০৩:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
আমেরিকা নিয়ে পোল্যান্ডে আস্থার সংকট, রাজনীতিতে নতুন বিভাজন ফ্রান্সের সতর্কবার্তা কি সত্যি প্রমাণিত? ইউরোপের সামনে কঠিন বাস্তবতা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের প্রবেশের চেষ্টার নেপথ্যে কী? নাইজেরিয়ার ফ্যাশনের বিশ্ব জয় সিঙ্গাপুরে ডাক্তার বৃদ্ধি ৫০ শতাংশ: স্থানীয় শিক্ষিত চিকিৎসকের সংখ্যা ছয়ের ছয় ভাগ এশিয়ায় সতর্কতা, ট্রাম্পের শুল্ক ক্ষমতা সীমিত হলেও রূপকাঠামো অটুট মার্কিন পরিবারের জন্য ট্রাম্পের শুল্ক ফেরতের দাবি জোরালো সিঙ্গাপুরে জলবায়ু অভিযোজনের গুরুত্ব বেড়েছে: তাপমাত্রা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বিপদের সংকেত ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শীর্ষ সম্মেলনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতার সংমিশ্রণ রমজান মাসে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলার কঠোর নিন্দা জানাল ভারত

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৪১)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৪
  • 167

শ্রী নিখিলনাথ রায়

লুৎফ উয়েগার পূর্ব্ব পার্শ্বে, মির্জা মেহেদীর দক্ষিণে আর একটি সমাধি আছে, সাধারণ লোকে তাহাকে মির্জা মেহেদীর বেগমের সমাধি বলিয়া থাকে; কেহ কেহ তাহাকে সিরাজের আর কোন বেগমের সমাধিও বলে। বালক মির্জা মেহেদী বিবাহিত হইয়াছিলেন কি না, তাহার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না; সুতরাং উক্ত সমাধিটি সিরাজের কোন বেগমের সমাধি হইলেও হইতে পারে। সম্ভবতঃ উহা ওমদাৎ উন্নেসার সমাধি হইবে।
আলিবদীর দক্ষিণে যে সমাধিটি রহিয়াছে, সেটি তাঁহার মহীয়সী বেগমের সমাধি বলিয়া কথিত হয়। ঢাকার নির্ব্বাসন হইতে পলায়নের পর, আর তাঁহার কোন বিবরণ অবগত হওয়া যায় না। সম্ভবতঃ তিনি তথা হইতে মুর্শিদাবাদে পুনরাগমন করিয়াছিলেন। পরে অন্তিমসনর উপস্থিত হইলে, স্বামীর পদতলে আশ্রয় গ্রহণ করেন। যিনি আলিবর্দীর জীবনের একমাত্র সঙ্গিনী ছিলেন, অনন্তজীবনে তিনিই সহচরীরূপে বিরাজ করিতেছেন।
আলিবন্দীর সমাধির পশ্চিম দিকে আরও দুইটি সমাধি আছে। সাধারণলোকে ঐ দুইটিকে আলিবদ্দীর কন্যাদ্বয়ের সমাধি বলিয়া • থাকে। আমরা জানি যে, তাঁহার দুই কন্যা ঘসেটা ও আমিনা, মীরণের আদেশে নদীগর্ভে প্রাণ বিসর্জন দেন; সুতরাং তাঁহাদের সমাধি হওয়ার কোনই সম্ভাবনা নাই। তাঁহার মধ্যমা কন্যা ময়মানা পূর্ণিয়ার নবাব সৈয়দ আহম্মদের পত্নী ও সকতজঙ্গের মাতা ছিলেন। তিনি পূর্ণিয়াতেই বাস করিতেন। মীরজাফর পূর্ণিয়া অধিকার করিলে, তিনি মুর্শিদাবাদে আসিয়া বাস করিয়াছিলেন কি না, জানা যায় না। ফলতঃ উক্ত সমাধি দুইটি আলিবর্দ্দদী খাঁর কন্যাদ্বয়ের না হইলেও, তাঁহার পারিবারস্থ অন্য কাহারও হইতে পারে।
সমাধিগৃহের পশ্চিমে, পশ্চিম চত্বরের প্রান্ত ভাগে, একটি মসজেদ বিরাজ করিতেছে। অদ্যাপি তথায় উপাসনাদি হইয়া থাকে। মস- জেদের সম্মুখে একটি প্রকাণ্ড চৌবাচ্চা রহিয়াছে। এই সমাধি- ভবনে পূর্ব্বে কারী বা কোরাণাধ্যায়ীদিগের বাসস্থান ছিল; অনেক দিন হইল, সে সমস্ত দেরিতে জমিদার করা হইয়াছে। অভাপি তৎসমুদ দিন ভিত্তিভূমির চিহ্ন দেখিতে পাওয়া যায়। এই সমাধিভবনের দক্ষিণে একের আয়, বাদাম প্রভৃতি বৃক্ষের বাগান আছে। তথায় একটি প্রকাণ্ড ইন্দাসী, একটি শুষ্ক পুষ্করিণী ও তাহার বাঁধাঘাটের ভগ্নাবশেষ দৃষ্ট হয়।

