০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
বর্তমান প্রেক্ষাপটে হিলারি ক্লিনটনের কলাম: মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে পরিবার নিয়ে ভাবতে হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নতুন দৌড়: ভিডিও মডেলে এগিয়ে আলিবাবা, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উত্তাপ এআই-চালিত আয়ে শক্ত বার্তা দিল অ্যামাজন, চিপ ব্যবসাও ২০ বিলিয়ন ডলারের পথে সিডনির আলো-ছায়ায় রোজি হান্টিংটন-হোয়াইটলি, নতুন প্রচ্ছদে নজরকাড়া উপস্থিতি চার বছরের বিরতির পর মঞ্চে বিটিএস, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে শুরু বিশাল বিশ্ব সফর এআই চাহিদায় তেজি টিএসএমসি, প্রথম প্রান্তিকে আয় বেড়েছে ৩৫ শতাংশ ক্যাটসআই: পর্দার বাইরে গড়া এক উন্মাদনা, নতুন যুগের মেয়েদের দলে ভক্তির নতুন ভাষা হলিউডের ভাটা, বিশ্ব সিনেমার জোর—কান উৎসব ২০২৬-এ আর্টহাউস ঝলক এনভিডিয়ার বাইরে নতুন পথ? নিজস্ব এআই চিপ ভাবনায় অ্যানথ্রপিক চার রাজ্য, চার মুখ্যমন্ত্রী—২০২৬ সালের নির্বাচনে ‘মুখ’ই শেষ কথা

বাজারের লাইন থেকে ঘরের থালা

দেশে জীবনযাত্রার খরচ বাড়ছে, কিন্তু আয়ের গতি ততটা নয়। ফলে অনেক পরিবার আগের মতো বাজার করতে পারছে না। কেউ খাবারের মান কমাচ্ছেন, কেউ চিকিৎসা ও সন্তানের পড়াশোনার খরচ কেটে দিচ্ছেন। এই চাপে সবচেয়ে বেশি বিপদে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ।

মাঠের চিত্র: বাজারের লাইন থেকে ঘরের থালা
ভোরেই টিসিবির ট্রাকের সামনে লাইন পড়ে। কয়েক মিনিটেই চাল, ডাল, তেল শেষ। অনেকেই খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হন।
রিকশাচালক মাসুদ রানা বলেন, “আগে সপ্তাহে পাঁচ দিন মাছ খেতাম, এখন দুই দিনও কষ্টে পারি।”
বেসরকারি চাকরিজীবী সামিউল ইসলাম বলেন, “সব অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়েছি। তারপরও মাসশেষে ধার করতে হয়।”
পাওয়ারলুম কর্মী ওমর ফারুকের কথা, “পূর্ণ সময় কাজ করি, তবু সঞ্চয় করা যায় না। মাসের মাঝেই টান পড়ে।”
গার্মেন্টস কর্মী দারুল হুদা জানান, “বাচ্চার কোচিং বন্ধ করেছি। ঘরের ওষুধও হিসাব করে কিনি।”

সংখ্যা যা বলে
গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস ২০২৫ অনুযায়ী, তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীন মানুষের সংখ্যায় বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে জুলাইয়ে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি ৮.৫৫ শতাংশ, আর খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি ৭.৫৬ শতাংশ। টানা ৪২ মাস ধরে বাস্তব মজুরি কমছে—মানে, আয়ের বৃদ্ধি পণ্যের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। এতে মাসের বাজার, চিকিৎসা, ভাড়া—সবকিছুই কঠিন হয়ে উঠছে।

কেন বাড়ছে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা: সহজ ভাষায় চারটি কারণ
১) দ্রব্যমূল্য বেড়েছে: চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে।
২) আয় স্থির বা কমেছে: মজুরি বাড়লেও তা দামের গতিকে পায় না—ফলে হাতে থাকা টাকার প্রকৃত মূল্য কমে যায়।
৩) শহুরে ব্যয় বেশি: বাসাভাড়া, পরিবহন, চিকিৎসা—সব মিলে খরচ দ্রুত বাড়ে।
৪) সহায়তা পৌঁছায় না সবার কাছে: ভর্তুকি বা সামাজিক সুরক্ষার তালিকায় অনেক দরকারি পরিবার নেই, আবার অনেকে নিয়মিত সহায়তা পান না।

মানুষের জীবনে প্রভাব
পুষ্টি: অনেক পরিবার কম দামের কার্বোহাইড্রেটভিত্তিক খাবারে ঠেকছে; মাছ, ডিম, দুধ কমে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য: দীর্ঘদিন অপুষ্টি চললে শিশুদের বৃদ্ধি থেমে যেতে পারে, বড়দের কর্মক্ষমতা কমে।
শিক্ষা: কোচিং, বই, যাতায়াত—সবখানেই কাটছাঁট। স্কুলে অনুপস্থিতি বাড়ে।
মনস্তত্ত্ব: টানাপোড়েনে মানসিক চাপ বাড়ে; ঘরোয়া সহিংসতা ও ঝগড়া-বিবাদও বাড়তে পারে।

