০৭:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
সুদের ঝড়ের আগেই প্রস্তুতি: কেন এশিয়ার রিয়েল এস্টেট খাত এখন বেশি আত্মবিশ্বাসী গৃহকর্মীর প্রতি আপনার আচরণেই সন্তানের মানবিকতার পাঠ লেখা হয় ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষযাত্রা, তেহরানে তৃতীয় দিনেও লাখো মানুষের ঢল আপডেটে কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা কমাল বাজুস হাইলাইট: ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নেইমারের বিদায় ঘোষণায় ব্রাজিল ফুটবলে নতুন অধ্যায়, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে শেষ হলো জাতীয় দলের পথচলা ইংল্যান্ডের রুদ্ধশ্বাস জয়, মেক্সিকোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সাফল্যের প্রকৃত মানদণ্ড কি সম্পদ, নাকি জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলার ক্ষমতা? হালান্ড বনাম ভিনিসিয়ুস, বিশ্বকাপে ব্রাজিল-নরওয়ে মহারণে চোখ শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মাছের জিন গবেষণায় নতুন দিগন্ত, উন্নত চাষে বদলাচ্ছে জলজ খাদ্যের ভবিষ্যৎ

স্কটল্যান্ডের লুপ্তপ্রায় ক্যাপারকেলি পাখি রক্ষার নতুন পরিকল্পনা

  • Sarakhon Report
  • ০৭:০০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 122

জসলিন টিম্পারলি

স্কটল্যান্ডের একটি পুরনো পাইন বনের গভীরে গবেষক ও সংরক্ষণবিদ জ্যাক বাম্বার একটি চতুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। তিনি আশেপাশের শিকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হরিণের মাংসের একটি স্তূপ ফেলেছেন। এর উদ্দেশ্য একটাই – ক্যাপারকেলি পাখির ডিম ও ছানাগুলোকে শিকারীদের হাত থেকে রক্ষা করা।

ক্যাপারকেলি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রাউস প্রজাতির পাখি। পুরুষ পাখিদের সুন্দর পাখার পাখা মেলে ধরা এবং তাদের “লেক” (প্রজনন ঋতুতে পুরুষদের জমায়েত) তাদের জন্য বিখ্যাত। তবে তারা অত্যন্ত লাজুক এবং বিরক্তি একেবারেই পছন্দ করে না।

ক্যাপারকেলি পাখিদের রক্ষার জন্য সংরক্ষণবিদরা বহু বছর ধরে কাজ করছেন। তবুও, স্কটল্যান্ডে এই প্রজাতিটি ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। সর্বশেষ ২০২১-২২ সালের জরিপে জানা যায়, স্কটল্যান্ডে মাত্র ৫০০টির কিছু বেশি পাখি বেঁচে আছে।

নতুন উদ্যোগ: বিভ্রান্তিমূলক খাবার প্রদান

বাম্বারের গবেষণা “ডাইভারশনরি ফিডিং” কৌশল নিয়ে কাজ করছে। এর ধারণা হলো, ক্যাপারকেলি পাখি যেখানে বাস করে সেইসব এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ে শিকারীদের জন্য সহজ খাবার সরবরাহ করা। ফলে শিকারীরা পাখির ডিম ও ছানার পরিবর্তে সরবরাহকৃত খাবারের দিকে আকৃষ্ট হবে।

এই কৌশল শিকারীদের হত্যা না করেই পাখিদের সুরক্ষা দেয়। বিশেষত, স্কটল্যান্ডে পাইন মারটেন ও ব্যাজারের মতো প্রজাতি, যারা ক্যাপারকেলির শিকারী, তারাও সুরক্ষিত প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত।

বাম্বারের গবেষণা প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক ফলাফল দেখাচ্ছে। ক্যাপারকেলি পাখির বাসস্থান রক্ষা করতে এ ধরনের নতুন কৌশল আরও কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদের ভূমিকা

ক্যাপারকেলি সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক ক্যারোলিন রবার্টসন মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন। তিনি বলেন, “স্থানীয় কুকুর মালিকদের সচেতন করার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। এখন পাখিরা দীর্ঘ সময় ধরে ‘লেক’ করতে পারছে।”

স্কটল্যান্ডে মানুষের চলাচল এবং কুকুরের উপস্থিতি ক্যাপারকেলি পাখির জন্য বড় হুমকি। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের উপস্থিতি পাখির স্ট্রেস হরমোন বাড়ায় এবং তাদের আবাসস্থল এড়াতে বাধ্য করে।

সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ

ক্যাপারকেলি পাখিদের টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। ২০২৪ সালে একটি নতুন পরিকল্পনা চালু হয়েছে, যেখানে পাখিদের সুরক্ষায় খাদ্য সরবরাহ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং বন পুনরুদ্ধারের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাম্বারের গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে, কৌশলগত সময়ে শিকারীদের জন্য খাবার সরবরাহ ক্যাপারকেলি পাখির ডিম ও ছানার সুরক্ষায় কার্যকর। তবে এই পরিকল্পনার দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল জানা যাবে আরও কয়েক বছর পর।

