০৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
চেতনা কি পাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা? মস্তিষ্কের কোষ সিলিকনে বসিয়ে নতুন পথে বিজ্ঞান জেসন আরডেকে মানুষ নয়, প্রতীকে পরিণত করার মূল্য: ক্যামব্রিজ নিয়ে দ্য ইকোনমিস্টের প্রশ্ন বিমান চলাচলের ‘কনট্রেইল’ কমিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন অর্ধেক কমানোর সম্ভাবনা কাঁঠাল, টোফু ও পাম হার্টেই কাঁকড়ার স্বাদ, জনপ্রিয় হচ্ছে ভেগান রেসিপি রাশিয়ার তেল নিয়ে চীনের কৌশল, চাপে ভারতের জ্বালানি বাজার অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লু শনাক্ত চীনে কি এবার চকলেটের জোয়ার? স্থানীয় ব্র্যান্ডের উত্থানে বদলাচ্ছে চীনা রুচি চীনে নব্বইয়ের দশকের নস্টালজিয়া: অর্থনৈতিক হতাশায় ফিরছে ‘সুযোগের সময়’ ক্যানসার নির্ণয়ের পর প্রথম জনসম্মুখে লুসি ডেভিস, ভক্তদের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত দক্ষিণ থাইল্যান্ডে সমন্বিত অগ্নিসংযোগ, আহত ২

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-০৪)

  • Sarakhon Report
  • ০৪:০০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৪
  • 172

শশাঙ্ক মণ্ডল

প্রথম অধ্যায়

হেঙ্কেলের তালুকে দু’বছরের জন্য খাজনা মকুবের ব্যবস্থা রাখা হল- পরবর্তীকালে উৎপাদনের পরিমাণ বিবেচনা করে খাজনা ধার্য করার কথা চিন্তা করা হল। কিন্তু এই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়াল উত্তরের লীজ প্রাপ্ত জমিদাররা। সুন্দরবনের এই জমি তাদের এলাকাভুক্ত বলে দাবি জানাতে লাগল। তাদের দাবি অনেক সময় দক্ষিণের সমুদ্রতীর পর্যন্ত। হেঙ্কেল সাহেব বাঁশগাড়ি করে বেশ কিছু এলাকা পুরানো জমিদারদের সাথে নতুন জমিদারদের সীমা চিহ্নিত করে দিলেন কিন্তু বিরোধ কমল না; অসংখ্য কেস শুরু হল।

১৭৯৮ খ্রীষ্টাব্দে নদীয়ার রাজা হিঙ্গলগঞ্জ তার এলাকাভুক্ত বলে কোর্টে কেস শুরু করেন। মামলার রায়ে রাজা হেরে গেলেন ১৮০৪ খ্রীষ্টাব্দে এবং ঐ জমি সরকারের খাস জমি বলে স্বীকৃত হল। প্রতিনিয়ত বিরোধ লেগে থাকল চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মধ্য দিয়ে যে সব জমিদার সুন্দরবনে উত্তরাংশে অধিকার পেলেন তাদের সাথে সরকারের(৩) প্রত্যেক জমিদার যে যতটা পারল দক্ষিণের বনভূমি তার এলাকা বলে দাবি জানাতে থাকল। সরকারের সামনে সুন্দরবনের জমি জরীপের প্রশ্নটা জরুরি হয়ে দেখা দিল।

১৮১১-১৪ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে W.E. Morison হুগলী থেকে পশর নদীর মধ্যবর্তী সুন্দরবনের জমি মাপ করেন এবং ভুলত্রুটির সংশোধনের দায়িত্ব পান পরবর্তীকালে তার ভাই Hugh Morison ১৮১৮ খ্রীষ্টাব্দে। ২৪ পরগণার সহকারি কালেক্টর মিঃ স্কটের উপর নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হল সুন্দরবনের জমি চাষযোগ্য করার এবং জমিদারদের ইচ্ছামত সুন্দরবনের জমি জোর করে নিজেদের এলাকার মধ্যে দাবি করার প্রবণতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার আইনী ক্ষমতা সরকারের পক্ষ থেকে তার উপর অর্পণ করা হল।

