ভিন্ন ভিন্ন গতির প্রতি পছন্দ
হলিউড অভিনেতা গ্লেন পাওয়েল চান স্বাভাবিক ১x গতিতেই মানুষের কথা শুনতে। কিন্তু আমেরিকান কৌতুকশিল্পী বোয়েন ইয়াং মনে করেন, দ্রুত বর্ণনা বেশি আকর্ষণীয়—তার মতে ১.৮x হলো একেবারে নিখুঁত গতি। এ বছরের শুরুতে অডিওবুক প্ল্যাটফর্ম অডিবলের একটি বিজ্ঞাপনে এ দুই সেলিব্রিটি অংশ নেন, যেখানে প্রত্যেকে তাদের পছন্দের শ্রবণগতির কথা বলেন। বিজ্ঞাপনটি অনলাইনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করে। অনেকে অভিযোগ করেন, বিজ্ঞাপনটি দ্রুত শোনার অভ্যাসকে অস্বাভাবিক বা এমনকি ‘মনোবিকার’-এর সঙ্গে তুলনা করেছে। এক টিকটক ব্যবহারকারী বিদ্রূপ করে বলেন, “আমি আপনার সেই সমালোচনামূলক বিজ্ঞাপন ২x গতিতে শুনেছি।” কেউ কেউ এমনকি সাবস্ক্রিপশন বাতিলের হুমকিও দেন।
তরুণ প্রজন্মের দ্রুততার প্রতি আগ্রহ
এই বিতর্ক থেকে বোঝা যায় যে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম কীভাবে ডিজিটাল কনটেন্ট ভোগ করছে, তাতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ইকোনমিস্ট ও ইউগভের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে ৩১ শতাংশ মানুষ অডিও কনটেন্ট ১x-এর চেয়ে দ্রুত গতিতে শোনেন। কিন্তু ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে এ হার মাত্র ৮ শতাংশ।

প্রযুক্তি কোম্পানির নতুন সুযোগ
অ্যাপল ও স্পটিফাই ব্যবহারকারীদের পডকাস্ট দ্রুত শোনার অপশন দিচ্ছে। অনেক সংবাদপত্রও তাদের আর্টিকেলের অডিও সংস্করণে ভিন্ন গতি রাখছে। নেটফ্লিক্সে ভিডিও দ্রুত দেখার জন্য আলাদা বোতাম রয়েছে। ইউটিউবও একই সুবিধা দিচ্ছে এবং সম্প্রতি প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য ৪x পর্যন্ত গতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সময় সাশ্রয়ের হিসাব
ইউটিউব দাবি করছে, তাদের ফাস্ট-প্লেব্যাক ফিচারের কারণে ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন সম্মিলিতভাবে ৯০০ বছরের সমপরিমাণ সময় বাঁচাচ্ছেন। যেমন, যদি কেউ জেন অস্টেনের উপন্যাস “পারসুয়েশন” ১x গতিতে শোনেন, তবে সময় লাগবে আট ঘণ্টা ১৩ মিনিট। কিন্তু একই বই ১.৫x গতিতে শুনলে সময় কমে দাঁড়াবে মাত্র সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা। তখন সেই ফাঁকে জর্জ অরওয়েলের “অ্যানিমাল ফার্ম” (১২০ মিনিট) এবং “দ্য লিটল প্রিন্স” (৮০ মিনিট) শোনা সম্ভব।
বিজ্ঞানীরা কী বলছেন

কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির কগনিটিভ সায়েন্টিস্ট মার্কাস পিয়ার্স জানান, সাধারণত মানুষ প্রতি মিনিটে ১৫০টি শব্দ শুনে বোঝে, অথচ মস্তিষ্ক এর চেয়ে দ্রুত তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলুর এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা ভিন্ন গতিতে লেকচার দেখলেও ১.৫x পর্যন্ত তাদের শেখার মানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হয় না। তবে ২x বা তার বেশি হলে মনোযোগ ও পরীক্ষার ফলাফল কমতে থাকে।
শিল্পের দৃষ্টিকোণ
অডিও ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য এটি লাভজনক—কারণ যত বেশি বই বা এপিসোড গ্রাহক শেষ করবেন, তত বেশি আয় বাড়বে। তবে শ্রোতা বা দর্শকের অভিজ্ঞতা অনেকটাই বদলে যায়। অডিওবুক বর্ণনাকারী কিম্বারলি ওয়েদারেল বলেন, “একটি পাঠের গতি, স্বর ও বিরতির মধ্যে এক ধরনের শিল্প আছে। অতিরিক্ত দ্রুত করলে সেই শিল্প হারিয়ে যায়।” উদাহরণ হিসেবে ধরা যায় শেক্সপিয়ারের “হ্যামলেট”, যেখানে একক সংলাপগুলো ধীরে ও ছন্দময়ভাবে পরিবেশন করা হয়।
আজকের তরুণদের কাছে প্রশ্নটা প্রায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে—“দ্রুত শুনবো কি না?” বরং এখনকার বাস্তবতায়, ডিজিটাল কনটেন্টে সময় সাশ্রয়ের জন্য ২x বা তার বেশি গতির ব্যবহারই হয়ে উঠছে সাধারণ অভ্যাস।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















