০২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
রংপুরে  ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি ‘লুট’ সিজিমালি পাহাড়ে বক্সাইট খনন ঘিরে উত্তেজনা, আদিবাসীদের প্রতিবাদে মুখোমুখি প্রশাসন নারীদের নগদ প্রণোদনায় জমে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ ভোট: লক্ষ্মীর ভান্ডার বনাম মাতৃশক্তি প্রতিশ্রুতির লড়াই বুলিং সংকট: সমাজের জন্য এক জাগরণবার্তা বলিভিয়ায় প্রথমবারের মতো বনে ফেরানো হচ্ছে জাগুয়ার: সংরক্ষণে নতুন যুগের সূচনা? আদালত থেকে সমাজে: ইসলামের বৈশ্বিক পুনরুত্থান পাইপলাইনের গ্যাস—স্বপ্ন থেকে এখন বাস্তব প্রয়োজন মণিপুর মহাসড়কে অতর্কিত হামলা: দুই নিহত, উত্তেজনা নতুন করে তীব্র ডিএমকে-কংগ্রেসের বাধায় থমকে নারী সংরক্ষণ উদ্যোগ, তবু লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা মোদির পশ্চিমবঙ্গে একা লড়াইয়ে কংগ্রেস, তৃণমূলের সঙ্গে ভোট-পরবর্তী জোটের জল্পনা নাকচ

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-০১)

  • Sarakhon Report
  • ০৪:০০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৪
  • 135

শশাঙ্ক মণ্ডল

প্রথম অধ্যায়

রাষ্ট্রীয় ব্যবচ্ছেদে সুন্দরবনের এলাকা খর্বীকৃত হয়ে আজকের সীমা এসে দাঁড়িয়েছে ১৫টি থানা নিয়ে উত্তর দক্ষিণ ২৪ পরগণার ডায়মন্ডহারবার, আলিপুর ও বসিরহাট মহকুমার দক্ষিণের ২৫ লক্ষ মানুষের বাসভূমি। নদী-দ্বীপ-জলজঙ্গলে ভরা এই অঞ্চলের বর্তমান আয়তন ৯৬৫০ বর্গ কিলোমিটার, তার মধ্যে মনুষ্য বসতি ৪৫০০ বর্গ কিলোমিটার ৪৪ টি দ্বীপ নিয়ে। কিন্তু ব্রিটিশ রাজত্বের শুরুতে ২৪ পরগণার দক্ষিণের এই বিস্তীর্ণ এলাকা ছাড়াও বর্তমান বাংলাদেশের খুলনা বাখরগঞ্জ যশোরের দক্ষিণাংশ জুড়ে ছিল সুন্দরবন। কলকাতার সন্নিকটবর্তী দমদম সেদিন ছিল সুন্দরবনের অভ্যন্তরে।

লর্ড ক্লাইভের দমদমের বাড়ি প্রসঙ্গে সে যুগের বিবরণীতে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে তার স্থান নির্দেশ করা হয়েছে। ১৮২৪ খ্রীষ্টাব্দে ফৌজী কর্তৃপক্ষ দমদম ক্যান্টনমেন্টের সম্প্রসারণ করার জন্য সরকারের কাছে অতিরিক্ত জমির আবেদন জানাচ্ছেন- সরকারের পক্ষ থেকে সুন্দরবন কমিশনারকে তা বিবেচনা করার জন্য বলা হচ্ছে। (১) কতিপয় ব্যবসায়ী সল্টলেকের জমি মাছ চাষের কাজে লাগাতে চেয়ে সুন্দরবন কমিশনারের কাছে আবেদন করছে ১৮৩১ খ্রীষ্টাব্দে।

অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতে দক্ষিণ বাংলার এক বিস্তীর্ণ এলাকা জনবসতিশূন্য হয়ে পড়ে -আজকের ২৪ পরগণা খুলনা, যশোরের দক্ষিণাংশ এবং বরিশাল বাখরগঞ্জের একটি বড় অংশ সেদিন এই এলাকার অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং বিদেশী পর্যটকদের বিবরণীতে সুন্দরবন নামে তা পরিচিত হচ্ছে। এ সময়ের বিভিন্ন পর্যটক এবং ভৌগোলিক বর্ণনায় এই অঞ্চল জনবসতিশূন্য বনাঞ্চল হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল; এমনকি ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ সমগ্র বাংলা দেশে চালু করা হলেও সুন্দরবনের ক্ষেত্রে তা শুরুতে করা হয়নি।

১৮১৩ খ্রীষ্টাব্দে সরকারি সার্ভে অনুযায়ী সুন্দরবনের উত্তর সীমা নির্ধারিত হল যমুনা নদী। In 1813 the Govt. Survey fixed the Jamuna as the northern boundary of the Sundarbans. James Long: Banks of Bhagirathi.

