০৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার পুনর্মূল্যায়ন: কিভাবে টোকিও আরও বিপজ্জনক বিশ্বের সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে ইইউ ঋণ আটকে দিল হাঙ্গেরি, তেল সংকটে ইউক্রেন নিয়ে উত্তেজনা চরমে চীনের ভঙ্গুর ভবিষ্যত: সিপিপি কতটা নিরাপদ? ইউক্রেনকে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করল স্লোভাকিয়া, তেল পাইপলাইন ঘিরে উত্তেজনা আমির হামজার বিরুদ্ধে মোরাল পুলিশিংয়ের অভিযোগ, কী বলছেন কুষ্টিয়ার এই সংসদ সদস্য? চীনা পর্যটক টোকিও ছেড়ে সিউলে ছুটছেন: কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পানামা খালে হংকং কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ শেষ, দুই বন্দরের দায়িত্ব সরকারের হাতে ফ্রান্সে ডানপন্থী বিক্ষোভে উত্তেজনা, ছাত্র ন্যাশনালিস্টের মৃত্যুতে সাড়া ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত, ট্রাম্পের শুল্ক রদে প্রভাব হংকং’য়ে নতুন একাডেমি ও পেটেন্ট মূল্যায়ন সহায়তার মাধ্যমে আইপি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হবে

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২১৬)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৪
  • 106

শ্রী নিখিলনাথ রায়

তাঁহাদের অনুসন্ধানে সমস্ত বিষয় প্রকাশিত হইলে, এই অত্যাচার নিবারণের জন্য, ইংলণ্ডের তৎকালীন মন্ত্রী লর্ড নর্থের মন্ত্রিত্ব- কালে রাজ সংক্রান্ত নিয়ামক বিধি (Regulating Act) বিধিবদ্ধ হইয়া, বাঙ্গলার গব রকে ভারতবর্ষের গবর্ণর জেনারেল করা হয় ও তাঁহার সাহায্যের জন্য চারি জন সদস্য নিযুক্ত হন। তাঁহাদের অত্যাচার নিবা- রণ ও দেশের সুবিচারের জন্য সুপ্রীমকোর্ট স্থাপিত হইয়া, তাহাতে এক জন প্রধান বিচারপতি (Chief Justice) ও অপর তিন জন বিচারক নিযুক্ত হন। গবর্ণর জেনারেল, ও চারিজন সভ্যের মধ্যে বারওয়েল সাহেব পূর্ব্ব হইতেই এখানে ছিলেন।

অন্য তিন জন, -ক্লেভারিং, মন্সন ও ফ্রান্সিস এবং সুপ্রীমকোর্টের প্রধান জজ ইলাইজা ইম্পে, এবং চেম্বার্স’, হাইড ও লেমষ্টেয়ার নামে অপর জজত্রয় ১৭৭৪ খৃঃ অব্দের এপ্রেল মাসে ইংলণ্ড হইতে যাত্রা করিয়া ৯ শে অক্টোবর কলিকাতার চাঁদপাল ঘাটে আসিয়া উপস্থিত হন। তোপধ্বনি প্রভৃতিতে তাঁহাদিগকে যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করা হয়। এই নবাগতদিগের মধ্যে সদস্যগণের সহিত গবর্ণরের বিরোধ ও বিচারকদিগের সহিত তাঁহার বন্ধুত্ব স্থাপিত হইল। ইম্পে সাহেব হেষ্টিংস সাহেবের সহপাঠী-বন্ধু ছিলেন; এই জন্য বিচারক- দিগের সহিত তাঁহার বন্ধুত্ব সংস্থাপিত হইয়াছিল।

এইরূপ পক্ষাপক্ষে বাঙ্গলায় মহান্ অনর্থ উপস্থিত হয় এবং তাহা কোম্পানীর রাজত্বের গাঢ় কালিমা বলিয়া উল্লিখিত হইয়া থাকে। নবাগত সদস্যত্রয় দেশের শাসনকার্য্যের অনুসন্ধান করিতে আরম্ভ করিয়া, ক্রমাগত হেষ্টিংস সাহেবের উৎকোচগ্রহণ ও অত্যাচারের প্রমাণ পাইতে লাগিলেন। এই সময়ে নন্দকুমারের সহিত তাঁহাদের পরিচয় হওয়ার, তাঁহারা তাঁহাকে হেষ্টিংস সাহেবের সমস্ত দোষের তালিকা প্রদান করিতে অনুরোধ করেন। তজ্জন্ত তিনি হেষ্টিংসের দোষ সংপ্রমাণ করিতে আরম্ভ করিলেন।