আরও কথা—মাঠ থেকে নীতির টেবিলে
একজন অর্থনীতিবিদ (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান—এই দুইটিতে একসঙ্গে হাত না দিলে দরিদ্রতা দ্রুত বাড়বে।”
একটি এনজিওর মাঠকর্মী জানান, “টিসিবির পণ্য নিয়মিত না থাকলে মানুষ বাজারে দ্বিগুণ দামে কিনতে বাধ্য হয়।”
একজন বাজার পরিদর্শক বলেন, “মজুদদারি ঠেকাতে নজরদারি শক্ত হতে হবে। না হলে উৎসবের আগে সবসময় দাম লাফ দেয়।”

জনপ্রিয় সংবাদ

বর্তমান প্রেক্ষাপটে হিলারি ক্লিনটনের কলাম: মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে পরিবার নিয়ে ভাবতে হবে

বাজারের লাইন থেকে ঘরের থালা

১১:৪১:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

দেশে জীবনযাত্রার খরচ বাড়ছে, কিন্তু আয়ের গতি ততটা নয়। ফলে অনেক পরিবার আগের মতো বাজার করতে পারছে না। কেউ খাবারের মান কমাচ্ছেন, কেউ চিকিৎসা ও সন্তানের পড়াশোনার খরচ কেটে দিচ্ছেন। এই চাপে সবচেয়ে বেশি বিপদে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ।

মাঠের চিত্র: বাজারের লাইন থেকে ঘরের থালা
ভোরেই টিসিবির ট্রাকের সামনে লাইন পড়ে। কয়েক মিনিটেই চাল, ডাল, তেল শেষ। অনেকেই খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হন।
রিকশাচালক মাসুদ রানা বলেন, “আগে সপ্তাহে পাঁচ দিন মাছ খেতাম, এখন দুই দিনও কষ্টে পারি।”
বেসরকারি চাকরিজীবী সামিউল ইসলাম বলেন, “সব অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়েছি। তারপরও মাসশেষে ধার করতে হয়।”
পাওয়ারলুম কর্মী ওমর ফারুকের কথা, “পূর্ণ সময় কাজ করি, তবু সঞ্চয় করা যায় না। মাসের মাঝেই টান পড়ে।”
গার্মেন্টস কর্মী দারুল হুদা জানান, “বাচ্চার কোচিং বন্ধ করেছি। ঘরের ওষুধও হিসাব করে কিনি।”

সংখ্যা যা বলে
গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস ২০২৫ অনুযায়ী, তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীন মানুষের সংখ্যায় বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে জুলাইয়ে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি ৮.৫৫ শতাংশ, আর খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি ৭.৫৬ শতাংশ। টানা ৪২ মাস ধরে বাস্তব মজুরি কমছে—মানে, আয়ের বৃদ্ধি পণ্যের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। এতে মাসের বাজার, চিকিৎসা, ভাড়া—সবকিছুই কঠিন হয়ে উঠছে।

কেন বাড়ছে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা: সহজ ভাষায় চারটি কারণ
১) দ্রব্যমূল্য বেড়েছে: চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে।
২) আয় স্থির বা কমেছে: মজুরি বাড়লেও তা দামের গতিকে পায় না—ফলে হাতে থাকা টাকার প্রকৃত মূল্য কমে যায়।
৩) শহুরে ব্যয় বেশি: বাসাভাড়া, পরিবহন, চিকিৎসা—সব মিলে খরচ দ্রুত বাড়ে।
৪) সহায়তা পৌঁছায় না সবার কাছে: ভর্তুকি বা সামাজিক সুরক্ষার তালিকায় অনেক দরকারি পরিবার নেই, আবার অনেকে নিয়মিত সহায়তা পান না।

মানুষের জীবনে প্রভাব
পুষ্টি: অনেক পরিবার কম দামের কার্বোহাইড্রেটভিত্তিক খাবারে ঠেকছে; মাছ, ডিম, দুধ কমে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য: দীর্ঘদিন অপুষ্টি চললে শিশুদের বৃদ্ধি থেমে যেতে পারে, বড়দের কর্মক্ষমতা কমে।
শিক্ষা: কোচিং, বই, যাতায়াত—সবখানেই কাটছাঁট। স্কুলে অনুপস্থিতি বাড়ে।
মনস্তত্ত্ব: টানাপোড়েনে মানসিক চাপ বাড়ে; ঘরোয়া সহিংসতা ও ঝগড়া-বিবাদও বাড়তে পারে।

আরও কথা—মাঠ থেকে নীতির টেবিলে
একজন অর্থনীতিবিদ (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান—এই দুইটিতে একসঙ্গে হাত না দিলে দরিদ্রতা দ্রুত বাড়বে।”
একটি এনজিওর মাঠকর্মী জানান, “টিসিবির পণ্য নিয়মিত না থাকলে মানুষ বাজারে দ্বিগুণ দামে কিনতে বাধ্য হয়।”
একজন বাজার পরিদর্শক বলেন, “মজুদদারি ঠেকাতে নজরদারি শক্ত হতে হবে। না হলে উৎসবের আগে সবসময় দাম লাফ দেয়।”