উনিশ শতকের শেষেও পশ্চিমে হুগলী নদী, পূর্বে মেঘনা মধ্যবর্তী গঙ্গা ব্রহ্মপুত্র বিধৌত সমভূমি সুন্দরবন নামে পরিচিত ছিল। (২) সুন্দরবন নামটি ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে বিভিন্ন বিদেশী পর্যটকদের বিবরণীতে পাওয়া যাচ্ছে। পূর্বে এই এলাকা ‘ভাটি’ নামে পরিচিত ছিল। বারো ভাটির দেশ, বারোজন রাজার অধীনে ছিল এই এলাকা। কবিতায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে ‘ভাটি হইতে আইল বাঙাল লম্বা লম্বা দাড়ি।’

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে  ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি ‘লুট’

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-০১)

০৪:০০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৪

শশাঙ্ক মণ্ডল

প্রথম অধ্যায়

রাষ্ট্রীয় ব্যবচ্ছেদে সুন্দরবনের এলাকা খর্বীকৃত হয়ে আজকের সীমা এসে দাঁড়িয়েছে ১৫টি থানা নিয়ে উত্তর দক্ষিণ ২৪ পরগণার ডায়মন্ডহারবার, আলিপুর ও বসিরহাট মহকুমার দক্ষিণের ২৫ লক্ষ মানুষের বাসভূমি। নদী-দ্বীপ-জলজঙ্গলে ভরা এই অঞ্চলের বর্তমান আয়তন ৯৬৫০ বর্গ কিলোমিটার, তার মধ্যে মনুষ্য বসতি ৪৫০০ বর্গ কিলোমিটার ৪৪ টি দ্বীপ নিয়ে। কিন্তু ব্রিটিশ রাজত্বের শুরুতে ২৪ পরগণার দক্ষিণের এই বিস্তীর্ণ এলাকা ছাড়াও বর্তমান বাংলাদেশের খুলনা বাখরগঞ্জ যশোরের দক্ষিণাংশ জুড়ে ছিল সুন্দরবন। কলকাতার সন্নিকটবর্তী দমদম সেদিন ছিল সুন্দরবনের অভ্যন্তরে।

লর্ড ক্লাইভের দমদমের বাড়ি প্রসঙ্গে সে যুগের বিবরণীতে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে তার স্থান নির্দেশ করা হয়েছে। ১৮২৪ খ্রীষ্টাব্দে ফৌজী কর্তৃপক্ষ দমদম ক্যান্টনমেন্টের সম্প্রসারণ করার জন্য সরকারের কাছে অতিরিক্ত জমির আবেদন জানাচ্ছেন- সরকারের পক্ষ থেকে সুন্দরবন কমিশনারকে তা বিবেচনা করার জন্য বলা হচ্ছে। (১) কতিপয় ব্যবসায়ী সল্টলেকের জমি মাছ চাষের কাজে লাগাতে চেয়ে সুন্দরবন কমিশনারের কাছে আবেদন করছে ১৮৩১ খ্রীষ্টাব্দে।

অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতে দক্ষিণ বাংলার এক বিস্তীর্ণ এলাকা জনবসতিশূন্য হয়ে পড়ে -আজকের ২৪ পরগণা খুলনা, যশোরের দক্ষিণাংশ এবং বরিশাল বাখরগঞ্জের একটি বড় অংশ সেদিন এই এলাকার অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং বিদেশী পর্যটকদের বিবরণীতে সুন্দরবন নামে তা পরিচিত হচ্ছে। এ সময়ের বিভিন্ন পর্যটক এবং ভৌগোলিক বর্ণনায় এই অঞ্চল জনবসতিশূন্য বনাঞ্চল হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল; এমনকি ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ সমগ্র বাংলা দেশে চালু করা হলেও সুন্দরবনের ক্ষেত্রে তা শুরুতে করা হয়নি।

১৮১৩ খ্রীষ্টাব্দে সরকারি সার্ভে অনুযায়ী সুন্দরবনের উত্তর সীমা নির্ধারিত হল যমুনা নদী। In 1813 the Govt. Survey fixed the Jamuna as the northern boundary of the Sundarbans. James Long: Banks of Bhagirathi.

উনিশ শতকের শেষেও পশ্চিমে হুগলী নদী, পূর্বে মেঘনা মধ্যবর্তী গঙ্গা ব্রহ্মপুত্র বিধৌত সমভূমি সুন্দরবন নামে পরিচিত ছিল। (২) সুন্দরবন নামটি ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে বিভিন্ন বিদেশী পর্যটকদের বিবরণীতে পাওয়া যাচ্ছে। পূর্বে এই এলাকা ‘ভাটি’ নামে পরিচিত ছিল। বারো ভাটির দেশ, বারোজন রাজার অধীনে ছিল এই এলাকা। কবিতায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে ‘ভাটি হইতে আইল বাঙাল লম্বা লম্বা দাড়ি।’