০৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ চার বছরে: প্রাণহানি, দখল ও সহায়তার হিসাব ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচনে নামবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন পেপু  বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্ত: নতুন কমিশন গঠন করবে সরকার ঢাকা চায় সম্মানজনক সমাধান ও সকলের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক উচ্চ সুদ, জোরপূর্বক অর্থ আদায়, জ্বালানি সংকট অর্থনীতির জন্য ‘আত্মঘাতি’: ডিসিসিআই সভাপতি জরুরি ভিত্তিতে ২৭০১ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ জুড়ে সমস্ত পরিত্যক্ত টিউবওয়েল শাফট বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের চীনের বসন্ত উৎসবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চশমার চাহিদা বৃদ্ধিতে বিক্রির উল্লম্ফন জাকাত দাতারা সরাসরি আইসিডিডিআর,বি’র দরিদ্র রোগীদের সহায়তা করতে পারবেন

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-২৫)

  • Sarakhon Report
  • ০৪:০০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 115

শশাঙ্ক মণ্ডল

দ্বিতীয় অধ্যায়

১৮৭০ এর মধ্যে সমস্ত পরিকল্পনা মাঠে মারা গেল, মিউনিসিপ্যালিটির সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হল এবং ২৪ পরগণা জেলা শাসককে সরকারের পক্ষ থেকে সম্পত্তির তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হল। ইতিমধ্যে পোর্ট ক্যানিং এর সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ এর জন্য বেলেঘাটা থেকে মাতলা পর্যন্ত রেল লাইন তৈরি করা হয়েছে। ৩৫০০ × ৪০০ ফুটের একটা ডক তৈরি করা হয়েছে যেখানে দেশী নৌকাগুলি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মাতলা নদীর জোয়ারের জল যাতে শহরে ঢুকতে না পারে তার জন্য উঁচু করে বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। এই সঙ্গে বন্দরে যাতে দুটি জাহাজ একসাথে ভিড়তে পারে তার উপযোগী জেটি এবং মাল নামানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, মাল রাখার জন্য বিশাল গোডাউন এবং ডক্ থেকে রেল স্টেশন পর্যন্ত যোগাযোগের জন্য ট্রামলাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একটি ধানকল বসানো হয়েছিল যাতে বৎসরে ১০,০০০ টন ধান ভাঙানো যায়।

পোর্ট ক্যানিং-এ জাহাজ ভিড়তে শুরু করে ১৮৬২-৬৩ সাল থেকে আর ১৮৭০-৭১ সাল থেকে বন্দরে আর জাহাজ আসেনি।

১৮৬২-৬৩ তে জাহাজ এসেছে   ১টি

১৮৬৩-৬৪-                                  ১১টি

১৮৬৪-৬৫                                   ১৪টি

১৮৬৫-৬৬-                                 ২৭টি

১৮৬৬-৬৭                                  ২০টি

১৮৬৭-৬৮                                  ০৯টি

১৮৬৮-৬৯                                 ০১টি 

১৮৬৯-৭০                                  ০২টি

৬৯-৭০-এ পোর্ট এর কাজে খরচ হচ্ছে ১৫৭০০ পাউন্ড কিন্তু কন্দর থেকে আয় হচ্ছে ১১৩৪ পাউন্ড, কলকাতার বণিকদের কাছে পরিষ্কার হল কলকাতার বিকল্প ক্যানিং হতে পাবে না এবং কলকাতা বন্দর বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই। বন্দরের সকরুণ স্মৃতি নিয়ে ক্যানিং সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে অপেক্ষা করতে লাগল। ১৮৭৩ সালে সুন্দরবন কমিশনার ক্যানিং টাউনের অবস্থা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন- “With the exception of, the agent and others employed by the new Port Canning Land Company a dak Munshi, no one lives at Canning”

বন্দর প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন অচিরে মিলিয়ে গেল। (**) কলকাতার বিকল্প হিসাবে সুন্দরবনের আভ্যন্তরে এক সমৃদ্ধ নগরও বিকল্প বন্দর গড়ে তোলার প্রচেষ্টা ১৮ বছরের সময়সীমায় শেষ হয়ে গেল। পোর্ট ক্যানিং কোম্পানি পরবর্তীকালে জমিদারিতে মন দিলেন এবং সে এক অন্য ইতিহাস।