জমির খাজনার ব্যাপারে বোর্ড অব রেভিনিউ নির্দেশ দিলেন জমি উঠিত- এর ৭ বছর পরে বিঘা প্রতি আট আনা খাজনা, ৬ বছর পূর্ণ হলে বিঘা প্রতি তিন আনা- এ ধরনের খাজনার হিসাব জানিয়ে দেওয়া হল। এর সাথে সমস্ত সুন্দরবন নিকটবর্তী জমিদারদের জমির সীমা অর্থাৎ সত্ত্বের অধিকার প্রমাণ করতে হবে মিঃ স্কটের কাছে। ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সুন্দরবনের সমগ্র জমির তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হল সুন্দরবন কমিশনার পদ সৃষ্টি করে। ১৮১৪-এর নবম রেগুলেশন এর মাধ্যমে মিঃ স্কটকে প্রথম কমিশনার করা হল। কিন্তু সীমানা নিয়ে বিরোধ থেকে গেল। সুন্দরবন কমিশনার হিসাবে মিঃ ডেল দায়িত্ব নিলেন- মিঃ প্রিন্সেপকে এ সময়ে সার্ভেয়ার হিসাবে নিয়োগ করা হল।

জনপ্রিয় সংবাদ

চেতনা কি পাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা? মস্তিষ্কের কোষ সিলিকনে বসিয়ে নতুন পথে বিজ্ঞান

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-০৪)

০৪:০০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৪

শশাঙ্ক মণ্ডল

প্রথম অধ্যায়

হেঙ্কেলের তালুকে দু’বছরের জন্য খাজনা মকুবের ব্যবস্থা রাখা হল- পরবর্তীকালে উৎপাদনের পরিমাণ বিবেচনা করে খাজনা ধার্য করার কথা চিন্তা করা হল। কিন্তু এই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়াল উত্তরের লীজ প্রাপ্ত জমিদাররা। সুন্দরবনের এই জমি তাদের এলাকাভুক্ত বলে দাবি জানাতে লাগল। তাদের দাবি অনেক সময় দক্ষিণের সমুদ্রতীর পর্যন্ত। হেঙ্কেল সাহেব বাঁশগাড়ি করে বেশ কিছু এলাকা পুরানো জমিদারদের সাথে নতুন জমিদারদের সীমা চিহ্নিত করে দিলেন কিন্তু বিরোধ কমল না; অসংখ্য কেস শুরু হল।

১৭৯৮ খ্রীষ্টাব্দে নদীয়ার রাজা হিঙ্গলগঞ্জ তার এলাকাভুক্ত বলে কোর্টে কেস শুরু করেন। মামলার রায়ে রাজা হেরে গেলেন ১৮০৪ খ্রীষ্টাব্দে এবং ঐ জমি সরকারের খাস জমি বলে স্বীকৃত হল। প্রতিনিয়ত বিরোধ লেগে থাকল চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মধ্য দিয়ে যে সব জমিদার সুন্দরবনে উত্তরাংশে অধিকার পেলেন তাদের সাথে সরকারের(৩) প্রত্যেক জমিদার যে যতটা পারল দক্ষিণের বনভূমি তার এলাকা বলে দাবি জানাতে থাকল। সরকারের সামনে সুন্দরবনের জমি জরীপের প্রশ্নটা জরুরি হয়ে দেখা দিল।

১৮১১-১৪ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে W.E. Morison হুগলী থেকে পশর নদীর মধ্যবর্তী সুন্দরবনের জমি মাপ করেন এবং ভুলত্রুটির সংশোধনের দায়িত্ব পান পরবর্তীকালে তার ভাই Hugh Morison ১৮১৮ খ্রীষ্টাব্দে। ২৪ পরগণার সহকারি কালেক্টর মিঃ স্কটের উপর নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হল সুন্দরবনের জমি চাষযোগ্য করার এবং জমিদারদের ইচ্ছামত সুন্দরবনের জমি জোর করে নিজেদের এলাকার মধ্যে দাবি করার প্রবণতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার আইনী ক্ষমতা সরকারের পক্ষ থেকে তার উপর অর্পণ করা হল।

জমির খাজনার ব্যাপারে বোর্ড অব রেভিনিউ নির্দেশ দিলেন জমি উঠিত- এর ৭ বছর পরে বিঘা প্রতি আট আনা খাজনা, ৬ বছর পূর্ণ হলে বিঘা প্রতি তিন আনা- এ ধরনের খাজনার হিসাব জানিয়ে দেওয়া হল। এর সাথে সমস্ত সুন্দরবন নিকটবর্তী জমিদারদের জমির সীমা অর্থাৎ সত্ত্বের অধিকার প্রমাণ করতে হবে মিঃ স্কটের কাছে। ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সুন্দরবনের সমগ্র জমির তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হল সুন্দরবন কমিশনার পদ সৃষ্টি করে। ১৮১৪-এর নবম রেগুলেশন এর মাধ্যমে মিঃ স্কটকে প্রথম কমিশনার করা হল। কিন্তু সীমানা নিয়ে বিরোধ থেকে গেল। সুন্দরবন কমিশনার হিসাবে মিঃ ডেল দায়িত্ব নিলেন- মিঃ প্রিন্সেপকে এ সময়ে সার্ভেয়ার হিসাবে নিয়োগ করা হল।