আমেরিকা নিয়ে পোল্যান্ডে আস্থার সংকট, রাজনীতিতে নতুন বিভাজন

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৪১)

১১:০০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

লুৎফ উয়েগার পূর্ব্ব পার্শ্বে, মির্জা মেহেদীর দক্ষিণে আর একটি সমাধি আছে, সাধারণ লোকে তাহাকে মির্জা মেহেদীর বেগমের সমাধি বলিয়া থাকে; কেহ কেহ তাহাকে সিরাজের আর কোন বেগমের সমাধিও বলে। বালক মির্জা মেহেদী বিবাহিত হইয়াছিলেন কি না, তাহার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না; সুতরাং উক্ত সমাধিটি সিরাজের কোন বেগমের সমাধি হইলেও হইতে পারে। সম্ভবতঃ উহা ওমদাৎ উন্নেসার সমাধি হইবে।
আলিবদীর দক্ষিণে যে সমাধিটি রহিয়াছে, সেটি তাঁহার মহীয়সী বেগমের সমাধি বলিয়া কথিত হয়। ঢাকার নির্ব্বাসন হইতে পলায়নের পর, আর তাঁহার কোন বিবরণ অবগত হওয়া যায় না। সম্ভবতঃ তিনি তথা হইতে মুর্শিদাবাদে পুনরাগমন করিয়াছিলেন। পরে অন্তিমসনর উপস্থিত হইলে, স্বামীর পদতলে আশ্রয় গ্রহণ করেন। যিনি আলিবর্দীর জীবনের একমাত্র সঙ্গিনী ছিলেন, অনন্তজীবনে তিনিই সহচরীরূপে বিরাজ করিতেছেন।
আলিবন্দীর সমাধির পশ্চিম দিকে আরও দুইটি সমাধি আছে। সাধারণলোকে ঐ দুইটিকে আলিবদ্দীর কন্যাদ্বয়ের সমাধি বলিয়া • থাকে। আমরা জানি যে, তাঁহার দুই কন্যা ঘসেটা ও আমিনা, মীরণের আদেশে নদীগর্ভে প্রাণ বিসর্জন দেন; সুতরাং তাঁহাদের সমাধি হওয়ার কোনই সম্ভাবনা নাই। তাঁহার মধ্যমা কন্যা ময়মানা পূর্ণিয়ার নবাব সৈয়দ আহম্মদের পত্নী ও সকতজঙ্গের মাতা ছিলেন। তিনি পূর্ণিয়াতেই বাস করিতেন। মীরজাফর পূর্ণিয়া অধিকার করিলে, তিনি মুর্শিদাবাদে আসিয়া বাস করিয়াছিলেন কি না, জানা যায় না। ফলতঃ উক্ত সমাধি দুইটি আলিবর্দ্দদী খাঁর কন্যাদ্বয়ের না হইলেও, তাঁহার পারিবারস্থ অন্য কাহারও হইতে পারে।
সমাধিগৃহের পশ্চিমে, পশ্চিম চত্বরের প্রান্ত ভাগে, একটি মসজেদ বিরাজ করিতেছে। অদ্যাপি তথায় উপাসনাদি হইয়া থাকে। মস- জেদের সম্মুখে একটি প্রকাণ্ড চৌবাচ্চা রহিয়াছে। এই সমাধি- ভবনে পূর্ব্বে কারী বা কোরাণাধ্যায়ীদিগের বাসস্থান ছিল; অনেক দিন হইল, সে সমস্ত দেরিতে জমিদার করা হইয়াছে। অভাপি তৎসমুদ দিন ভিত্তিভূমির চিহ্ন দেখিতে পাওয়া যায়। এই সমাধিভবনের দক্ষিণে একের আয়, বাদাম প্রভৃতি বৃক্ষের বাগান আছে। তথায় একটি প্রকাণ্ড ইন্দাসী, একটি শুষ্ক পুষ্করিণী ও তাহার বাঁধাঘাটের ভগ্নাবশেষ দৃষ্ট হয়।