সংরক্ষণবিদরা বিশ্বাস করেন, ক্যাপারকেলি রক্ষার চেষ্টাগুলো অন্যান্য প্রজাতির সংরক্ষণেও সহায়ক হবে।

রবার্টসন বলেন, “ক্যাপারকেলি আমাদের জন্য একটি প্রতীক। এটি শুধু একটি প্রজাতি নয়, এটি আমাদের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ।”

জনপ্রিয় সংবাদ

সুদের ঝড়ের আগেই প্রস্তুতি: কেন এশিয়ার রিয়েল এস্টেট খাত এখন বেশি আত্মবিশ্বাসী

স্কটল্যান্ডের লুপ্তপ্রায় ক্যাপারকেলি পাখি রক্ষার নতুন পরিকল্পনা

০৭:০০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪

জসলিন টিম্পারলি

স্কটল্যান্ডের একটি পুরনো পাইন বনের গভীরে গবেষক ও সংরক্ষণবিদ জ্যাক বাম্বার একটি চতুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। তিনি আশেপাশের শিকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হরিণের মাংসের একটি স্তূপ ফেলেছেন। এর উদ্দেশ্য একটাই – ক্যাপারকেলি পাখির ডিম ও ছানাগুলোকে শিকারীদের হাত থেকে রক্ষা করা।

ক্যাপারকেলি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রাউস প্রজাতির পাখি। পুরুষ পাখিদের সুন্দর পাখার পাখা মেলে ধরা এবং তাদের “লেক” (প্রজনন ঋতুতে পুরুষদের জমায়েত) তাদের জন্য বিখ্যাত। তবে তারা অত্যন্ত লাজুক এবং বিরক্তি একেবারেই পছন্দ করে না।

ক্যাপারকেলি পাখিদের রক্ষার জন্য সংরক্ষণবিদরা বহু বছর ধরে কাজ করছেন। তবুও, স্কটল্যান্ডে এই প্রজাতিটি ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। সর্বশেষ ২০২১-২২ সালের জরিপে জানা যায়, স্কটল্যান্ডে মাত্র ৫০০টির কিছু বেশি পাখি বেঁচে আছে।

নতুন উদ্যোগ: বিভ্রান্তিমূলক খাবার প্রদান

বাম্বারের গবেষণা “ডাইভারশনরি ফিডিং” কৌশল নিয়ে কাজ করছে। এর ধারণা হলো, ক্যাপারকেলি পাখি যেখানে বাস করে সেইসব এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ে শিকারীদের জন্য সহজ খাবার সরবরাহ করা। ফলে শিকারীরা পাখির ডিম ও ছানার পরিবর্তে সরবরাহকৃত খাবারের দিকে আকৃষ্ট হবে।

এই কৌশল শিকারীদের হত্যা না করেই পাখিদের সুরক্ষা দেয়। বিশেষত, স্কটল্যান্ডে পাইন মারটেন ও ব্যাজারের মতো প্রজাতি, যারা ক্যাপারকেলির শিকারী, তারাও সুরক্ষিত প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত।

বাম্বারের গবেষণা প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক ফলাফল দেখাচ্ছে। ক্যাপারকেলি পাখির বাসস্থান রক্ষা করতে এ ধরনের নতুন কৌশল আরও কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদের ভূমিকা

ক্যাপারকেলি সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক ক্যারোলিন রবার্টসন মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন। তিনি বলেন, “স্থানীয় কুকুর মালিকদের সচেতন করার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। এখন পাখিরা দীর্ঘ সময় ধরে ‘লেক’ করতে পারছে।”

স্কটল্যান্ডে মানুষের চলাচল এবং কুকুরের উপস্থিতি ক্যাপারকেলি পাখির জন্য বড় হুমকি। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের উপস্থিতি পাখির স্ট্রেস হরমোন বাড়ায় এবং তাদের আবাসস্থল এড়াতে বাধ্য করে।

সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ

ক্যাপারকেলি পাখিদের টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। ২০২৪ সালে একটি নতুন পরিকল্পনা চালু হয়েছে, যেখানে পাখিদের সুরক্ষায় খাদ্য সরবরাহ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং বন পুনরুদ্ধারের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাম্বারের গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে, কৌশলগত সময়ে শিকারীদের জন্য খাবার সরবরাহ ক্যাপারকেলি পাখির ডিম ও ছানার সুরক্ষায় কার্যকর। তবে এই পরিকল্পনার দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল জানা যাবে আরও কয়েক বছর পর।

সংরক্ষণবিদরা বিশ্বাস করেন, ক্যাপারকেলি রক্ষার চেষ্টাগুলো অন্যান্য প্রজাতির সংরক্ষণেও সহায়ক হবে।

রবার্টসন বলেন, “ক্যাপারকেলি আমাদের জন্য একটি প্রতীক। এটি শুধু একটি প্রজাতি নয়, এটি আমাদের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ।”