উনিশ শতকের শেষ দশকে যাত্রীবাহী লঞ্চ সার্ভিস চালু হল ইছামতী নদীতে টাকী থেকে গোবরডাঙ্গা। গোবরডাঙ্গা থেকে চারঘাট, সাড়াপুল, বাদুড়িয়া, বসিরহাট, ইটিল্ডা হয়ে লঞ্চ টাকীতে পৌঁছাত। বাদুড়িয়া, ইটিন্ডা, সাড়াপুল, চারঘাটের হাটগুলিতে প্রচুর লোক সমাগম হত। ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত এই পথ চালু ছিল কিন্তু পরবর্তী কালে যমুনা নদী মজে যাওয়ায় এবং ইতিমধ্যে সড়ক পরিবহণের উন্নতি ঘটায় এই লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়।

 

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ চার বছরে: প্রাণহানি, দখল ও সহায়তার হিসাব

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-২৫)

০৪:০০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪

শশাঙ্ক মণ্ডল

দ্বিতীয় অধ্যায়

১৮৭০ এর মধ্যে সমস্ত পরিকল্পনা মাঠে মারা গেল, মিউনিসিপ্যালিটির সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হল এবং ২৪ পরগণা জেলা শাসককে সরকারের পক্ষ থেকে সম্পত্তির তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হল। ইতিমধ্যে পোর্ট ক্যানিং এর সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ এর জন্য বেলেঘাটা থেকে মাতলা পর্যন্ত রেল লাইন তৈরি করা হয়েছে। ৩৫০০ × ৪০০ ফুটের একটা ডক তৈরি করা হয়েছে যেখানে দেশী নৌকাগুলি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মাতলা নদীর জোয়ারের জল যাতে শহরে ঢুকতে না পারে তার জন্য উঁচু করে বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। এই সঙ্গে বন্দরে যাতে দুটি জাহাজ একসাথে ভিড়তে পারে তার উপযোগী জেটি এবং মাল নামানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, মাল রাখার জন্য বিশাল গোডাউন এবং ডক্ থেকে রেল স্টেশন পর্যন্ত যোগাযোগের জন্য ট্রামলাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একটি ধানকল বসানো হয়েছিল যাতে বৎসরে ১০,০০০ টন ধান ভাঙানো যায়।

পোর্ট ক্যানিং-এ জাহাজ ভিড়তে শুরু করে ১৮৬২-৬৩ সাল থেকে আর ১৮৭০-৭১ সাল থেকে বন্দরে আর জাহাজ আসেনি।

১৮৬২-৬৩ তে জাহাজ এসেছে   ১টি

১৮৬৩-৬৪-                                  ১১টি

১৮৬৪-৬৫                                   ১৪টি

১৮৬৫-৬৬-                                 ২৭টি

১৮৬৬-৬৭                                  ২০টি

১৮৬৭-৬৮                                  ০৯টি

১৮৬৮-৬৯                                 ০১টি 

১৮৬৯-৭০                                  ০২টি

৬৯-৭০-এ পোর্ট এর কাজে খরচ হচ্ছে ১৫৭০০ পাউন্ড কিন্তু কন্দর থেকে আয় হচ্ছে ১১৩৪ পাউন্ড, কলকাতার বণিকদের কাছে পরিষ্কার হল কলকাতার বিকল্প ক্যানিং হতে পাবে না এবং কলকাতা বন্দর বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই। বন্দরের সকরুণ স্মৃতি নিয়ে ক্যানিং সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে অপেক্ষা করতে লাগল। ১৮৭৩ সালে সুন্দরবন কমিশনার ক্যানিং টাউনের অবস্থা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন- “With the exception of, the agent and others employed by the new Port Canning Land Company a dak Munshi, no one lives at Canning”

বন্দর প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন অচিরে মিলিয়ে গেল। (**) কলকাতার বিকল্প হিসাবে সুন্দরবনের আভ্যন্তরে এক সমৃদ্ধ নগরও বিকল্প বন্দর গড়ে তোলার প্রচেষ্টা ১৮ বছরের সময়সীমায় শেষ হয়ে গেল। পোর্ট ক্যানিং কোম্পানি পরবর্তীকালে জমিদারিতে মন দিলেন এবং সে এক অন্য ইতিহাস।

উনিশ শতকের শেষ দশকে যাত্রীবাহী লঞ্চ সার্ভিস চালু হল ইছামতী নদীতে টাকী থেকে গোবরডাঙ্গা। গোবরডাঙ্গা থেকে চারঘাট, সাড়াপুল, বাদুড়িয়া, বসিরহাট, ইটিল্ডা হয়ে লঞ্চ টাকীতে পৌঁছাত। বাদুড়িয়া, ইটিন্ডা, সাড়াপুল, চারঘাটের হাটগুলিতে প্রচুর লোক সমাগম হত। ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত এই পথ চালু ছিল কিন্তু পরবর্তী কালে যমুনা নদী মজে যাওয়ায় এবং ইতিমধ্যে সড়ক পরিবহণের উন্নতি ঘটায় এই লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়।