০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর ব্রিটেনে ছুরি হামলার পর উত্তেজনা, উসকে দিচ্ছে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির দেশে ফেরা, বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ২১ জঙ্গি, মোট নিহত ৪৮ লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতালেন লিসা, কেপপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় ইউটিউব থেকে হলিউড: নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা কি বদলে দিচ্ছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ? গুগলের নতুন এআই চিপে স্যামসাং? ‘আইসফিশ’ প্রকল্পে বড় চুক্তির আলোচনায় দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট ইরান যুদ্ধের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা: চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থেকেও কেন কঠিন অবস্থানে তেহরান পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি বিতর্ক: অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশি অভিযানে মমতার অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে ঘিরে ইডির তল্লাশি

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-০৪)

  • Sarakhon Report
  • ০৪:০০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৪
  • 158

শশাঙ্ক মণ্ডল

প্রথম অধ্যায়

হেঙ্কেলের তালুকে দু’বছরের জন্য খাজনা মকুবের ব্যবস্থা রাখা হল- পরবর্তীকালে উৎপাদনের পরিমাণ বিবেচনা করে খাজনা ধার্য করার কথা চিন্তা করা হল। কিন্তু এই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়াল উত্তরের লীজ প্রাপ্ত জমিদাররা। সুন্দরবনের এই জমি তাদের এলাকাভুক্ত বলে দাবি জানাতে লাগল। তাদের দাবি অনেক সময় দক্ষিণের সমুদ্রতীর পর্যন্ত। হেঙ্কেল সাহেব বাঁশগাড়ি করে বেশ কিছু এলাকা পুরানো জমিদারদের সাথে নতুন জমিদারদের সীমা চিহ্নিত করে দিলেন কিন্তু বিরোধ কমল না; অসংখ্য কেস শুরু হল।

১৭৯৮ খ্রীষ্টাব্দে নদীয়ার রাজা হিঙ্গলগঞ্জ তার এলাকাভুক্ত বলে কোর্টে কেস শুরু করেন। মামলার রায়ে রাজা হেরে গেলেন ১৮০৪ খ্রীষ্টাব্দে এবং ঐ জমি সরকারের খাস জমি বলে স্বীকৃত হল। প্রতিনিয়ত বিরোধ লেগে থাকল চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মধ্য দিয়ে যে সব জমিদার সুন্দরবনে উত্তরাংশে অধিকার পেলেন তাদের সাথে সরকারের(৩) প্রত্যেক জমিদার যে যতটা পারল দক্ষিণের বনভূমি তার এলাকা বলে দাবি জানাতে থাকল। সরকারের সামনে সুন্দরবনের জমি জরীপের প্রশ্নটা জরুরি হয়ে দেখা দিল।

১৮১১-১৪ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে W.E. Morison হুগলী থেকে পশর নদীর মধ্যবর্তী সুন্দরবনের জমি মাপ করেন এবং ভুলত্রুটির সংশোধনের দায়িত্ব পান পরবর্তীকালে তার ভাই Hugh Morison ১৮১৮ খ্রীষ্টাব্দে। ২৪ পরগণার সহকারি কালেক্টর মিঃ স্কটের উপর নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হল সুন্দরবনের জমি চাষযোগ্য করার এবং জমিদারদের ইচ্ছামত সুন্দরবনের জমি জোর করে নিজেদের এলাকার মধ্যে দাবি করার প্রবণতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার আইনী ক্ষমতা সরকারের পক্ষ থেকে তার উপর অর্পণ করা হল।

জমির খাজনার ব্যাপারে বোর্ড অব রেভিনিউ নির্দেশ দিলেন জমি উঠিত- এর ৭ বছর পরে বিঘা প্রতি আট আনা খাজনা, ৬ বছর পূর্ণ হলে বিঘা প্রতি তিন আনা- এ ধরনের খাজনার হিসাব জানিয়ে দেওয়া হল। এর সাথে সমস্ত সুন্দরবন নিকটবর্তী জমিদারদের জমির সীমা অর্থাৎ সত্ত্বের অধিকার প্রমাণ করতে হবে মিঃ স্কটের কাছে। ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সুন্দরবনের সমগ্র জমির তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হল সুন্দরবন কমিশনার পদ সৃষ্টি করে। ১৮১৪-এর নবম রেগুলেশন এর মাধ্যমে মিঃ স্কটকে প্রথম কমিশনার করা হল। কিন্তু সীমানা নিয়ে বিরোধ থেকে গেল। সুন্দরবন কমিশনার হিসাবে মিঃ ডেল দায়িত্ব নিলেন- মিঃ প্রিন্সেপকে এ সময়ে সার্ভেয়ার হিসাবে নিয়োগ করা হল।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-০৪)

