০৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
চেতনা কি পাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা? মস্তিষ্কের কোষ সিলিকনে বসিয়ে নতুন পথে বিজ্ঞান জেসন আরডেকে মানুষ নয়, প্রতীকে পরিণত করার মূল্য: ক্যামব্রিজ নিয়ে দ্য ইকোনমিস্টের প্রশ্ন বিমান চলাচলের ‘কনট্রেইল’ কমিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন অর্ধেক কমানোর সম্ভাবনা কাঁঠাল, টোফু ও পাম হার্টেই কাঁকড়ার স্বাদ, জনপ্রিয় হচ্ছে ভেগান রেসিপি রাশিয়ার তেল নিয়ে চীনের কৌশল, চাপে ভারতের জ্বালানি বাজার অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লু শনাক্ত চীনে কি এবার চকলেটের জোয়ার? স্থানীয় ব্র্যান্ডের উত্থানে বদলাচ্ছে চীনা রুচি চীনে নব্বইয়ের দশকের নস্টালজিয়া: অর্থনৈতিক হতাশায় ফিরছে ‘সুযোগের সময়’ ক্যানসার নির্ণয়ের পর প্রথম জনসম্মুখে লুসি ডেভিস, ভক্তদের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত দক্ষিণ থাইল্যান্ডে সমন্বিত অগ্নিসংযোগ, আহত ২

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৪০)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৪
  • 152

শ্রী নিখিলনাথ রায়

ইহার উপর আবার তাঁহাকে ঐতিহাসিকগণের চিত্রে কালিমামণ্ডিত হইতে হইয়াছে। খোশ বাগের সমাধিগৃহে আলিবন্দীর পার্শ্বে এক্ষণে সিরাজ চিরবিশ্রাম লাভ করিতে। ছেন। মুতাক্ষরীনকার বলেন যে, সিরাজের হত্যাসম্বন্ধে মীরজাফর কিছুই জানিতেন না; কিন্তু রিয়াজুস্ সালাতীনকার উল্লেখ করিয়াছেন। যে, জগৎশেঠ ও ইংরেজসদ্দার সিরাজের হত্যাকাণ্ডের জন্য মীরজাফরকে পরামর্শ দিয়াছিলেন।। কোন্ বিবরণ সত্য, তাহা আমরা সাহস করিয়া বলিতে পারি না। সিরাজের পূর্ব্ব পার্শ্বে তাঁহার ভ্রাতা মির্জা মেহেদী শায়িত রহি- য়াছেন। মির্জা মেহেদী পঞ্চদশ বৎসরে মীরজাফরের আদেশে জীবন বিসর্জন দিতে বাধ্য হয়।

তাঁহারও হত্যাকাণ্ডে মীরণই নেতৃত্ব গ্রহণ’ করিয়াছিলেন। মীরজাফর সিংহাসনে উপবিষ্ট হইলে, রায়দুর্লভের সহিত তাঁহার মনোবিবাদ উপস্থিত হয়। মীরজাফর মসনদে বসিলে, আলিবন্দী ও সিরাজের পরিবারবর্গকে বন্দিদশার বাস করিতে হয়। মির্জা মেহেদীকেও কারাযন্ত্রণা ভোগ করিতে হইয়াছিল। রায়হলপ্ত মির্জা মেহেদীকে কারাগার হইতে মুক্ত করিবার চেষ্টা করিলে, তিনি গাছে মির্জা মেহেদীকে সিংহাসন প্রদান করেন, এই সন্দেহ করিয়া, মীরজাফর মারণকে তাঁহার বিনাশের জন্য আদেশ দেন। মীরণ হত্যাকাণ্ডের ব্যবস্থায় বিলক্ষণ পারদর্শী ছিলেন।

তিনি তৎক্ষণাৎ মির্জা মেহেদীর হত্যার ব্যবস্থা করিয়া দিলেন। তদীয় আদেশানুসারে মির্জা মেহেদীর দুই পার্শ্বে দুই খানি তক্তা বিন্যাস করিয়া, সুদৃঢ় রজ্জুর বেষ্টন দ্বারা সেই তক্তা দুই খানিকে চাপিয়া তাহার প্রাণসংহার করা হয়। এই অদ্ভুত উপায়ে পঞ্চদশবৎসরবয়স্ক বালকের ঈদৃশ নিষ্ঠুর ভাবে হত্যার কথা যে শুনিয়াছিল, তাহারই নয়ন হইতে অশ্রুধারা নিপতিত হইয়া- ছিল। এই নৃশংস হত্যার পর তাহার মৃতদেহ আনিয়া খোশবাগে সিরাজের পার্শ্বেই সমাহিত করা হয়।

সিরাজের দক্ষিণে, তাঁহার পদতলে, তাঁহার প্রিয়তমা মহিষী লুৎফ উন্নেসা চিরনিদ্রিতা। স্বামীর মৃত্যুর পর ঢাকায় নির্ব্বাসনযন্ত্রণা ভোগ করিয়া, তিনি পুনর্ব্বার মুর্শিদাবাদে আসিয়া খোশবাগের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত হন। পরে অন্তিম কালে স্বামীর পদতল আশ্রয় করিয়া চিরশান্তি ভোগ করিতেছেন। যিনি কি সুখে, কি দুঃখে, চিরদিনই ছায়ার ন্যায় স্বামীর অনুবর্তন করিয়াছিলেন, তিনি স্বামীর পদতল ব্যতীত আর কোথায় চিরশায়িত থাকিতে পারেন?