সেই সময়ে বর্দ্ধমানের মৃত মহারাজ তিলক- চাঁদের পত্নী হেষ্টিংসের অত্যাচারের জন্য কাউন্সিলে অভিযোগ উপস্থিত করিয়াছিলেন। তাহার পর, নন্দকুমার প্রকান্তভাবে হেষ্টিংসের বিরুদ্ধে এক আবেদন পত্র প্রদান করেন। অব্দের ৮ই মার্চ তারিখে লিখিত হয়। উক্ত পত্র উপস্থাপিত করিয়াছিলেন। প্রবন্ধে তাহার আনুপূর্ব্বিক উল্লেখ তাহার মর্ম্ম প্রদান করিতেছি। উক্ত আবেদনপত্র ১৭৭৫ ১১ই তারিখে কাউন্সিলে ফ্রান্সিস পত্রখানি অত্যন্ত দীর্ঘ; বর্তমান করা দুঃসাধ্য। আমরা সংক্ষেপে এই সময়ে নন্দকুমারের পরম শত্রু বর্দ্ধমানের রেসিডেন্ট গ্রেহাম সাহে- বের সহিত হেষ্টিংসের পরামর্শ চলিতেছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার পুনর্মূল্যায়ন: কিভাবে টোকিও আরও বিপজ্জনক বিশ্বের সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২১৬)

১১:০০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

তাঁহাদের অনুসন্ধানে সমস্ত বিষয় প্রকাশিত হইলে, এই অত্যাচার নিবারণের জন্য, ইংলণ্ডের তৎকালীন মন্ত্রী লর্ড নর্থের মন্ত্রিত্ব- কালে রাজ সংক্রান্ত নিয়ামক বিধি (Regulating Act) বিধিবদ্ধ হইয়া, বাঙ্গলার গব রকে ভারতবর্ষের গবর্ণর জেনারেল করা হয় ও তাঁহার সাহায্যের জন্য চারি জন সদস্য নিযুক্ত হন। তাঁহাদের অত্যাচার নিবা- রণ ও দেশের সুবিচারের জন্য সুপ্রীমকোর্ট স্থাপিত হইয়া, তাহাতে এক জন প্রধান বিচারপতি (Chief Justice) ও অপর তিন জন বিচারক নিযুক্ত হন। গবর্ণর জেনারেল, ও চারিজন সভ্যের মধ্যে বারওয়েল সাহেব পূর্ব্ব হইতেই এখানে ছিলেন।

অন্য তিন জন, -ক্লেভারিং, মন্সন ও ফ্রান্সিস এবং সুপ্রীমকোর্টের প্রধান জজ ইলাইজা ইম্পে, এবং চেম্বার্স’, হাইড ও লেমষ্টেয়ার নামে অপর জজত্রয় ১৭৭৪ খৃঃ অব্দের এপ্রেল মাসে ইংলণ্ড হইতে যাত্রা করিয়া ৯ শে অক্টোবর কলিকাতার চাঁদপাল ঘাটে আসিয়া উপস্থিত হন। তোপধ্বনি প্রভৃতিতে তাঁহাদিগকে যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করা হয়। এই নবাগতদিগের মধ্যে সদস্যগণের সহিত গবর্ণরের বিরোধ ও বিচারকদিগের সহিত তাঁহার বন্ধুত্ব স্থাপিত হইল। ইম্পে সাহেব হেষ্টিংস সাহেবের সহপাঠী-বন্ধু ছিলেন; এই জন্য বিচারক- দিগের সহিত তাঁহার বন্ধুত্ব সংস্থাপিত হইয়াছিল।

এইরূপ পক্ষাপক্ষে বাঙ্গলায় মহান্ অনর্থ উপস্থিত হয় এবং তাহা কোম্পানীর রাজত্বের গাঢ় কালিমা বলিয়া উল্লিখিত হইয়া থাকে। নবাগত সদস্যত্রয় দেশের শাসনকার্য্যের অনুসন্ধান করিতে আরম্ভ করিয়া, ক্রমাগত হেষ্টিংস সাহেবের উৎকোচগ্রহণ ও অত্যাচারের প্রমাণ পাইতে লাগিলেন। এই সময়ে নন্দকুমারের সহিত তাঁহাদের পরিচয় হওয়ার, তাঁহারা তাঁহাকে হেষ্টিংস সাহেবের সমস্ত দোষের তালিকা প্রদান করিতে অনুরোধ করেন। তজ্জন্ত তিনি হেষ্টিংসের দোষ সংপ্রমাণ করিতে আরম্ভ করিলেন।

সেই সময়ে বর্দ্ধমানের মৃত মহারাজ তিলক- চাঁদের পত্নী হেষ্টিংসের অত্যাচারের জন্য কাউন্সিলে অভিযোগ উপস্থিত করিয়াছিলেন। তাহার পর, নন্দকুমার প্রকান্তভাবে হেষ্টিংসের বিরুদ্ধে এক আবেদন পত্র প্রদান করেন। অব্দের ৮ই মার্চ তারিখে লিখিত হয়। উক্ত পত্র উপস্থাপিত করিয়াছিলেন। প্রবন্ধে তাহার আনুপূর্ব্বিক উল্লেখ তাহার মর্ম্ম প্রদান করিতেছি। উক্ত আবেদনপত্র ১৭৭৫ ১১ই তারিখে কাউন্সিলে ফ্রান্সিস পত্রখানি অত্যন্ত দীর্ঘ; বর্তমান করা দুঃসাধ্য। আমরা সংক্ষেপে এই সময়ে নন্দকুমারের পরম শত্রু বর্দ্ধমানের রেসিডেন্ট গ্রেহাম সাহে- বের সহিত হেষ্টিংসের পরামর্শ চলিতেছিল।