পারেই ছিল; রেনেলের মানচিত্রে তাহাই দেখা যায়।

পলাশীগ্রাম হইতে তেজনগর প্রায় অর্দ্ধক্রোশ উত্তরে অবস্থিত। পূর্ব্বোক্ত নবজাত আম্রবৃক্ষ হইতে প্রায় ১৮০০ হস্ত উত্তরে পূর্ব বিভাগের পুরাতন বাঙ্গলার নিকটে কতকগুলি উচ্চ জমি দেখা যায়; সেগুলি ইংরেজদিগের বুরুজের চিহ্ন বলিয়া লোকে নির্দেশ করিয়া থাকে। তথায় কতিপয় বিষবৃক্ষ জন্মগ্রহণ করিয়াছে। এই স্থান হইতে নবজাত আম্রবৃক্ষ পৰ্য্যন্ত মধ্যে মধ্যে পরিখার চিহ্ন দেখা যায়, তাহা আত্র- কুঞ্জের পূর্ব্বসীমা বলিয়া কথিত হইয়া থাকে এবং অম্লাপি ঐ স্থানকে লোকে লাখবাগও বলিয়া থাকে। প্রাতঃস্মরণীয়া রাণী ভবানী লক্ষ আম্রবৃক্ষের বাগান করিয়াছিলেন- বলিয়া শ্রুত হওয়া যায়।

পলাশী পরগণার কিয়দংশ এককালে তাঁহারই জমীদারীর অন্তর্ভূত ছিল; তজ্জন্য উক্ত প্রবাদ নিতান্ত অমূলক বলিয়া বোধ হয় না। লাখবাগ বা অষ্টাদশ শতাব্দীর আম্রকুঞ্জ বর্তমান না থাকিলেও ঐ সমস্ত চিহ্নের দ্বারা তাহার স্থান নির্ণয় করা যাইতে পারে। পুরাতন বাঙ্গলার নিকট একটি পুষ্করিণী দেখিতে পাওয়া যায়, তাহার নাম কালী- কূপ। কালীকূপ যুদ্ধস্থলের পুষ্করিণী নহে; ভাগীরথীর জলপ্লাবনে বাঁধ ভগ্ন হওয়ায় ইহার উৎপত্তি হইয়াছে বলিয়া অনুমিত হয়। পূর্ব্বোক্ত বাঙ্গলা হইতে পশ্চিম দিকে বর্তমান চরভূমিতে স্থানীয়লোকে নবাবের ‘শিকার- ভবনের স্থান নির্দেশ করিয়া থাকে। ১৭৮০ খৃঃ অব্দে হজেজ সাহেব: তাহা দর্শন করিয়াছিলেন। রেনেলের মানচিত্র অঙ্কনের সময়ও তাহা বিদ্যমান ছিল।