০৪:০০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৪

শশাঙ্ক মণ্ডল

প্রথম অধ্যায়

হেঙ্কেলের তালুকে দু’বছরের জন্য খাজনা মকুবের ব্যবস্থা রাখা হল- পরবর্তীকালে উৎপাদনের পরিমাণ বিবেচনা করে খাজনা ধার্য করার কথা চিন্তা করা হল। কিন্তু এই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়াল উত্তরের লীজ প্রাপ্ত জমিদাররা। সুন্দরবনের এই জমি তাদের এলাকাভুক্ত বলে দাবি জানাতে লাগল। তাদের দাবি অনেক সময় দক্ষিণের সমুদ্রতীর পর্যন্ত। হেঙ্কেল সাহেব বাঁশগাড়ি করে বেশ কিছু এলাকা পুরানো জমিদারদের সাথে নতুন জমিদারদের সীমা চিহ্নিত করে দিলেন কিন্তু বিরোধ কমল না; অসংখ্য কেস শুরু হল।

১৭৯৮ খ্রীষ্টাব্দে নদীয়ার রাজা হিঙ্গলগঞ্জ তার এলাকাভুক্ত বলে কোর্টে কেস শুরু করেন। মামলার রায়ে রাজা হেরে গেলেন ১৮০৪ খ্রীষ্টাব্দে এবং ঐ জমি সরকারের খাস জমি বলে স্বীকৃত হল। প্রতিনিয়ত বিরোধ লেগে থাকল চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মধ্য দিয়ে যে সব জমিদার সুন্দরবনে উত্তরাংশে অধিকার পেলেন তাদের সাথে সরকারের(৩) প্রত্যেক জমিদার যে যতটা পারল দক্ষিণের বনভূমি তার এলাকা বলে দাবি জানাতে থাকল। সরকারের সামনে সুন্দরবনের জমি জরীপের প্রশ্নটা জরুরি হয়ে দেখা দিল।

১৮১১-১৪ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে W.E. Morison হুগলী থেকে পশর নদীর মধ্যবর্তী সুন্দরবনের জমি মাপ করেন এবং ভুলত্রুটির সংশোধনের দায়িত্ব পান পরবর্তীকালে তার ভাই Hugh Morison ১৮১৮ খ্রীষ্টাব্দে। ২৪ পরগণার সহকারি কালেক্টর মিঃ স্কটের উপর নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হল সুন্দরবনের জমি চাষযোগ্য করার এবং জমিদারদের ইচ্ছামত সুন্দরবনের জমি জোর করে নিজেদের এলাকার মধ্যে দাবি করার প্রবণতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার আইনী ক্ষমতা সরকারের পক্ষ থেকে তার উপর অর্পণ করা হল।

জমির খাজনার ব্যাপারে বোর্ড অব রেভিনিউ নির্দেশ দিলেন জমি উঠিত- এর ৭ বছর পরে বিঘা প্রতি আট আনা খাজনা, ৬ বছর পূর্ণ হলে বিঘা প্রতি তিন আনা- এ ধরনের খাজনার হিসাব জানিয়ে দেওয়া হল। এর সাথে সমস্ত সুন্দরবন নিকটবর্তী জমিদারদের জমির সীমা অর্থাৎ সত্ত্বের অধিকার প্রমাণ করতে হবে মিঃ স্কটের কাছে। ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সুন্দরবনের সমগ্র জমির তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হল সুন্দরবন কমিশনার পদ সৃষ্টি করে। ১৮১৪-এর নবম রেগুলেশন এর মাধ্যমে মিঃ স্কটকে প্রথম কমিশনার করা হল। কিন্তু সীমানা নিয়ে বিরোধ থেকে গেল। সুন্দরবন কমিশনার হিসাবে মিঃ ডেল দায়িত্ব নিলেন- মিঃ প্রিন্সেপকে এ সময়ে সার্ভেয়ার হিসাবে নিয়োগ করা হল।