জনপ্রিয় সংবাদ

চেতনা কি পাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা? মস্তিষ্কের কোষ সিলিকনে বসিয়ে নতুন পথে বিজ্ঞান

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৪০)

১১:০০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

ইহার উপর আবার তাঁহাকে ঐতিহাসিকগণের চিত্রে কালিমামণ্ডিত হইতে হইয়াছে। খোশ বাগের সমাধিগৃহে আলিবন্দীর পার্শ্বে এক্ষণে সিরাজ চিরবিশ্রাম লাভ করিতে। ছেন। মুতাক্ষরীনকার বলেন যে, সিরাজের হত্যাসম্বন্ধে মীরজাফর কিছুই জানিতেন না; কিন্তু রিয়াজুস্ সালাতীনকার উল্লেখ করিয়াছেন। যে, জগৎশেঠ ও ইংরেজসদ্দার সিরাজের হত্যাকাণ্ডের জন্য মীরজাফরকে পরামর্শ দিয়াছিলেন।। কোন্ বিবরণ সত্য, তাহা আমরা সাহস করিয়া বলিতে পারি না। সিরাজের পূর্ব্ব পার্শ্বে তাঁহার ভ্রাতা মির্জা মেহেদী শায়িত রহি- য়াছেন। মির্জা মেহেদী পঞ্চদশ বৎসরে মীরজাফরের আদেশে জীবন বিসর্জন দিতে বাধ্য হয়।

তাঁহারও হত্যাকাণ্ডে মীরণই নেতৃত্ব গ্রহণ’ করিয়াছিলেন। মীরজাফর সিংহাসনে উপবিষ্ট হইলে, রায়দুর্লভের সহিত তাঁহার মনোবিবাদ উপস্থিত হয়। মীরজাফর মসনদে বসিলে, আলিবন্দী ও সিরাজের পরিবারবর্গকে বন্দিদশার বাস করিতে হয়। মির্জা মেহেদীকেও কারাযন্ত্রণা ভোগ করিতে হইয়াছিল। রায়হলপ্ত মির্জা মেহেদীকে কারাগার হইতে মুক্ত করিবার চেষ্টা করিলে, তিনি গাছে মির্জা মেহেদীকে সিংহাসন প্রদান করেন, এই সন্দেহ করিয়া, মীরজাফর মারণকে তাঁহার বিনাশের জন্য আদেশ দেন। মীরণ হত্যাকাণ্ডের ব্যবস্থায় বিলক্ষণ পারদর্শী ছিলেন।

তিনি তৎক্ষণাৎ মির্জা মেহেদীর হত্যার ব্যবস্থা করিয়া দিলেন। তদীয় আদেশানুসারে মির্জা মেহেদীর দুই পার্শ্বে দুই খানি তক্তা বিন্যাস করিয়া, সুদৃঢ় রজ্জুর বেষ্টন দ্বারা সেই তক্তা দুই খানিকে চাপিয়া তাহার প্রাণসংহার করা হয়। এই অদ্ভুত উপায়ে পঞ্চদশবৎসরবয়স্ক বালকের ঈদৃশ নিষ্ঠুর ভাবে হত্যার কথা যে শুনিয়াছিল, তাহারই নয়ন হইতে অশ্রুধারা নিপতিত হইয়া- ছিল। এই নৃশংস হত্যার পর তাহার মৃতদেহ আনিয়া খোশবাগে সিরাজের পার্শ্বেই সমাহিত করা হয়।

সিরাজের দক্ষিণে, তাঁহার পদতলে, তাঁহার প্রিয়তমা মহিষী লুৎফ উন্নেসা চিরনিদ্রিতা। স্বামীর মৃত্যুর পর ঢাকায় নির্ব্বাসনযন্ত্রণা ভোগ করিয়া, তিনি পুনর্ব্বার মুর্শিদাবাদে আসিয়া খোশবাগের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত হন। পরে অন্তিম কালে স্বামীর পদতল আশ্রয় করিয়া চিরশান্তি ভোগ করিতেছেন। যিনি কি সুখে, কি দুঃখে, চিরদিনই ছায়ার ন্যায় স্বামীর অনুবর্তন করিয়াছিলেন, তিনি স্বামীর পদতল ব্যতীত আর কোথায় চিরশায়িত থাকিতে পারেন?